রবিবার | নভেম্বর ১৭, ২০১৯ | ৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৬

দেশের খবর

ভিজিএফের চাল বিতরণে অনিয়ম : কুড়িগ্রামে খাদ্যগুদামে তালা

বণিক বার্তা প্রতিনিধি কুড়িগ্রাম

কুড়িগ্রামে খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির আওতায় ঈদ উপলক্ষে ভিজিএফের চাল বিতরণে অনিয়মের অভিযোগ পাওয়া গেছে। তালিকায় নাম থাকা সত্ত্বেও চাল না পাওয়ায় হতাশ উপকারভোগীরা। স্থানীয়দের কাছ থেকে চাল বিতরণে অনিয়মের অভিযোগ পেয়ে গত রোববার রাজারহাট উপজেলার ঘড়িয়ালডাঙ্গা ইউনিয়নের খাদ্যগুদামে তালা লাগিয়ে দেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মুহ. রাশেদুল হক প্রধান।

এদিকে ঘটনার পর থেকে গা-ঢাকা দিয়েছেন ইউপি চেয়ারম্যান রবীন্দ্র  নাথ কর্মকার।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ঈদুল আজহা উপলক্ষে ভিজিএফ কর্মসূচির আওতায় ঘড়িয়ালডাঙ্গা ইউনিয়নে ৫ হাজার ২০০ দুস্থ ও অসহায় পরিবারের  জন্য চাল বরাদ্দ দেয়া হয়। এর মধ্যে ১০ আগস্ট তিন শতাধিক ব্যক্তি তালিকায় নাম থাকা সত্ত্বেও চাল না পাওয়ার বিষয়ে ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান রবীন্দ্র নাথ কর্মকারের কাছে জানতে চান। পরদিন রোববার চেয়ারম্যান তাদের ইউনিয়ন পরিষদে ডেকে চাল নিতে বলেন। কিন্তু ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয়ে চাল নেয়ার জন্য সারা দিন অপেক্ষার পরও চেয়ারম্যান অনুপস্থিত থাকেন। পরে ওইদিন বিকালে বঞ্চিতরা ইউনিয়ন চেয়ারম্যান রবীন্দ্র নাথের বিরুদ্ধে পরিষদ চত্বরে ঝাড়ু মিছিল করেন। খবর পেয়ে রাজারহাট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রাশেদুল হক প্রধান ঘটনাস্থলে পৌঁছে মাস্টাররোল যাচাই করেন। এ সময় তিনি মাস্টারোলে চাল না পাওয়া ব্যক্তিদের নামে জাল স্বাক্ষর ও টিপসই দেখতে পেয়ে ইউনিয়ন খাদ্যগুদামে তালা ঝুলিয়ে দেন।

এদিকে ঘড়িয়ালডাঙ্গা ইউনিয়নের ভিজিএফ কার্ডধারীদের অনেকেই চাল না পাওয়ার অভিযোগ করেছেন।

ঘড়িয়ালডাঙ্গা ইউনিয়নের পশ্চিম দেবত্তর গ্রামের আ. হামিদের স্ত্রী মরিয়ম বেগম, হযরত আলীর স্ত্রী শহীদা বেগম ও লুত্ফর আলীর স্ত্রী ফিরোজা বেগম জানান, তারা কয়েক মাস ধরে ৩০ কেজি করে চাল উত্তোলন করলেও এবার তাদের ৫০-৬০ জনকে কোনো চাল দেয়া হয়নি। সরকারি চাল না পাওয়ায় এবারের ঈদে তাদের ঘরে কোনো আনন্দ ছিল না।

এ বিষয়ে ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান রবীন্দ্র নাথ কর্মকারের সঙ্গে একাধিবার যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি। তবে স্থানীয় একটি নির্ভরযোগ্য সূত্র জানিয়েছে, ভিজিএফের চাল বিতরণে অনিয়মের বিষয়টি সামনে আসায় তিনি গা ঢাকা দিয়েছেন।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মুহ. রাশেদুল হক প্রধান জানান, স্থানীয়দের মাধ্যমে অনিয়মের খবর পেয়ে ওইদিন ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয়ে গিয়ে মাস্টাররোল যাচাই করা হয়। তখন অনেকের স্বাক্ষর জাল ও টিপসই ব্যবহার করে চাল উত্তোলনের অনিয়ম সামনে আসে। বিষয়টি এরই মধ্যে তদন্ত শুরু করা হয়েছে। তদন্তে অনিয়মের সঙ্গে যারাই জড়িত থাকবেন, তাদের আইনের আওতায় আনা হবে।

এই বিভাগের আরও খবর

আরও পড়ুন