রবিবার | নভেম্বর ১৭, ২০১৯ | ৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৬

শেষ পাতা

ক্যাসিনো কাণ্ডে জড়িতদের সম্পদ অনুসন্ধানে দুদক

নিজস্ব প্রতিবেদক

ক্যাসিনো কাণ্ডে জড়িতদের অবৈধ সম্পদের খোঁজে অনুসন্ধানে নেমেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) গতকালই বিষয়ে অনুসন্ধানের সিদ্ধান্ত নিয়ে কর্মকর্তা নিয়োগ দিয়েছে সংস্থাটি। অনুসন্ধানের দায়িত্ব দেয়া হয়েছে দুদক পরিচালক সৈয়দ ইকবাল হোসেনকে। তদারক কর্মকর্তা হিসেবে থাকছেন সংস্থাটির মহাপরিচালক (বিশেষ তদন্ত) সাঈদ মাহবুব খান।

দুদকের সচিব মুহাম্মদ দিলোয়ার বখ্ত বিষয়ে সাংবাদিকদের বলেন, ক্যাসিনোর মাধ্যমে যে বা যারা জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদের মালিক হয়েছেন মর্মে অভিযোগ রয়েছে, তাদের বিরুদ্ধে অনুসন্ধান শুরু করেছে দুদক। দুদকের এক জরুরি সভায় সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।

অনুসন্ধানের আওতায় কে কে রয়েছেন, সে বিষয়ে কিছু উল্লেখ করেনি দুদক। তবে সাম্প্রতিক সময়ে ক্যাসিনো কাণ্ডে যাদের নাম এসেছে, তাদের সবাইকে অনুসন্ধানের আওতায় আনা হবে। এজন্য গণমাধ্যমে বিষয়ে প্রকাশিত সব খবর বিশ্লেষণ নিজস্ব গোয়েন্দা ইউনিটের মাধ্যমে সংগৃহীত তথ্য বিশ্লেষণ করছে দুদক।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ঢাকা মহানগর দক্ষিণ যুবলীগের সভাপতি ইসমাইল হোসেন চৌধুরী ওরফে সম্রাট, সাংগঠনিক সম্পাদক খালেদ মাহমুদ ভুঁইয়া, মোহামেডান ক্লাবের ডিরেক্টর ইনচার্জ লোকমান হোসেন ভূঁইয়া, কলাবাগান ক্রীড়া চক্রের প্রেসিডেন্ট শফিকুল আলম ফিরোজ, কাউন্সিলর মমিনুল হক সাইদসহ তাদের সব সহযোগীকে অনুসন্ধানের আওতায় আনা হবে।

প্রসঙ্গত, গত ১৮ সেপ্টেম্বর ক্যাসিনোবিরোধী অভিযান শুরু করে র্যাব। এরপর সারা দেশে অন্তত ৩৫টি অভিযানে ২৭০ জনকে গ্রেফতার করে র্যাব পুলিশ। অভিযানের প্রথম দিনেই অবৈধ জুয়া ক্যাসিনো চালানোর অভিযোগে গ্রেফতার করা হয় খালেদ মাহমুদ ভুঁইয়াকে। এরপর রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় ক্যাসিনো জুয়াবিরোধী অভিযানে ক্ষমতাসীন দলের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীদের সংশ্লিষ্টতার খবর মেলে। এসব অভিযানে তাদের কেউ কেউ আটকও হয়েছেন।

ক্যাসিনোবিরোধী অভিযানের পর পরিচালিত তদন্তে ইসমাইল হোসেন চৌধুরী, খালেদ মাহমুদ, কাউন্সিলর মমিনুল হক সাইদসহ যুবলীগের থানা ওয়ার্ড পর্যায়ের লোকজনের ব্যবসার সঙ্গে সরাসরি জড়িত থাকার প্রমাণ পেয়েছে গোয়েন্দা সংস্থাগুলো। বেরিয়ে এসেছে ক্যাসিনো ব্যবসা থেকে অনেক রাজনৈতিক নেতাকর্মীর নামে-বেনামে কোটি কোটি টাকার মালিক হওয়ার তথ্যও। অভিযানে গ্রেফতার হওয়া ব্যক্তিদের জিজ্ঞাসাবাদ করেও জানা গেছে অনেক ভিআইপি ক্যাসিনো ব্যবসায়ীর নাম। দুদক এদের সবারই জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদের অনুসন্ধান করবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে। এছাড়া এসব ঘটনায় যেসব সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীর নাম উঠে আসছে, তাদেরও অনুসন্ধানের আওতায় আনা হবে।

গত ২০ সেপ্টেম্বর র্যাবের হাতে আটক হন ঠিকাদার যুবলীগের নেতা গোলাম কিবরিয়া শামীম (জিকে শামীম) তার অফিস থেকে উদ্ধার করা হয় বিপুল পরিমাণ অর্থ। এরপর গণমাধ্যমে প্রকাশিত বিভিন্ন খবরে উঠে আসে প্রভাবশালীদের সঙ্গে সখ্যতার ভিত্তিতে তার হাজার হাজার কোটি টাকার ঠিকাদারি কাজ বাগিয়ে নেয়ার কথা। এরই মধ্যে এসব ঘটনায় মামলা হয়েছে।

এছাড়া ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগের সংসদ সদস্য নুরুন্নবী চৌধুরী শাওন যুবলীগের নেতা ইসমাইল হোসেন সম্রাটের ব্যাংক হিসাবের তথ্য তলব করা হয়েছে। আটক যুবলীগ নেতা খালেদ মাহমুদ ভুঁইয়া, কৃষক লীগ নেতা শফিকুল আলম ওরফে ফিরোজ রিমান্ডে থাকা যুবলীগের নেতা জিকে শামীমের ব্যাংক হিসাবের লেনদেন স্থগিত করা হয়েছে। একই সঙ্গে তাদের স্ত্রী, মা অথবা স্বার্থসংশ্লিষ্ট অন্য যেকোনো নামে হিসাব থাকলে তাও স্থগিত করা হয়েছে। অর্থ পাচার প্রতিরোধ আইনের আওতায় এসব হিসাব ৩০ দিনের জন্য স্থগিত করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। ঘুষ লেনদেনের তথ্য থাকায় গণপূর্তের সাবেক দুই প্রকৌশলীর ব্যাংক হিসাবও তলব করেছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)

দুর্নীতিসহ অপরাধের বিভিন্ন তথ্য থাকায় ইসমাইল হোসেন চৌধুরীসহ ১৪ নেতার বিরুদ্ধে দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। কোটি কোটি টাকার অবৈধ সম্পদ গড়ে তোলার পাশাপাশি বিদেশে অর্থ পাচার করেছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে।

এই বিভাগের আরও খবর

আরও পড়ুন