বৃহস্পতিবার | নভেম্বর ১৪, ২০১৯ | ৩০ কার্তিক ১৪২৬

দেশের খবর

মাথা গোঁজার ঠাঁই হলো পা হারানো বাবুলের

বণিক বার্তা প্রতিনিধি গাজীপুর

গাজীপুর সিটি করপোরেশনের ৩৯ নং ওয়ার্ডের বাসিন্দা মো. বাবুল হোসেন। একসময় রাজমিস্ত্রির কাজ করতেন। মা-বাবা নিয়ে ভালোই চলছিল তার সংসার। ১৯৯৮ সালে কর্মস্থলে যাওয়ার পথে কুমিল্লায় একটি দুর্ঘটনায় তার বাম পা কেটে ফেলতে হয়। থাকতে হয় দীর্ঘদিন হাসপাতালের বেডে। এরই মধ্যে মারা যান তার বাবা আবেদ আলী। মা অন্যের বাড়িতে কাজ করে যা পেতেন, তা দিয়ে কোনো রকম খেয়ে না খেয়ে দিন পার করতে হতো তাদের। সংসারের আয় বাড়ানোর জন্য কাটা পা নিয়ে মাটি কাটার কাজ নেন বাবুল। কিন্তু অল্প দিনের মধ্যেই কাটা পায়ে পচন ধরে। চিকিৎসক পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর বাবুলকে মাটি কাটার কাজ করতে বারণ করেন। কিন্তু কাজ না করলে কী করে চলবে তার সংসার। স্বল্প পুঁজি নিয়ে বাড়ির পাশে ছোট একটি চায়ের দোকান দিয়ে বসেন বাবুল। কিন্তু বাকি বিক্রির কারণে পুঁজি হারিয়ে একসময় দোকান বন্ধ করে দিতে হয় তাকে। চলতি বছর বৃষ্টিতে বাবার রেখে যাওয়া ঘরটির এক পাশ ভেঙে পড়ে। এ অবস্থায় একেবারেই অসহায় হয়ে পড়েন তিনি। তার দুঃখের কথা শুনে হাজির হন গোল্ডেন ড্রিমস অ্যাসোসিয়েশনের চেয়ারম্যান মো. সাইফুল ইসলাম।

জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী উপলক্ষে গোল্ডেন ড্রিমস অ্যাসোসিয়েশনের উদ্যোগে মুক্তিযোদ্ধা, অসহায় বিধবা, এতিম, প্রতিবন্ধী ও সুবিধাবঞ্চিতদের জন্য ১০০টি গৃহ নির্মাণ ও হস্তান্তর প্রকল্পের কাজ চলছে দীর্ঘদিন ধরে। বেসরকারি এ সংস্থাটি ৬২টি ঘর হস্তান্তরও করেছে। এরই ধারাবাহিকতায় গোল্ডেন ড্রিমস অ্যাসোসিয়েশনের চেয়ারম্যান মো. সাইফুল ইসলাম অসহায় বাবুলের পাশে দাঁড়িয়ে তার ঘর নির্মাণের আশ্বাস দেন। গত ৭ মে বাবুলের পাকা ঘরটির ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হয়। গতকাল সকালে ঘরটি হস্তান্তর করা হয়। ঘর হস্তান্তরের সময় উপস্থিত ছিলেন গাজীপুরের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) আবু নাসার উদ্দিন, টঙ্গী সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ ও জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেট সদস্য মো. রফিকুল ইসলাম, স্থানীয় ওয়ার্ড কাউন্সিলর মো. শাহীনুল আলম মৃধা, সংরক্ষিত মহিলা কাউন্সিলর মোসা. শিরিন আক্তার, যুবলীগ নেতা কাজী কামাল, ইসমাইল হোসেন প্রমুখ।

মাথা গোঁজার ঠাঁই পেয়ে বাবুল বলেন, মাটির ঘরটি ভেঙে পড়ার পর স্ত্রী, মা ও ছোট মেয়ে নুসরাতকে নিয়ে কোথায় যাব ভেবে পাচ্ছিলাম না। একদিকে ভাঙা দেয়াল, অন্যদিকে মাথার ওপর নেই চাল। বৃষ্টির সময় ঘরের এক কোণে সবাই মিলে বসে থাকতাম। আল্লাহর কাছে অনেক কেঁদেছি। আল্লাহ আমার ডাক শুনেছেন। আজ আমি পরিবার নিয়ে মাথা গোঁজার ঠাঁই পেয়েছি।

গোল্ডেন ড্রিমসের চেয়ারম্যান সাইফুল ইসলাম বলেন, আমরা কাজ করি জনগণের জন্য। অসহায় ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষের পাশে থাকাটাই আমাদের মূল লক্ষ্য হওয়া উচিত। ২০২০ সালের ১৭ মার্চের মধ্যে ১০০টি ঘর অসহায়, দরিদ্র, প্রতিবন্ধী, এতিম ও মুক্তিযোদ্ধাদের পরিবারের কাছে বুঝিয়ে দেয়া হবে।

এই বিভাগের আরও খবর

আরও পড়ুন