বৃহস্পতিবার | নভেম্বর ১৪, ২০১৯ | ২৯ কার্তিক ১৪২৬

দেশের খবর

বান্দরবানে নির্মাণের সাত মাসেই সেতুর সংযোগ সড়কে ধস

বণিক বার্তা প্রতিনিধি বান্দরবান 

বান্দরবানের রোয়াংছড়ির তারাছা ইউনিয়নের ফাক্ষ্যং খালের ওপর নির্মিত সেতুটি স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরকে (এলজিইডি) গত নভেম্বরে হস্তান্তর করে সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। কিন্তু এরপর সাত মাস না যেতেই সেতুর সংযোগ সড়ক ধসে পড়েছে। একই সঙ্গে ভেঙে গেছে দুই পাশের নালা ও সড়কে ধস রোধে স্থাপিত ব্লক। এ অবস্থায় প্রায় আড়াই মাস ধরে বান্দরবান-তারাছা ইউনিয়ন সড়ক যান চলাচলের অনুপযুক্ত হয়ে রয়েছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, নিম্নমানের নির্মাণ সামগ্রী ব্যবহার ও কাজে অনিয়মের কারণে এ অবস্থা সৃষ্টি হয়েছে। তবে এলজিইডি কর্মকর্তা বলছেন, অনিয়ম নয়, বরং বৃষ্টি ও বন্যার কারণে সড়কে ফাটলের পাশাপাশি এ ধস দেখা দেয়। ক্ষতিগ্রস্ত সংযোগ সড়ক সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারের মাধ্যমে মেরামত করা হবে।

এলজিইডি অফিস সূত্রে জানা গেছে, ২০১৭ সালের আগস্টে ২ কোটি ৩৫ লাখ টাকা ব্যয়ে বান্দরবান-তারাছা সড়কের ছাংগ্যাই এলাকায় ফাক্ষ্যং খালের ওপর এ সেতুর নির্মাণ শুরু হয়। ৬০ মিটার দৈর্ঘ্য ও ৭ দশমিক ৫ মিটার প্রস্থের এ গার্ডার সেতু এবং উভয় পাশে ২০ মিটার করে মোট ৪০ মিটার সংযোগ সড়ক নির্মাণের দায়িত্ব পায় খাগড়াছড়ির ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান এস অনন্ত বিকাশ ত্রিপুরা। কিন্তু এ কাজ বাস্তবায়ন করে রাজু বড়ুয়া নামে অন্য এক ব্যক্তি। নির্মাণ শেষে গত নভেম্বরে ঠিকাদারের পক্ষে রাজু বড়ুয়াই এলজিইডিকে কাজ বুঝিয়ে দিয়ে বিল তুলে নেন। সেতুটি এখন পর্যন্ত আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধনও করা হয়নি।

সরেজমিন দেখা যায়, সেতুর পূর্ব পাশের মূল অংশ থেকে সংযোগ সড়ক প্রায় ৫ ফুট নিচে ধসে গেছে। পশ্চিম পাশে ভেঙে গেছে স্থাপিত ব্লক। এ অবস্থায় স্থানীয়রা পূর্ব পাশের ধসে যাওয়া সংযোগ সড়কে মাটি ফেলে চলাচল করছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, সেতুর সংযোগ সড়ক নির্মাণকালে মাটির অংশের কমপ্যাকশন যথাযথভাবে হয়নি। এ অবস্থাতেই ইট বিছানো হয়েছে। এছাড়া সড়কের ধস রোধে ৬ ইঞ্চি পুরু ব্লকের স্থলে ব্যবহার করা হয়েছে ৩ ইঞ্চি পুরু ব্লক। ফলে গত জুনে সামান্য বৃষ্টিতেই সেতুর পূর্ব পাশের সংযোগ সড়ক ধসে কয়েক ফুট নিচে দেবে গেছে। ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে সেতুর পশ্চিম পাশের সংযোগ সড়কও। কিন্তু এখন পর্যন্ত সংযোগ সড়ক কিংবা ভেঙে যাওয়া ব্লক মেরামতে কোনো পদক্ষেপ নেয়া হয়নি। তাদের আশঙ্কা, দ্রুত মেরামত বা সংস্কার না করা হলে এখানে বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।

তবে স্থানীয়দের এ অভিযোগ অস্বীকার করে রাজু বড়ুয়া বলেন, নির্মাণকাজে কোনো অনিয়ম হয়নি। সেতুটি আমিসহ শাহজাহান, প্রশান্ত বড়ুয়া ও শফিকুর রহমান মিলে বাস্তবায়ন করেছি। মূলত বৃষ্টিতে সংযোগ সড়কে ধসের পাশাপাশি ব্লক ভেঙে গেছে। এগুলো বর্ষাকালের পর মেরামত করা হবে।

আর বতর্মানে এ পথে যোগাযোগ বন্ধের বিষয়ে তিনি বলেন, সড়ক না থাকায় আগে স্থানীয়রা নৌপথে চলাচল করত। এখন অল্প কয়েক দিন সড়ক পথ বন্ধ হলে অসুবিধা কি?

এদিকে রোয়াংছড়ি উপজেলা এলজিইডির উপসহকারী প্রকৌশলী মো. আজহার বলেন, তিনি এ সেতু নির্মাণকাজের তদারকির দায়িত্বে ছিলেন না। তবে সম্প্রতি বন্যায় এ সংযোগ সড়কে ধস দেখা দেয়।

এ বিষয়ে এলজিইডি বান্দরবানের সিনিয়র সহকারী ও রোয়াংছড়ি উপজেলা প্রকৌশলীর পদে অতিরিক্ত দায়িত্বে থাকা সদর উপজেলার প্রকৌশলী মো. জামাল উদ্দিন বলেন, চুক্তি অনুযায়ী নির্মাণকাজ শেষে পরবর্তী এক বছর পর্যন্ত সেতুর যাবতীয় রক্ষণাবেক্ষণ করবে ঠিকাদার। তাই ক্ষতিগ্রস্ত অংশ মেরামতে সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারকে নোটিস দেয়া হবে।

এলজিইডি বান্দরবানের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আবু তালেব চৌধুরী বলেন, ক্ষতিগ্রস্ত অংশসহ সেতুর অন্য ত্রুটি পরীক্ষা করা হবে। একই সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারের মাধ্যমে তা সংশোধন করা হবে।

এদিকে তারাছা ইউপি চেয়ারম্যান উথোয়াইচিং মারমা বলেন, এ পথে তালুকদারপাড়া, উনিহ্লা হেডম্যান ত্রিপুরাপাড়া, সিনাই ত্রিপুরাপাড়াসহ নয়টি পাড়ার প্রায় ৪০০টি পরিবার বিভিন্ন যানবাহনে চলাচল করে। তারা এ পথে উত্পাদিত নানা কৃষিপণ্য পরিবহন করে। কিন্তু সেতুর সংযোগ সড়ক ধসে পড়ায় আড়াই মাস ধরে এসব পরিবারকে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।

এই বিভাগের আরও খবর

আরও পড়ুন