রবিবার | নভেম্বর ১৭, ২০১৯ | ৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৬

পণ্যবাজার

পুরনো এলসির পচা পেঁয়াজ নিয়ে বিপাকে আমদানিকারকরা

বণিক বার্তা প্রতিনিধি হিলি ও সাতক্ষীরা

ভারত থেকে পুরনো এলসির বিপরীতে আসা পেঁয়াজের বড় একটি অংশ পচে গেছে। এছাড়া টানা কয়েকদিন ট্রাকে আটকে থাকার ফলে মান নষ্ট হওয়ায় অবশিষ্ট পেঁয়াজেরও ক্রেতা মিলছে না। ফলে পচা পেঁয়াজ ও অবিক্রীত পেঁয়াজ নিয়ে বিপাকে পড়েছেন আমদানিকারকরা।

ভারত সরকার পেঁয়াজ রফতানি বন্ধ ঘোষণার পর দিনাজপুরের হিলি স্থলবন্দর এবং সাতক্ষীরার ভোমরা স্থলবন্দরের ওপারে ১৭০ ট্রাকের মতো পেঁয়াজ আটকা পড়ে। কয়েকদিন ধরে এসব পেঁয়াজ রফতানি করতে আমদানিকারকদের পক্ষ থেকে চাপ প্রয়োগ করা হয়। যার পরিপ্রেক্ষিতে শুক্রবার থেকে হিলি এবং শনিবার থেকে ভোমরা স্থলবন্দর দিয়ে এসব ট্রাক বাংলাদেশে প্রবেশ শুরু করে। কিন্তু টানা কয়েকদিন ট্রাকে থাকার ফলে এসব পেঁয়াজের বড় একটি অংশ পচে গেছে। এছাড়া অবশিষ্ট অংশ নিম্নমানের হওয়ায় বিক্রি করতে না পেরে অনেকে তা সড়কে ফেলে দিচ্ছেন। 

হিলি স্থলবন্দর কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, চারদিন বন্ধের পর শুক্রবার দুপুর সাড়ে ১২টায় ভারত থেকে পুরনো এলসির বিপরীতে ৫৭টি ট্রাকে প্রায় ৯৪৬ টন পেঁয়াজ আমদানি হয়েছে। কিন্তু এসব পেঁয়াজের বড় একটি অংশ নষ্ট হয়ে গেছে বলে জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা। প্রাথমিকভাবে বাছাইয়ের পর নিম্নমানের যেসব পেঁয়াজ পাওয়া গেছে, সেগুলোও বিক্রি করতে হিমশিম খেতে হচ্ছে আমদানিকারকদের।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, শুক্রবার হিলিতে আমদানীকৃত কিছু পেঁয়াজ পাইকারিতে প্রকারভেদে প্রতি কেজি ৪৮ টাকা থেকে ৫৫ টাকায় বিক্রি হয়। কিন্তু গতকাল দাম কমে ৩৫ থেকে ৪৫ টাকায় হলেও ক্রেতা মিলেনি। আমদানিকারকরা বলছেন, পেঁয়াজের মান খারাপ হওয়ায় তা কিনতে আগ্রহী হচ্ছেন না পাইকারি ব্যবসায়ীরা।

হিলি স্থলবন্দরে পেঁয়াজ কিনতে আসা পাইকারি ব্যবসায়ী শরিফুল ইসলাম ও সাজ্জাদ হোসেন জানান, কয়েকদিন বন্ধ থাকার পর শুক্রবার থেকে আবার হিলি স্থলবন্দর দিয়ে ভারত থেকে পেঁয়াজ আমদানি হয়েছে। কিন্তু পেঁয়াজের মান বেশ খারাপ। অনেক পেঁয়াজ দিয়ে পানি বেরোচ্ছে। তবে আগের চেয়ে পেঁয়াজের অনেক দাম কম, যার কারণে পেঁয়াজ কিনতেও সুবিধা হচ্ছে। আমদানি বন্ধ থাকায় ৭০ থেকে ৮০ টাকা হলেও এখন মানভেদে প্রতি কেজি পেঁয়াজ ৩০ থেকে ৪০ টাকায় পাওয়া যাচ্ছে। 

হিলি স্থলবন্দর আমদানি-রফতানিকারক গ্রুপের সভাপতি হারুন উর রশীদ হারুন বণিক বার্তাকে বলেন, ভারত পেঁয়াজ রফতানিতে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করায় গত রোববার বিকাল থেকে বন্দর দিয়ে পেঁয়াজ আমদানি বন্ধ হয়ে যায়। এতে করে ভারতের ভেতরে ৬৫-৭০টি ট্রাকে দেড় হাজার টনের মতো পেঁয়াজ আটকা পড়ে। এ নিয়ে কয়েক দফা বৈঠকের পর শুক্রবার থেকে পুরনো এলসির বিপরীতে পেঁয়াজ আসা শুরু করে। হিলি স্থলবন্দরের পাশাপাশি দেশের অন্যান্য স্থলবন্দর দিয়ে আমদানি শুরু হওয়ায় বাজারে পেঁয়াজের দাম কমেছে। বাজারে এখন পর্যাপ্ত সরবরাহ থাকায় দাম আর বাড়বে না বলে মনে করেন তিনি।

হিলি স্থলবন্দরের পেঁয়াজ আমদানিকারক বাবলুর রহমান বণিক বার্তাকে বলেন, পেঁয়াজ রফতানি বন্ধ থাকায় সে সময় যেমন বিপাকে পড়েছিলাম, এখন আটকে থাকা পেঁয়াজ আমদানি করে আরো বিপদে আছি। কয়েকদিন ধরে ট্রাকে ত্রিপল দিয়ে পেঁয়াজগুলো আটকে থাকার কারণে গরমে অনেক পেঁয়াজ নষ্ট হয়ে গেছে। অনেক পেঁয়াজের গাড়ি দিয়ে পানি ঝরছে। এমনকি পেঁয়াজ পচে দুর্গন্ধ বেরোচ্ছে। বন্দরে যেসব পেঁয়াজ এসেছে, তার মধ্যে অধিকাংশ পচে নষ্ট হয়ে গেছে। যার কারণে ক্রেতাও পাওয়া যাচ্ছে না। তাই বন্দর থেকে এসব পেঁয়াজ নিজ গুদামে নিয়ে বাছাইয়ের পর বিক্রি করতে হচ্ছে। একসঙ্গে বেশি পরিমাণ পেঁয়াজ প্রবেশ করায় দাম কমে আমদানিকারকদের লোকসান গুনতে হবে বলে জানান তিনি।

এদিকে সাতক্ষীরার ভোমরা স্থলবন্দরে গতকাল সন্ধ্যা পর্যন্ত ৩০ ট্রাক পেঁয়াজ এসেছে। কিন্তু হিলির মতো এখানেও প্রতিটি ট্রাকের উল্লেখযোগ্য একটি পরিমাণ পেঁয়াজ পচে নষ্ট হয়ে গেছে।

ভোমরা সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক মোস্তাফিজুর রহমান নাসিম বণিক বার্তাকে বলেন, রফতানি বন্ধ ঘোষণার পর ভারতে প্রায় ১০০ ট্রাক পেঁয়াজ আটকা পড়ে। উভয় দেশের মধ্যে আলোচনা সাপেক্ষে শনিবার দুপুর থেকে আটকা পড়া ট্রাক আসতে শুরু করে। কিন্তু এসব ট্রাকের অধিকাংশ পেঁয়াজ নষ্ট। প্রতি বস্তার প্রায় অর্ধেক পেঁয়াজ পচে গেছে। এমনকি প্রাথমিক বাছাইয়ের পর অবশিষ্ট পেঁয়াজেরও উল্লেখযোগ্য পরিমাণ নষ্ট হয়ে গেছে। সেই হিসাবে বলা যায়, প্রায় প্রতি বস্তার ৬০ থেকে ৭০ ভাগ পেঁয়াজ নষ্ট হয়ে গেছে।

এই বিভাগের আরও খবর

আরও পড়ুন