মঙ্গলবার | অক্টোবর ২২, ২০১৯ | ৭ কার্তিক ১৪২৬

ফিচার

ক্যারিবীয় সাগর তলে ‘পড়ে আছে’ ২০ বিলিয়ন ডলারের সম্পদ!

অনলাইন ডেস্ক

১৭০৮ সালের ৮ জুন। কলম্বিয়ার কার্টেজেনা উপকূলে ধনসম্পদে ভরা একটি স্প্যানিশ জাহাজে আক্রমণ চালায় ব্রিটিশ নৌবাহিনী। পাল তোলা এই জাহাজগুলোকে বলা হতো গ্যালিয়ন। ঐতিহাসিকদের মতে, কার্টজেনায় মেরামতের উদ্দেশ্যে থেমে পরপর তিনবার ব্রিটিশদের আক্রমণেও জয় হয়েছিল ‘সান জোসে’ নামের এই গ্যালিয়নটিরই। তবে এরপর তার ভাগ্যে কী ঘটেছিল তা জানা যায়নি। ধারণা করা হয়, গ্যালিয়নটি কোন না কোনভাবে বিপুল পরিমাণ স্বর্ণ, রূপা ও অন্যান্য মূল্যবান পাথরসহ প্রায় ৬০০ জন যাত্রী নিয়ে পানির নিচে তলিয়ে গিয়েছিল। বিগত কয়েক শতাব্দী ধরে সান জোসে সমুদ্রের তলদেশেই রয়ে গেছে। সম্প্রতি জাহাজটির খোঁজ পেয়েছে কলোম্বিয়া সরকার। ধারণা করা হচ্ছে, জাহাজটি যেসব সম্পদ নিয়ে ডুবেছিল তা উদ্ধার করা গেলে বর্তমান মূল্য দাঁড়াবে প্রায় ১৫ থেকে ২০ বিলিয়ন ডলার!

২০১৫ সালে কলম্বিয়ার সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে জাহাজটির অনুসন্ধান করার ঘোষণা দেন। তখন জাহাজটি ঘিরে থাকা নানান রহস্য বেরিয়ে আসতে শুরু করে। এর ঠিক চার বছর পর অর্থাৎ চলতি বছর জানা যায়, স্প্যানিশ এই জাহাজটির ধ্বংসাবশেষ এখনও কলম্বিয়ার সমুদ্রতলে ৬০০ মিটার গভীরে রয়েছে।


কলম্বিয়ার সরকার অবশ্য এখনো আলোচিত গ্যালিয়ন সান জোসের সঠিক অবস্থান প্রকাশ করেনি। তবে ধারণা করা হচ্ছে, কার্টেজেনা থেকে ৪০ কিলোমিটার দূরে রোজারিও দ্বীপপুঞ্জের কাছাকাছি গ্যালিয়নটি থাকতে পারে। প্রকৃতপক্ষে, ডুবে যাওয়া এই জাহাজটি দীর্ঘকাল ধরেই ঐতিহাসিকদের কাছে ছিল এক অপার বিস্ময়। নোবেল পুরস্কারপ্রাপ্ত লেখক গ্যাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেজ তার ‘লাভ ইন দ্য টাইম অফ কলেরা’তে এই গ্যালিয়ন সম্পর্কে লিখেছিলেন। তাছাড়া কলোম্বিয়ার রাজধানী বোগোতার একজন পরিব্রাজক বিবিয়ানা রোজাস মেজিয়া বলেন, ‘ক্যারিবিয়ান খুবই জাদুকরি। আমি ইসলা গ্র্যান্ডেতে পুরো পরিবার নিয়ে সময় কাটিয়েছি। যদি বাস্তবে কোন জাদু থেকে থাকে এটা তাই। সান জোসে গ্যালিয়নে আসলে ধন-সম্পদ কতটা আছে তা আমরা জানি না। তবে গ্যালিয়নটি কিংবদন্তী হবে হয়তো!

সান জোসে গ্যালিয়ন ১৭০৮ সালের মে মাসের শেষের দিকে পানামার বন্দর শহর পোর্টোবেলো ছেড়ে যায়। এ জাহাজটিতে ছিল বর্তমান অর্থমূল্য হিসাবে ১৫ থেকে ২০ বিলিয়ন ডলার মূল্যের স্বর্ণ, রূপা ও মূল্যবান পাথর। এগুলোর সবই নেয়া হয়েছিল তৎকালীন স্পেন নিয়ন্ত্রিত পেরু থেকে। ‘স্প্যানিশ সাকসেশন’ যুদ্ধে অর্থায়নের জন্য এগুলো স্পেনের রাজা পঞ্চম ফিলিপকে তার উপনিবেশ থেকে পাঠানো হচ্ছিল। গ্যালিয়নের ক্যাপ্টেন জোসে ফার্নান্দেজ দে স্যান্তিলান আগে থেকেই জানতেন, এই যুদ্ধের সঙ্গে সম্পৃক্ত ব্রিটিশ জাহাজ কার্টেজেনায় আক্রমণ করার জন্য ওঁত পেতে থাকতে পারে। কিউবার হাভানা ও পরবর্তীতে স্পেনের পথে দীর্ঘ যাত্রা শুরুর আগে কার্টেজেনায় জাহাজটি মেরামতের জন্য থামানো হয়েছিল।