সোমবার | নভেম্বর ১৮, ২০১৯ | ৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৬

শিল্প বাণিজ্য

বেনাপোল স্থলবন্দর

৪৭ বছরেও হয়নি বিএসটিআই বিসিএসআইআরের শাখা

বণিক বার্তা প্রতিনিধি যশোর

 দেশের সর্ববৃহৎ স্থলবন্দর বেনাপোলের যাত্রা হয় ৪৭ বছর আগে পথচলার প্রায় পাঁচ দশক হতে চললেও বন্দরটিতে এখনো প্রয়োজনীয় অবকাঠামো গড়ে ওঠেনি বিশেষ করে বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্স অ্যান্ড টেস্টিং ইন্সটিটিউশন (বিএসটিআই) বাংলাদেশ বিজ্ঞান শিল্প গবেষণা পরিষদের (বিসিএসআইআর) কোনো শাখা না থাকায় এখানে খাদ্যদ্রব্যসহ অনেক পণ্যই পরীক্ষা করা সম্ভব হয় না ফলে দুর্ভোগের পাশাপাশি আর্থিক ক্ষতির শিকার হন বন্দর ব্যবহারকারী ব্যবসায়ীরা তবে বন্দর কর্তৃপক্ষ বলছে, সীমিত পর্যায়ে কিছু পণ্যের পরীক্ষণ শুরু হয়েছে এখানে

জানা গেছে, বিদেশ থেকে আমদানি পণ্য বন্দরে খালাসের আগে পরীক্ষণ বাধ্যতামূলক বেনাপোল বন্দর দিয়ে বছরে বিভিন্ন ধরনের সাড়ে তিন শতাধিক পণ্য আমদানি হয়, যার মধ্যে খাদ্যের কাঁচামাল, কসমেটিকস শিল্প-কারখানার কেমিক্যালজাতীয় ৫৫টি পণ্য পরীক্ষণ সার্টিফিকেট ছাড়া খালাস করা যায় না অথচ পরীক্ষণের কোনো ব্যবস্থা নেই বেনাপোলে

বন্দর ব্যবহারকারী ব্যবসায়ীরা জানান, খাদ্যদ্রব্যের কাঁচামাল, কসমেটিকসসহ কয়েকটি পণ্যের নমুনা বন্দরের বাইরে থেকে পরীক্ষা করিয়ে আনতে হয় পরীক্ষণের প্রতিবেদন আসতে কখনো কখনো এক মাসেরও বেশি সময় লেগে যায় এতে একদিকে ব্যবসায়ীরা আর্থিক ক্ষতির শিকার হন, অন্যদিকে বন্দরে লম্বা সময় চালান আটকে থাকায় পণ্যের গুণগত মানও নষ্ট হয় উদ্ভূত পরিস্থিতিতে বেনাপোল স্থলবন্দরে পণ্য পরীক্ষণের নিজস্ব ব্যবস্থার দাবি জানিয়েছেন তারা

আমদানিকারক রেজোয়ান আহমেদ বলেন, বন্দরে পণ্য পরীক্ষণের ব্যবস্থা না থাকায় খুলনা বা ঢাকা থেকে নমুনা পরীক্ষা করাতে ১৫ থেকে ২০ দিন আবার কখনো এক মাসের বেশি সময় লেগে যায় ভারত থেকে যেসব পণ্য বেনাপোল বন্দরের মাধ্যমে আমদানি হয়, তার বড় একটি অংশ খাদ্যদ্রব্য আর শিশুখাদ্য পরীক্ষণে অনেক বেশি সময় লাগায় দীর্ঘদিন ধরে এসব পণ্য বন্দরে পড়ে থাকে এতে অনেক সময় পণ্যমানও নষ্ট হয়ে যায় পাশাপাশি আমদানি পণ্য বন্দর শেডে বা ট্রাকে রেখে মোটা অংকের আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হতে হয় ব্যবসায়ীদের

বন্দরে পরীক্ষণ ব্যবস্থা না থাকাকে বড় সমস্যা উল্লেখ করে বেনাপোল সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মফিজুর রহমান সজন বলেন, একটি পণ্য আমদানি করতে এলসিসহ ধাপে ধাপে বিভিন্ন খরচ আছে পরীক্ষণ সমস্যায় লম্বা সময় পণ্যের চালান আটকে থাকলে বাড়তি সব খরচ ব্যবসায়ীদের বহন করতে হয় এছাড়া সময়মতো কাঁচামাল কারখানায় না পৌঁছলে ব্যাহত হয় উৎপাদন কার্যক্রম

ভারত-বাংলাদেশ চেম্বার অব কমার্সের ল্যান্ডপোর্ট সাব কমিটির চেয়ারম্যান মতিয়ার রহমান বলেন, পরীক্ষা করাতে হয় এমন অনেক পণ্য ভারতের পেট্রাপোল বন্দর দিয়ে আমদানি করা হয় কিন্তু ওপারে চার থেকে পাঁচদিনের মধ্যে পণ্যের প্রতিবেদন -মেইলের মাধ্যমে পাওয়া যায় কিন্তু আমাদের দুর্ভাগ্য বেনাপোল বন্দরে সুবিধা নেই চট্টগ্রাম বন্দরে ৫৫টি পণ্যের বাইরে যদি কোনো খাদ্যদ্রব্য আমদানি হয়, তবে মানুষের খাবারের উপযোগী এমন সার্টিফিকেট দিলে ওই পণ্য পুনরায় আর পরীক্ষার প্রয়োজন হয় না বেনাপোলেও অনুরূপ সুবিধা দেয়ার জন্য জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের দিকনির্দেশনার বিষয়ে আলোচনা করা যেতে পারে

বেনাপোল কাস্টমস কমিশনার মোহাম্মদ বেলাল হোসাইন চৌধুরী বলেন, চট্টগ্রাম বন্দরে বিএসটিআই বিসিএসআইআরের শাখা আছে কিন্তু বেনাপোলে সুবিধা না থাকায় ব্যবসায়ীরা আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন এতে শিল্প-কারখানায় উৎপাদন ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে ভোক্তার ওপর বেনাপোল বন্দর কাস্টমস হাউজে স্বল্প পরিসরে বিএসটিআইয়ের একটি শাখা চালু হয়েছে আর বিসিএসআইআরসহ অন্য প্রতিষ্ঠানগুলোর শাখাও যাতে শিগগিরই স্থাপন হয়, সেজন্য লিখিতভাবে জানানো হয়েছে

বন্দর সূত্রে জানা যায়, যোগাযোগ ব্যবস্থা সহজ হওয়ায় দেশের স্থলপথে যে পণ্য আমদানি হয়, তার ৭০ শতাংশ আসে বেনাপোল দিয়ে পথে বছরে প্রায় ৪৫ হাজার কোটি টাকার বাণিজ্য হয়, যা থেকে সরকারি কোষাগারে বছরে প্রায় হাজার কোটি টাকার রাজস্ব জমা হয় তবে ছয় বছর ধরে বন্দরটি থেকে রাজস্ব আহরণ প্রবৃৃদ্ধিতে নেতিবাচক প্রবণতা লক্ষ করা যাচ্ছে

বেনাপোল কাস্টমস অফিস সূত্রে জানা গেছে, ২০১৮-১৯ অর্থবছরে সংশোধিত রাজস্ব আহরণের লক্ষ্যমাত্রা ছিল হাজার ১৮৫ কোটি টাকা, সেখানে আহরণ হয়েছে হাজার ৪০ কোটি টাকা অর্থাৎ রাজস্ব ঘাটতি হাজার ১৪৫ কোটি টাকা ২০১৭-১৮ অর্থবছর রাজস্ব ঘাটতির পরিমাণ ১৭৯ কোটি ৬৪ লাখ টাকা পরের অর্থবছর অবশ্য রাজস্ব আহরণ হয় লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ৪৫ কোটি ৪০ লাখ টাকা বেশি এছাড়া ২০১৫-১৬ অর্থবছরে লক্ষ্যমাত্রা শেষ মুহূর্তে কমিয়ে হাজার ৮৫০ কোটি টাকা নির্ধারণ করায় ওই বছর হাজার ৯৪০ কোটি টাকা আহরণ করে বছর শেষে রাজস্ব উদ্বৃত্ত দেখানো সম্ভব হয় এভাবে ২০১৩-১৪ অর্থবছরে লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ঘাটতি ছিল ১৩৪ কোটি ৭৩ লাখ আর ২০১২-১৩ অর্থবছরে ৪৫২ কোটি ৮৯ লাখ এবং ২০১১-১২ অর্থবছরে ১৯৪ কোটি টাকা রাজস্ব ঘাটতি ছিল

এই বিভাগের আরও খবর

আরও পড়ুন