মঙ্গলবার | ডিসেম্বর ১০, ২০১৯ | ২৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৬

পণ্যবাজার

খাতুনগঞ্জে হঠাৎ ঊর্ধ্বমুখী আদা-রসুনের দাম

নিজস্ব প্রতিবেদক চট্টগ্রাম ব্যুরো

কয়েক দিন ধরে ভোগ্যপণ্যের বাজারে অস্থির রয়েছে পেঁয়াজের দাম। সময়ের মধ্যে প্রতি কেজি পেঁয়াজের দাম ১০০-১২০ টাকায় ওঠানামা করছে। এর মধ্যেই দুদিন ধরে বাড়তে শুরু করেছে অন্য দুটি মসলাজাতীয় পণ্য আদা রসুনের দাম। একদিনের ব্যবধানে পণ্য দুটির দাম কেজিতে বেড়েছে ২০ থেকে ২৫ টাকা পর্যন্ত। ব্যবসায়ীরা বলছেন, আন্তর্জাতিক বাজারে বুকিং দর বৃদ্ধি চাহিদার চেয়ে কম আমদানির কারণে পণ্য দুটির দাম বেড়েছে।

ভোগ্যপণ্যের পাইকারি বাজার চট্টগ্রামের খাতুনগঞ্জের আড়ত পাইকারি দোকানগুলোয় খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, পাইকারি পর্যায়ে গতকাল প্রতি কেজি আমদানীকৃত চীনা আদা বিক্রি হয়েছে ১৩০ টাকা দামে; একদিন আগেও যা বিক্রি হয়েছে ১০৫-১০৮ টাকায়। সেই হিসাবে মাত্র একদিনের ব্যবধানে পাইকারিতে আদার দাম বেড়েছে কেজিতে ২২-২৫ টাকা পর্যন্ত।

একই সময়ে ঊর্ধ্বমুখী হয়েছে আমদানীকৃত চীনা রসুনের বাজারও। একদিন আগে খাতুনগঞ্জে প্রতি কেজি চীনা রসুন বিক্রি হয়েছে ৯৫ টাকার মধ্যে। কিন্তু গতকাল একই রসুন বিক্রি হয়েছে ১০৭-১১০ টাকা দামে। সেই হিসাবে মাত্র একদিনেই প্রতি কেজি রসুনের দাম বেড়েছে ১৫ টাকা পর্যন্ত।

হঠাৎ পণ্য দুটির দাম ঊর্ধ্বমুখী হওয়ার বিষয়ে খাতুনগঞ্জের কাঁচা পণ্য ব্যবসায়ী রাজন রড়ুয়া বণিক বার্তাকে বলেন, পাঁচ-ছয় মাস ধরে বাজারে আদা-রসুনের দাম অস্থিতিশীল। আন্তর্জাতিক বাজারে বুকিং দর বেশি থাকায় দেশের আমদানিকারকরা পণ্যটির আমদানি কমিয়ে দিয়েছেন। এতে বিভিন্ন সময় চাহিদার তুলনায় সরবরাহ কম থাকায় পণ্য দুটির বাজার অস্থির হয়ে উঠেছে। বর্তমানেও একই কারণে পণ্য দুটির দাম বেড়েছে।

তবে কাঁচা পণ্য আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান মেসার্স আল মদিনা ট্রেডার্সের স্বত্বাধিকারী মো. নাজিম উদ্দিন বলছেন ভিন্ন কথা। তার মতে, দীর্ঘদিন দেশীয় বাজারে আদা-রসুনের দর কম থাকায় ব্যবসায়ীরা পণ্য দুটির আমদানি কমিয়ে দিয়েছেন। এতে বর্তমানে বাজারে পণ্য দুটির চাহিদা স্বাভাবিক থাকলেও সরবরাহ কমে যাওয়ার সুযোগে ব্যবসায়ীরা দাম বাড়িয়ে দিয়েছেন।

এদিকে আমদানীকৃত চীনা আদা-রসুনের প্রভাবে বাজারে বছর বছর কমে আসছে দেশীয় আদা-রসুনের সরবরাহ চাহিদা। ফলে দেশীয় মৌসুমের পর পাইকারি বাজার খাতুনগঞ্জসহ চট্টগ্রামের বাজারে দেশীয় আদা-রসুনের সরবরাহ নেই বললেই চলে। বর্তমান খাতুনগঞ্জের মাত্র কয়েকটি আড়ত দোকানে দেশীয় আদা-রসুনের সরবরাহ রয়েছে। এসব দোকানে গতকাল দেশী আদা কেজিপ্রতি ১০০-১০৫ টাকা এবং দেশী রসুন ৯০-৯৫ টাকা দামে বিক্রি হতে দেখা গেছে।

এদিকে পাইকারি বাজারের প্রভাবে খুচরা বাজারেও অস্বাভাবিক বেড়েছে আদা-রসুনের দাম। চট্টগ্রামের খুচরা বাজারে প্রতি কেজি চীনা রসুন বিক্রি হচ্ছে ১৩০-১৪০ টাকায় এবং চীনা আদা ১৬০-১৭০ টাকার মধ্যে। একদিন আগ পর্যন্ত খুচরা পর্যায়ে প্রতি কেজি রসুন ১০০-১২০ টাকা টাকা এবং আদা ১৪০-১৫০ টাকায় বিক্রি হয়েছে।

দেশী আদা-রসুনের সরবরাহ কম হওয়ার বিষয়ে মেসার্স সাঙ্গু ট্রেডিংয়ের স্বত্বাধিকারী শাহাদত হোসেন বণিক বার্তাকে বলেন, চট্টগ্রামে দেশী রসুনের চাহিদা বিক্রি কম। কারণ আমদানীকৃত চীনা আদা-রসুন দেশী আদা-রসুনের তুলনায় অপেক্ষাকৃত বড় আকারের দেখতে সুন্দর। ফলে অঞ্চলের ভোক্তাদের কাছে দেশী রসুনের চেয়ে চীনা আদা-রসুনের কদর বেড়েছে। অথচ চীনা আদা-রসুনের চেয়ে দেশীয় আদা-রসুনের গুণগত মান অনেক ভালো।

এদিকে নিত্যপ্রয়োজনীয় মসলাপণ্য পেঁয়াজের দাম বৃদ্ধির পর হঠাৎ করে আদা-রসুনের দাম বৃদ্ধিতে নেতিবাচক প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছেন ক্রেতারা। নগরীর খাজা রোড এলাকার গৃহিণী নুসরাত জাহান বণিক বার্তাকে বলেন, কয়েক মাস ধরেই মসলাপণ্যের বাজার অস্থির। এর মধ্যে দুদিন আগে হঠাৎ এক লাফে ৫০ থেকে ১০০ টাকার ওপরে চলে গেছে পেঁয়াজের বাজার, যা এখন মুদির দোকানগুলোয় ১২০ টাকা পর্যন্ত দামে বিক্রি হচ্ছে। বিকালে ১১০ টাকা দরে পেঁয়াজ কেনার পর দেখি আদা-রসুনের দাম বেড়েছে কেজিতে ৩০ টাকা পর্যন্ত। মসলাপণ্যের দাম যে হারে বাড়ছে, তাতে রান্নায় মসলার   ব্যবহার কমিয়ে দেয়া ছাড়া কোনো বিকল্প নেই বলে মনে করেন এই ক্রেতা।

এই বিভাগের আরও খবর

আরও পড়ুন