বৃহস্পতিবার | নভেম্বর ১৪, ২০১৯ | ২৯ কার্তিক ১৪২৬

টকিজ

‘আমার কাছে চরিত্রটিই মুখ্য’

ফিচার প্রতিবেদক

প্রথম চলচ্চিত্রের পর আর কোনো চলচ্চিত্রে কাজ করা হয়নি, এর পেছনে অনেক কারণের একটি হচ্ছে, যেহেতু চলচ্চিত্রে কাজ করা মানে দীর্ঘ সময় সেটির শুটিং চলে, ফলে আমার পড়াশোনার খানিকটা ক্ষতি হতে পারে। যদিও এর মধ্যে বেশকিছু চলচ্চিত্রের কাজ হাতে এসেছে। তবে পড়াশোনা শেষ হোক, এরপর চলচ্চিত্রের কাজ হাতে নেয়ার ইচ্ছা রয়েছে

সাংস্কৃতিক পরিবেশে বড় হওয়া মেয়ে জান্নাতুল সুমাইয়া হিমি। নাচ, গান, আবৃত্তিতে পারদর্শী ছোটবেলা থেকেই। তবে ২০১৭ সালে মিস ওয়ার্ল্ড বাংলাদেশ প্রতিযোগিতার মধ্য দিয়ে মিডিয়ায় পুরোপুরি পথচলা শুরু তার। বর্তমানে নাচ, উপস্থাপনা আর অভিনয় দিয়ে সরব উপস্থিতি তার। আজকের আয়োজন ঘিরে রয়েছেন হিমি

 

টেলিভিশনের পর্দায় যা আসছে...

দুদিন আগেই বাংলাদেশ টেলিভিশনের জন্য তোমার হাতটি ধরে নামে একটি একক নাটকের কাজ শেষ করলাম। এছাড়া আরো একটি ঘণ্টার নাটকের কাজ করেছি, সেটাও বাংলাদেশ টেলিভিশনের জন্য। পাশাপাশি নাচের অনুষ্ঠান করছি এবং দুটো অনুষ্ঠানের উপস্থাপনা করছি নিয়মিত। অন্যদিকে বিজ্ঞাপনের কাজও শেষ করলাম একটি। মাসেই অনএয়ার হওয়ার কথা রয়েছে সেটি।

কিসের বিজ্ঞাপন ছিল সেটি?

দুরন্ত বাইসাইকেলের একটি বিজ্ঞাপন সেটা। উত্তরায় বিজ্ঞাপনের শুটিং হয়েছে। মূলত একজন কর্মজীবী নারীকে দেখানো হবে বিজ্ঞাপনে, যিনি কর্মক্ষেত্রে যাওয়ার পথে বিভিন্ন বাস্তবতার সম্মুখীন হয়ে পরবর্তী সময়ে বাইসাইকেলের ওপর নির্ভরশীল হন যাতায়াতের জন্য। বিজ্ঞাপনের জন্য উত্তরায় অনেক সময় ধরেই সাইকেল চালিয়েছি। মজার বিষয় হচ্ছে, আমার সাইকেল চালানো শেখা কুমারিকা হেয়ার অয়েলের বিজ্ঞাপন করতে গিয়ে। এবার সে অভিজ্ঞতা খানিকটা সুবিধাই করে দিল।

নাচ, উপস্থাপনা, বিজ্ঞাপন, নাটক কোনটিতে বেশি স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন?

একটা ছেড়ে অন্যটার কথা বলা কঠিন। কেননা এসব আমার ভালো লাগার কাজ। তবে একথা সত্যি, অভিনয় আমাকে খানিকটা বেশিই যেন টানে! সবচেয়ে বেশি কষ্ট হয় কিন্তু অভিনয় করতে গিয়েই। সকাল থেকে অনেক রাত পর্যন্ত শুটিং সেটে থাকা, ঠিকঠাক চরিত্র ফুটিয়ে তোলা কঠিন মনে হলেও কাজেই বেশি আনন্দ পাই। তবে উপস্থাপনা, নাচের শো এসব বেশ উপভোগ করি।

ছোট পর্দার সবাই এখন বড় পর্দায় কাজের বিষয়ে বেশ আগ্রহী এবং তারা ভালোও করছেন, সেদিক থেকে চলচ্চিত্র নিয়ে আপনার পরিকল্পনা কী?

চলচ্চিত্র, নাটক, বিজ্ঞাপন কোনোটিকেই আলাদা কিছু মনে করি না। আমার কাছে চরিত্রই মুখ্য। যে চরিত্রে অভিনয় করছি, সেটা নিয়েই ভাবি। পুরো কাজটি নিয়ে ভাবি। মিডিয়ায় আমার কাজের শুরুর দিকে একটি চলচ্চিত্রে কাজ করেছিলাম। যদিও ইচ্ছা ছিল কয়েক বছর কাজের পর চলচ্চিত্রে কাজ করার। তবে সে সময় মনে হয়েছে যেহেতু বেশ বড় একটি কাজ, সেটি তাহলে কেন করব না। আর এমন তো না যে, বড় পর্দায় কাজ করার পর ছোট পর্দায় ফিরে আসা যাবে না। পরে সিদ্ধান্ত নিই চলচ্চিত্রের কাজটি করার। এরপর আর কোনো চলচ্চিত্রে কাজ করা হয়নি, এর পেছনে অনেক কারণের একটি হচ্ছে, যেহেতু চলচ্চিত্রে কাজ করা মানে দীর্ঘ সময় সেটির শুটিং চলে, ফলে আমার পড়াশোনার খানিকটা ক্ষতি হতে পারে। যদিও এর মধ্যে বেশকিছু চলচ্চিত্রের কাজ হাতে এসেছে। তবে পড়াশোনা শেষ হোক, এরপর চলচ্চিত্রের কাজ হাতে নেয়ার ইচ্ছা রয়েছে।

এখনো পড়াশোনা শেষ হয়নি, ভবিষ্যত্ পরিকল্পনা কী?

আমি নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ে বিবিএ পড়ছি। এখন ষষ্ঠ সেমিস্টারে আছি, শেষ হতে আরো বছর দুই লাগবে। মিডিয়াজগত্ আমার ভালো লাগার জায়গা। এখানে কাজ করাটা বেশ উপভোগ্য। তবে ইচ্ছা আছে বিবিএ সম্পন্ন হওয়ার পর উচ্চশিক্ষার জন্য দেশের বাইরে যাওয়ার এবং ফিরে এসে করপোরেট সেক্টরে কাজ করার। -৫টা অফিস টাইমে বেঁধে নিতে চাই নিজেকে। তবে এর পাশাপাশি যতটা সম্ভব মিডিয়ায় কাজ করে যাব। বর্তমানে অনেক প্রতিষ্ঠিত অভিনয়শিল্পীই কিন্তু চাকরি, ব্যবসার পাশাপাশি অভিনয় করছেন। তেমন কিছু করার ইচ্ছা আমারও।

পড়াশোনা কাজ দুটো একসঙ্গে সামলান কীভাবে?

আমি ছোট থেকেই কিন্তু পড়াশোনার পাশাপাশি নাচ, গান করেছি। সে সময় হয়তো কাজ হিসেবে দেখতাম না বিষয়টি, কিন্তু যা হতো তা হচ্ছে সবাই পড়াশোনার ফাঁকে অন্য কিছুতে ব্যস্ত থাকলেও আমাকে ঠিকই কচিকাঁচার মেলা, ছায়ানটে ছুটতে হতো। তবে আমার পরিবার ছোট থেকেই আমাকে শিখিয়েছে পড়াশোনা এবং সহশিক্ষা কার্যক্রম কীভাবে একই সমান্তরালে রাখা যায়। কখনো একদিকেই জোর দিতে দেননি মা-বাবা। শুধু পড়াশোনাই করতে হবে এমনটা যেমন বলেননি, তেমনি শুধু গান, নাচ নিয়ে থাকলেই চলবে, এটাও হতে দেননি। ফলে ছোট থেকেই দুটো বিষয়কে পাশাপাশি রেখে চলা শিখেছি, যা এখন কাজে দিচ্ছে। পড়াশোনা যেমন চালিয়ে যেতে হবে তেমনি অভিনয় বা অন্যান্য কাজও। হয়তো অনেক কিছু আমাকে স্যাক্রিফাইস করতে হয়। যেমনটা বলা যায় ক্লাস শেষে বন্ধুরা যখন আড্ডা দিচ্ছে, আমাকে তখন ছুটে বেরিয়ে আসতে হয় শুটিংয়ের জন্য। কিংবা কোনো কাজ হয়তো খুব চাইছি করতে, কিন্তু পরীক্ষা সামনে অথবা টানা অনেক দিন কাজ করতে হবে, তাই সে কাজটিতেই আর চুক্তিবদ্ধ হইনি। মোদ্দাকথা, দুটোকে সমানভাবে প্রাধান্য দিলে সামলানো খুব কঠিন কিছু না।

অবসরে যা করতে ভালোবাসেন আমি প্রচণ্ড ঘুমকাতুরে স্বভাবের। সময় পেলেই ঘুমিয়ে পড়ি।

এই বিভাগের আরও খবর

আরও পড়ুন