শুক্রবার | ডিসেম্বর ১৩, ২০১৯ | ২৯ অগ্রহায়ণ ১৪২৬

প্রথম পাতা

অপকর্মে জড়ালে পরিবার দল কাউকেই ছাড় নয় : প্রধানমন্ত্রী

বণিক বার্তা ডেস্ক

জঙ্গিবাদ, সন্ত্রাসবাদ, মাদক দুর্নীতির বিরুদ্ধে চলমান অভিযান অব্যাহত রাখার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। গতকাল রাজধানীর একটি হোটেলে দেশের প্রথম কমিউনিকেশন স্যাটেলাইট বঙ্গবন্ধু--এর মাধ্যমে সব দেশীয় টেলিভিশন চ্যানেলের বাণিজ্যিক ট্রান্সমিশন উদ্বোধনকালে তিনি বলেন, আমরা জঙ্গি সন্ত্রাসবাদ, মাদক দুর্নীতির বিরুদ্ধে চলমান অভিযান অব্যাহত রাখব। এসব অপকর্মের সঙ্গে জড়িত থাকলে দল-পরিবার নির্বিশেষে কাউকেই ছাড় দেয়া হবে না। আমি দেশের দরিদ্র মানুষের মুখে হাসি ফুটিয়ে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্বপ্ন বাস্তবায়ন করতে চাই।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা চলতি বাজেটে ১৭৩ হাজার কোটি টাকার উন্নয়ন প্রকল্প হাতে নিয়েছি। দুর্নীতিবাজ উইপোকারা উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নকালে অর্থ লুটে নিচ্ছে। দেশের উন্নয়নের জন্য জনগণের কষ্টার্জিত প্রতিটি পয়সার যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিতের জন্য আমাদের ওইসব উইপোকাকে আটক করতে হবে। খবর বাসস।

কোনো ধরনের প্রপাগান্ডা বা অপপ্রচার না চালানোর জন্য গণমাধ্যম ব্যক্তিত্বদের প্রতি আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, অপপ্রচারগুলো সরকারের বিরোধিতার নামে মানুষের মধ্যে অনাস্থা তৈরির পাশাপাশি দেশে বিশৃঙ্খলা নৈরাজ্য সৃষ্টি করে।

শেখ হাসিনা বলেন, আমি আপনাদের কাছে আরেকটি আবেদন রাখতে চাই। আপনারা সরকারের বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ড তুলে ধরুন, যাতে দেশবাসীর মনে সরকারের প্রতি বিশ্বাস আস্থা তৈরি হয় এবং তারাও উন্নত জীবনের স্বপ্ন দেখতে পারে।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত গণমাধ্যম ব্যক্তিদের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আপনারা বিরুদ্ধে বলেন, বিরোধিতা করেন, আমার তাতে কোনো আপত্তি নেই। কিন্তু মিথ্যা বা অপপ্রচার যেন না হয়, সে ব্যাপারে দয়া করে একটু সতর্ক থাকবেন। অপপ্রচার বা দেশ মানুষের মনে অযথা সন্দেহ-সংঘাত সৃষ্টি করে, সে ধরনের সম্প্রচারের বিষয়ে আপনাদের একটু সতর্ক থাকতে হবে। কিছু না হোক, গোটা ১০ বছরে কিছু কাজ তো আমরা করেছি। সেটাকে তো আর অস্বীকার করা যাবে না। সেটাও একটু প্রচার করবেন, সেটাও আমরা চাই। কারণ আপনি কাজের মধ্য দিয়ে তখনই সফলতা অর্জন করতে পারবেন, যখন দেশের মানুষের মাঝে আত্মবিশ্বাস গড়ে উঠবে। কাজেই এমন কিছু করা ঠিক হবে না, যাতে মানুষ আত্মবিশ্বাস হারিয়ে ফেলে, দিশেহারা হয়ে যায়। যেটুকু ভালো কাজ করেছি, সেটুকুর প্রচার অন্তত আমি দাবি করি।

তার সরকার জাতীয় সম্প্রচার নীতিমালা ২০১৪ প্রণয়ন করেছে জানিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, তথ্য কমিশন গঠনের পাশাপাশি নতুন নতুন বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল রেডিওর অনুমোদন দিয়েছি। কাজেই ব্যবসা-বাণিজ্যের পাশাপাশি দেশের উন্নয়নের তথ্যগুলো দয়া করে মানুষের কাছে একটু পৌঁছে দেবেন।

বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট--এর মাধ্যমে বাণিজ্যিক সম্প্রচারের জন্য বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেলগুলো চুক্তিবদ্ধ হওয়ায় মালিকদের ধন্যবাদ জানান শেখ হাসিনা। বিদেশী স্যাটেলাইট ভাড়া করে অতীতে সম্প্রচারের জন্য যে পরিমাণ টাকা খরচ হতো, এখন তা বেঁচে যাওয়ায় সে অর্থ তারা কী কাজে লাগাবেন, সে প্রশ্ন উত্থাপন করে দরিদ্র জনগোষ্ঠীর কল্যাণে এর কিছু অংশ ব্যয় করারও পরামর্শ দেন তিনি। পাশাপাশি স্যাটেলাইটের মাধ্যমে দুর্যোগ মোকাবেলা, দুর্গম পাহাড় বা চর অঞ্চল কিংবা হাওড় অঞ্চলের মানুষের কাছে টেলিমেডিসিন সেবা পৌঁছে দেয়া, শিক্ষার ক্ষেত্রে প্রত্যন্ত অঞ্চলে -এডুকেশন পদ্ধতি চালুর কথাও তুলে ধরেন।

নিজস্ব স্যাটেলাইট বঙ্গবন্ধু--এর মাধমে সম্প্রচার শুরু হওয়ায় ইলেকট্রনিক সম্প্রচার মাধ্যমগুলোর অনেক বাধা দূর হবে প্রত্যাশা করে শেখ হাসিনা বলেন, এর মাধ্যমে পরনির্ভরশীলতা থাকবে না। আমরা নিজের পায়ে দাঁড়ানোর সুযোগ পেলাম।

প্রধানমন্ত্রী আরো বলেন, আমরা আশপাশের দেশগুলোর কাছেও অফার করেছি। তারাও চাইলে এর ট্রান্সপন্ডার ভাড়া নিতে পারবে। এখান থেকেও আমরা অর্থ উপার্জন করতে পারব। স্যাটেলাইটের মাধ্যমে প্রত্যন্ত অঞ্চলে অনেক সহজে বার্তা পৌঁছবে।

দ্বিতীয় স্যাটেলাইট উেক্ষপণেও দেশ তৈরি হচ্ছে আভাস দিয়ে তিনি বলেন, একটা স্যাটেলাইটের নির্দিষ্ট সময় থাকে ১৫ বছর। এর মধ্যে আরেকটা আমাদের আনতে হবে। এর মধ্যে পাঁচ বছর হয়ে গেছে। দ্বিতীয়টা তৈরি করা শুরু করেছি, সময় থাকতে নিয়ে আসব। সেটা আমরা একটু বড় আকারে করতে চাই।

সময় প্রধানমন্ত্রী ডিজিটাল বাংলাদেশ বিনির্মাণে তার সন্তান তথ্যপ্রযুক্তি উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয়ের কৃতিত্বও তুলে ধরেন। তিনি বলেন, বাংলাদেশ আজ ডিজিটাল। আমি বাংলা সাহিত্যের ছাত্রী, ডিজিটাল শব্দটি আমি জানতাম না। এটা আমাকে শিখিয়েছিল সজীব ওয়াজেদ জয়।

১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগ সরকারে আসার পর বেসরকারি খাতে টেলিভিশনকে উন্মুক্ত করে দেয়ার কথা উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, তখন অনেকেই এত অভিজ্ঞ ছিল না, অতটা সাড়াও পাইনি। কিন্তু যারা চেয়েছিল, তাদের সবাইকেই টেলিভিশন চ্যানেলের অনুমতি দিয়ে দিই।

বঙ্গবন্ধুকন্যা বলেন, দায়িত্ব নেয়ার পর একটাই কর্তব্য মনে করি, সেটা হচ্ছে আমার বাবা দেশ স্বাধীন করে দিয়ে গেছেন, দেশের শোষিত-বঞ্চিত মানুষের ভাগ্য পরিবর্তন করতে চেয়েছিলেন, দুঃখী মানুষের মুখে হাসি ফোটাতে চেয়েছিলেন। সেই দুঃখী মানুষের মুখে হাসি ফোটানোটাই হচ্ছে আমার একমাত্র কর্তব্য।

বাংলাদেশ নিজের পায়ে দাঁড়াবে মন্তব্য করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, কারো কাছে হাত পেতে চলবে না। আজকে আমাদের বাজেটের পুরো অর্থ আমাদের নিজস্ব অর্থায়ন থেকে আসে। আর বিদেশী কিছু ঋণ সহযোগিতা থাকে, সেটা ১০ থেকে ১৪ শতাংশের বেশি নয়। নিজস্ব অর্থে নিজের পায়ে দাঁড়ানোর যে সক্ষমতা আমরা অর্জন করেছি, তা আমাদের ধরে রাখতে হবে।

দেশব্যাপী ১০০ বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল প্রতিষ্ঠায় তার সরকারের উদ্যোগের কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, অর্থনৈতিক অঞ্চলগুলোয় দেশী-বিদেশী বিনিয়োগ আসবে, মানুষের কর্মসংস্থান হবে, উৎপাদন বাড়বে, রফতানি বাড়বে। রফতানিকে আমরা বহুমুখী করতে চাই। কোনো একটা পণ্যের ওপর নির্ভরশীল থাকতে চাই না।

এই বিভাগের আরও খবর

আরও পড়ুন