রবিবার | নভেম্বর ১৭, ২০১৯ | ৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৬

শেয়ারবাজার

পিপলস লিজিং

ডিসেম্বরের মধ্যে টাকা ফেরত চান আমানতকারীরা

নিজস্ব প্রতিবেদক

 টাকা ফেরত পাওয়ার সময়সীমা নিয়ে অনিশ্চয়তার মধ্যে রয়েছেন অবসায়ন প্রক্রিয়ায় থাকা পিপলস লিজিং অ্যান্ড ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিসেস লিমিটেডের আমানতকারীরা ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে টাকা ফেরত পেতে বাংলাদেশের ব্যাংকের দ্বারস্থ হওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তারা বাংলাদেশ ব্যাংকের মাধ্যমে কোনো ব্যবস্থা না হলে অর্থ মন্ত্রণালয় এবং ক্রমান্বয়ে প্রধানমন্ত্রীর দ্বারস্থ হওয়ারও সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে আমানতকারীদের একটি অ্যাডহক কমিটি

গতকাল রাজধানীর গুলশান ক্লাবে আমানতকারীদের করণীয় নিয়ে একটি আলোচনার আয়োজন করে পিপলস লিজিংয়ের আমানতকারী সমিতির অ্যাডহক কমিটি কমিটির আহ্বায়ক হিসেবে রয়েছেন মো. আনোয়ারুল হক, যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবে রয়েছেন কামাল আহমেদ রানা ঘোষ এবং সম্পাদক কোষাধ্যক্ষ হিসেবে রয়েছেন প্রশান্ত কুমার দাস সারতাজ ভূঁইয়া এছাড়া কমিটিতে সাতজন সদস্য রয়েছেন

আমানতকারীদের মধ্যে আলোচনার পর নিজেদের করণীয় বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানান অ্যাডহক কমিটির আহ্বায়ক মো. আনোয়ারুল হক তিনি বলেন, যেহেতু নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ ব্যাংকই পিপলস লিজিংকে লাইসেন্স দিয়েছে সুতরাং আমাদের প্রথম কাজ হবে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরের সঙ্গে সাক্ষাৎ করা তার কাছে যাওয়ার আগে নিজেদের দাবিগুলো সুনির্দিষ্ট করার জন্য আমাদের আরো আলোচনা করতে হবে তবে বিষয়ে আমরা একমত, বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছে আমরা দাবি জানাব, তারা যেন দীর্ঘসূত্রতা পরিহার করে ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে আমাদের আমানতকৃত টাকা ফেরত দেয়ার ব্যবস্থা করে বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছে আশানুরূপ উত্তর না পেলে আমরা অর্থ মন্ত্রণালয়ের দ্বারস্থ হব এখানেও ব্যর্থ হলে, আমরা প্রধানমন্ত্রীর কাছে যাব

প্রসঙ্গত, ক্রমাগত লোকসানের মুখে থাকা পিপলস লিজিংকে অবসায়নের জন্য অর্থ মন্ত্রণালয়ের কাছে প্রস্তাব পাঠায় বাংলাদেশ ব্যাংক মন্ত্রণালয়ের কাছ থেকে অনুমোদন পাওয়ার পর কোম্পানিটিকে অবসায়নের জন্য উদ্যোগ নেয় বাংলাদেশ ব্যাংক অবসায়ন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার জন্য অস্থায়ী ভিত্তিতে একজন অবসায়কও নিয়োগ দেয় কেন্দ্রীয় ব্যাংক

পিপলস লিজিংয়ের পুঞ্জীভূত লোকসান হাজার ৩২৪ কোটি টাকা ছাড়িয়েছে হাজার কোটি টাকা ছাড়িয়েছে প্রতিষ্ঠানটির মূলধন ঘাটতি ২৮৫ কোটি টাকা পরিশোধিত মূলধনের কোম্পানিটির বিতরণকৃত ঋণের ৬৬ শতাংশ খেলাপি হয়ে পড়েছে অবস্থায় কার্যক্রম পরিচালনার সক্ষমতা হারিয়েছে পিপলস লিজিং

নিরীক্ষক পিনাকী অ্যান্ড কোম্পানি চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্টস তাদের কোয়ালিফায়েড অপিনিয়নেও পিপলস লিজিংয়ের ব্যবসা চালিয়ে যাওয়া নিয়ে সন্দেহ পোষণ করেছে ৩১ ডিসেম্বর সমাপ্ত ২০১৮ হিসাব বছরের আর্থিক প্রতিবেদনে নিরীক্ষক প্রতিষ্ঠানটির পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, সাবসিডিয়ারি কোম্পানি পিএলএফএস ইনভেস্টমেন্টসহ ২০১৮ হিসাব বছরে প্রতিষ্ঠানটির লোকসান হয়েছে ১৫৯ কোটি ১৪ লাখ টাকা আর তাদের পুঞ্জীভূত লোকসানের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে হাজার ৩২৪ কোটি ৬৮ লাখ টাকা তাছাড়া প্রতিষ্ঠানটির চলতি সম্পদের তুলনায় দায়ের পরিমাণ দশমিক ১১ গুণ বেশি

গত ১৪ জুন প্রথম পিপলস লিজিংয়ের শেয়ার লেনদেন স্থগিত করে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জ (সিএসই) লিস্টিং রেগুলেশনের ধারা ৫০() অনুসারে, তালিকাভুক্ত কোনো কোম্পানি লিস্টিং রেগুলেশনের বিধান লঙ্ঘন করলে কিংবা কোম্পানির শেয়ারদরে প্রভাব পড়তে পারে, এমন কোনো গুরুত্বপূর্ণ তথ্যে ঘাটতি থাকলে স্টক এক্সচেঞ্জ সেই কোম্পানির শেয়ার লেনদেন স্থগিত করতে পারে আর রেগুলেশনের ধারা ৫০() অনুসারে, প্রথম দফায় ৩০ কার্যদিবস পর্যন্ত কোম্পানির শেয়ার লেনদেন স্থগিত থাকবে পরবর্তী সময়ে স্টক এক্সচেঞ্জ কর্তৃপক্ষ চাইলে আরো ১৫ দিনের জন্য স্থগিতাদেশের মেয়াদ বাড়াতে পারে

গত ১৩ আগস্ট প্রথম দফায় ১৫ দিনের জন্য স্থগিতাদেশের মেয়াদ বাড়ানো হয় এরপর ২৮ আগস্ট একই সময়ের জন্য মেয়াদ বাড়ায় স্টক এক্সচেঞ্জ কর্তৃপক্ষ ১১ সেপ্টেম্বর তৃতীয় দফায় এবং ২৬ সেপ্টেম্বর চতুর্থ দফায় মেয়াদ বাড়ানোর ঘোষণা দেয়া হয়

৩১ ডিসেম্বর সমাপ্ত ২০১৮ হিসাব বছরের জন্য শেয়ারহোল্ডারদের কোনো লভ্যাংশ দেয়ার সুপারিশ করেনি পিপলস লিজিংয়ের পরিচালনা পর্ষদ সমাপ্ত হিসাব বছরের নিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদনসহ অন্যান্য এজেন্ডা পর্যালোচনার জন্য ১৭ সেপ্টেম্বর সকাল সাড়ে ৯টায় রাজধানীর রাওয়া কনভেনশন সেন্টারের অ্যাংকর হলে কোম্পানির এজিএম আহ্বান করা হয়েছিল কিন্তু অনিবার্য কারণ দেখিয়ে তা স্থগিত করা হয়

এই বিভাগের আরও খবর

আরও পড়ুন