সোমবার | নভেম্বর ১৮, ২০১৯ | ৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৬

কমনরুম

যুক্তরাজ্যে উচ্চশিক্ষা

সুযোগ বাড়ছে বিদেশী শিক্ষার্থীদের

ফাহমিদা তাপসী

উচ্চ মাধ্যমিকের গণ্ডি পার না করতেই শিক্ষার্থীর মাথায় ভর করে থাকা চিন্তা হচ্ছে কোথায় ভর্তি হবে। মূলত এ সময়ে অনেকেই সিদ্ধান্ত নিয়ে থাকেন বিদেশ বিভুঁইয়ের কোনো বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়বেন। সেদিক থেকে পছন্দের শীর্ষে থাকে যুক্তরাজ্যের বিশ্ববিদ্যালয়গুলো। দীর্ঘ সাত বছর বন্ধ থাকার পর সম্প্রতি যুক্তরাজ্য আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের জন্য দুই বছরের কাজের অনুমতি দিয়েছে। যুক্তরাজ্যে পড়াশোনা, কাজের সুযোগ এবং পড়াশোনার খরচ সম্পর্কিত বিভিন্ন বিষয় নিয়ে কথা বলেছে বিদেশে উচ্চশিক্ষাবিষয়ক পরামর্শ প্রদানকারী বাংলাদেশী সংস্থা মেইসেস।

উচ্চশিক্ষার জন্য উন্নত বিশ্বের বিভিন্ন দেশে পাড়ি দেয়া শিক্ষার্থীর সংখ্যা নেহায়েত কম নয় এ দেশে। অধিকাংশ ক্ষেত্রে শিক্ষার্থীদের পছন্দের তালিকায় জায়গা করে নেয় যুক্তরাজ্যের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়। কিন্তু দেশটির যেকোনো বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনার কথা বলা হলেই উঠে আসে বিশাল অংকের খরচের কথা। অন্যদিকে ২০১২ সালে তত্কালীন ব্রিটিশ স্বরাষ্ট্র সচিব টেরিসা মে আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের জন্য চালু থাকা দুই বছরের কাজের অনুমতি কমিয়ে ছয় মাসে নিয়ে আসা হয়। অর্থাৎ বাংলাদেশী কোনো শিক্ষার্থী সে দেশে পড়াশোনা শেষ করার পর মাত্র ছয় মাস কাজের অনুমতি পেতেন। যার কারণে সেখানে পড়তে যাওয়া আর্থিকভাবে কিংবা কাজের অভিজ্ঞতার দিক থেকে শিক্ষার্থীদের জন্য খুব একটা ফলপ্রসূ হতো না। সম্প্রতি যুক্তরাজ্য সে সিদ্ধান্ত বদলেছে। ফলে আবার আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীরা পড়াশোনা শেষে দুই বছর সে দেশে থাকা তথা কাজের সুযোগ পাবেন।


বিদেশী শিক্ষার্থীদের জন্য বছর সাতেক আগে যুক্তরাজ্যের করা নতুন নিয়মের কারণে অনেক শিক্ষার্থীই আগ্রহ হারিয়েছিলেন সেখানে পড়তে যাওয়ার বিষয়ে। কেননা যুক্তরাজ্যে পড়াশোনা, জীবনযাপন সবকিছুই বেশ ব্যয়সাপেক্ষ; ফলে পড়াশোনা শেষে যথেষ্ট সময় সেখানে না থাকতে পারা এমনকি ব্যবহারিক জ্ঞান অর্জন তথা কাজের সুযোগ সীমিত করে দেয়ার কারণে শিক্ষার্থীদের জন্য দেশটিতে পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়া কঠিন ছিল। যেহেতু নিয়মে পরিবর্তন আনা হয়েছে, তাই ২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থীরা সে সুযোগ পাবেন বলেই আশা করছেন বিদেশে উচ্চশিক্ষা বিষয়ক পরামর্শ প্রদানকারী সংস্থা মেইসেসের প্রতিষ্ঠাতা সদস্য টিনা সালেম মঞ্জুর। তার মতে, যেহেতু খুব সম্প্রতি এ ঘোষণা দেয়া হয়েছে যুক্তরাজ্যের পক্ষ থেকে, সেহেতু আসছে বছরের সেপ্টেম্বর থেকে শিক্ষার্থীরা এ সুযোগ পাবেন। অন্যদিকে যারা এর আগে অর্থাৎ ২০২০ সালের জানুয়ারিতে পড়তে যাবেন, তাদের বিষয়ে সিদ্ধান্ত কী হবে, সেটা এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়নি।


যদিও যুক্তরাজ্যে পড়তে যাওয়া মানেই খরচের পাহাড়, সেসব মানতে নারাজ বাংলাদেশী শিক্ষার্থীদের বিদেশে পড়তে যাওয়ার ক্ষেত্রে শিক্ষা পরামর্শ প্রদানকারী সংস্থাগুলো। তাদের তথ্য অনুযায়ী শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত সঠিক উপায় অবলম্বন করলে বাড়তি খরচ কেটে ফেলা সম্ভব। এমনকি দেশের যেকোনো বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনার খরচের সমানুপাতিক খরচ হবে বলেও বলছেন তারা। এ প্রসঙ্গে টিনা সালেম মঞ্জুর বলেন, অনেকেই মনে করে থাকেন আমেরিকা, কানাডা থেকে যুক্তরাজ্যে পড়াশোনার খরচ খানিকটা বেশি। কিন্তু একটা সহজ হিসাব হচ্ছে যুক্তরাজ্যে গ্র্যাজুয়েশন বা স্নাতক ডিগ্রি সম্পন্ন করতে তিন বছর লাগে, যেখানে অন্যান্য দেশে চার বছর সময় নেয়। সেদিক থেকে কিন্তু এক বছরের খরচ আপনাতেই কমে যাচ্ছে। অন্যদিকে যুক্তরাজ্যের অধিকাংশ রাজ্যেই কিন্তু থাকার খরচ অনেক কম। বলা যায় লন্ডন ব্যতীত অন্যান্য রাজ্যে থাকলে খরচ কম হবে।

অন্যদিকে যুক্তরাজ্যে পড়াশোনা শেষে দুই বছরের কাজের অভিজ্ঞতা শিক্ষার্থীকে নিঃসন্দেহে খানিকটা এগিয়ে যেতে সাহায্য করবে বলেই মন্তব্য করেন মেইসেসের ব্যবস্থাপনা অংশীদার রোহাম মঞ্জুর। তিনি বলেন, একজন শিক্ষার্থী পড়াশোনা শেষে সংশ্লিষ্ট বিষয়ের ওপর যখন কাজ করে, তখন তার ব্যবহারিক জ্ঞান তৈরি হয় এবং সে আরো সমৃদ্ধ হয়। যখন বাইরের দেশ থেকে কোনো ছেলে-মেয়ে পড়াশোনা শেষে সেখানে দুই বছরের কাজের অভিজ্ঞতা অর্জন করে দেশে ফেরে, তখন সে সমসাময়িক অন্যদের তুলনায় এগিয়ে থাকে কিছুটা হলেও। যেহেতু তার আন্তর্জাতিক কাজের অভিজ্ঞতা থাকে, ফলে সে পেশাদার হিসেবে কর্মক্ষেত্রে আরো ভালো করে থাকে। যা শুধু সে শিক্ষার্থীর জন্যই ভালো, তা নয় বরং দেশের জন্যও ভালো।

উল্লেখ্য, ২০০৭ সাল থেকে মেইসেস বাংলাদেশী শিক্ষার্থীদের বিদেশে উচ্চশিক্ষাবিষয়ক পরামর্শ প্রদানকারী সংস্থা হিসেবে কাজ করে আসছে। শুরুতে যুক্তরাজ্যের একটিমাত্র বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে মিলে কাজ করত। এরপর মাত্র ছয় মাসের ব্যবধানে শিক্ষার্থীদের যুক্তরাজ্যে পাঠানোর বিভিন্ন কার্যক্রমে স্বচ্ছতার প্রমাণ রাখার কারণেই বেশকিছু বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে একত্র হয়ে কাজের সুযোগ মেলে। এমনকি ব্রিটিশ হাইকমিশনের অনুমোদিত অংশীদার হিসেবেও কাজের সুযোগ পায়। বলে রাখা ভালো, বর্তমানে যুক্তরাজ্যের রাসেল গ্রুপের বার্মিংহাম বিশ্ববিদ্যালয়, গ্ল্যাসগো বিশ্ববিদ্যালয়, লিভারপুল বিশ্ববিদ্যালয়, নটিংহাম বিশ্ববিদ্যালয়, লন্ডনের কুইন মেরি বিশ্ববিদ্যালয়, কুইন্স ইউনিভার্সিটি বেলফাস্ট, কভেন্ট্রি বিশ্ববিদ্যালয়সহ যুক্তরাজ্যের পঞ্চাশের বেশি বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে মিলে কাজ করছে তারা।

এই বিভাগের আরও খবর

আরও পড়ুন