বৃহস্পতিবার | নভেম্বর ১৪, ২০১৯ | ২৯ কার্তিক ১৪২৬

আন্তর্জাতিক ব্যবসা

কিউএনবির পর্যালোচনা

বাণিজ্যযুদ্ধে নাকাল বৈশ্বিক জিডিপি

বণিক বার্তা ডেস্ক

চলমান চীন-মার্কিন বাণিজ্যযুদ্ধ বিশ্ব অর্থনীতি নিজেদের কব্জায় রাখার একটি প্রতিযোগিতা। যুগে যুগে বিশ্বশক্তিগুলোর মধ্যে এ রকম প্রতিযোগিতা একটি সাধারণ ঘটনা। কাতার ন্যাশনাল ব্যাংকের (কিউএনবি) সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে চলমান মার্কিন-চীন-ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) বাণিজ্যযুদ্ধ ও বাকি বিশ্বের অর্থনৈতিক চিত্রকে গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হয়েছে।

চলমান বাণিজ্যযুদ্ধের ক্ষয়ক্ষতি থেকে নিজেদের অর্থনীতি বাঁচাতে সুদহার কমানোসহ বিভিন্ন পদক্ষেপ নেয়া সত্ত্বে এ যুদ্ধের ফলে বড় মাশুল গুনতে হচ্ছে মার্কিন অর্থনীতিকে। এদিকে ২০১৮ সালে ফেডারেল রিজার্ভ (ফেড) সুদহার বাড়ায়, আর ওই বছরের শেষ থেকে শুরু হয় বিশ্ব অর্থনীতির দুই পরাশক্তির মধ্যে বাণিজ্যযুদ্ধ। বাণিজ্যযুদ্ধ শুরুর পর ফেডের কয়েক দফা সুদহার কমানো দেশটির অর্থনীতিতে প্রত্যাশিত সুফল বয়ে আনতে পারেনি বলে উল্লেখ করা হয়েছে কিউএনবির প্রতিবেদনে। বরং বাণিজ্যযুদ্ধের মাধ্যমে খাল কেটে কুমির আনতে শুরু করেছে দেশটি।

নিজেদের অর্থনীতির আধিপত্য বজায় রাখতে শুরু করা বাণিজ্যযুদ্ধই উল্টো আঘাত করা শুরু করেছে যুক্তরাষ্ট্রকে। এ যুদ্ধ শুরুর পর থেকে দেশটির মোট দেশজ উৎপাদন (জিডিপি) প্রবৃদ্ধি কমতে শুরু করেছে। বিভিন্ন দেশের পণ্যে দেশটির আরোপিত উচ্চ শুল্ক যত দীর্ঘদিন বলবৎ থাকবে, দেশটির জিডিপির প্রবৃদ্ধি তত বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবে। চলমান বাণিজ্যযুদ্ধের ফলে দেশটির ভোক্তারা সবচেয়ে বেশি ভুক্তভোগী হবে বলে জানিয়েছে কিউএনবি প্রতিবেদন। কিউএনবি প্রতিবেদন বলছে, আগামী বছর অনুষ্ঠেয় মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের সম্ভাব্য সব প্রার্থীরা এখন পর্যন্ত চীনের সঙ্গে বাণিজ্যযুদ্ধকে সমর্থন করছেন। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্র এরই মধ্যে যে পরিমাণ শুল্ক আরোপ করেছে বা আগামীতে করার পরিকল্পনা করছে, তাতে দেশটির অর্থনীতির ভবিষ্যৎ কোথায় গিয়ে ঠেকবে তা ভাবার বিষয়। বাণিজ্যযুদ্ধ শুরুর পর অনিচ্ছা সত্ত্বেও এরই মধ্যে ফেডকে কয়েকবার সুদহার কমাতে হয়েছে। চলতি বছর অন্তত আরো একবার এবং ২০২০ সালেও ফেডকে সুদহার কমাতে হবে বলে জানিয়েছে কিউএনবি।

চলমান বাণিজ্যযুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের চেয়ে সরাসরি বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে চীন। চীনের রফতানিভিত্তিক প্রবৃদ্ধি মডেল চলমান বাণিজ্যযুদ্ধের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার বিভিন্ন চিহ্ন স্পষ্ট হতে শুরু করেছে। অথচ এ মডেলে ভর করেই ২০০৯ সালে বৈশ্বিক আর্থিক সংকট (জিএফসি) শুরুর আগে পাঁচ বছরে দেশটি একটি শক্তিশালী প্রবৃদ্ধি নিশ্চিত করতে সক্ষম হয়। ওই সময় দেশটিতে ব্যাপক নগরায়ণ হয়, বিশেষত গ্রাম ছেড়ে শহরে চলে আসে বিশালসংখ্যক মানুষ বা শ্রমশক্তি। একই সময় আগের যেকোনো সময়ে তুলনায় দেশটির ম্যানুফ্যাকচারিং খাত কৃষিকে পেছনে ফেলে অনেক দূর এগিয়ে যায়। এ সময়ই দেশটি বিশ্বের কারখানা বা ওয়ার্কশপে পরিণত হয়।

চলমান বাণিজ্যযুদ্ধসহ ডেমোগ্রাফিক পরিবর্তন ও অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক পালাবদলের কারণে ইউরোপের অপেক্ষাকৃত স্থিতিশীল অর্থনীতিগুলোকে বেশ বেগ পেতে হচ্ছে। বিশেষত বিশালসংখ্যক প্রবীণ নাগরিক ও ব্রেক্সিটের কারণে ওই অঞ্চলের দেশগুলো বিভিন্ন অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জের মুখে রয়েছে। অভ্যন্তরীণ সমস্যার কারণে সেখানকার জিডিপির প্রবৃদ্ধি ও মূল্যস্ফীতি উভয় শ্লথ হয়ে পড়েছে। ২০১০ সালের পর ইউরোজোনে বার্ষিক গড় জিডিপি প্রবৃদ্ধি ও সিপিআই মূল্যস্ফীতি হয়েছে ১ দশমিক ৪ শতাংশ করে। সূত্র: গালফ-টাইমস

এই বিভাগের আরও খবর

আরও পড়ুন