রবিবার | নভেম্বর ১৭, ২০১৯ | ৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৬

ঈদযাত্রা : আকাশপথে ঢাকা ছাড়ছে দৈনিক ৬ হাজার মানুষ

নিজস্ব প্রতিবেদক

ঈদযাত্রায় সড়ক ও রেলপথে ভোগান্তির শঙ্কায় আকাশপথে যাত্রী চাহিদা বেড়েছে। অনেক আগেই বিক্রি হয়ে গেছে অভ্যন্তরীণ রুটের সব ফ্লাইটের টিকিট। বাড়তি যাত্রী চাহিদার কারণে অতিরিক্ত ফ্লাইট দিয়েছে এয়ারলাইনসগুলো। ফলে চার এয়ারলাইনস মিলে অভ্যন্তরীণ রুটে ঢাকা থেকে অন্য গন্তব্যগুলোয় দৈনিক আসন সক্ষমতা ছয় হাজার ছাড়িয়েছে। অর্থাৎ এবার ঈদযাত্রায় আকাশপথে ঢাকা ছাড়ছে দৈনিক ছয় হাজার মানুষ।

এয়ারলাইনস-সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, আকাশপথে যোগাযোগ ব্যবস্থা দ্রুত ও নিরাপদ হওয়ায় যাত্রীদের আগ্রহ বাড়ছে। ঈদে সড়ক, রেল ও নৌপথে ভোগান্তি কমাতে গ্রাহকরা সাধারণত জুনেই ঈদের টিকিট সংগ্রহ শুরু করে। অভ্যন্তরীণ রুটগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বেশি চাহিদা রয়েছে সৈয়দপুর ও রাজশাহী রুটে। এরই মধ্যে এ দুই রুটের প্রায় ৯৯ শতাংশ টিকিট বিক্রি হয়ে গেছে। বাড়তি চাহিদা মেটাতে অতিরিক্ত ফ্লাইট দেয়ায় চার এয়ারলাইনস মিলে অভ্যন্তরীণ রুটে ঢাকা থেকে অন্য গন্তব্যগুলোয় দৈনিক একমুখী ছয় হাজারের বেশি আসন সক্ষমতা অর্জন করেছে। ফলে সমানসংখ্যক যাত্রী ফিরতি ফ্লাইটগুলোয় ঢাকায় ফিরতে পারছে।

অভ্যন্তরীণ রুটে ফ্লাইট পরিচালনা করছে দেশের চারটি এয়ারলাইনস—বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস, নভোএয়ার, ইউএস-বাংলা এয়ারলাইনস ও রিজেন্ট এয়ারওয়েজ। এর মধ্যে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস, নভোএয়ার ও ইউএস-বাংলা চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, সিলেট, যশোর, সৈয়দপুর, রাজশাহী ও বরিশাল রুটে ফ্লাইট পরিচালনা করছে। আর চট্টগ্রাম ও কক্সবাজার রুটে ফ্লাইট পরিচালনা করছে রিজেন্ট এয়ারওয়েজ।

ঈদুল আজহা উপলক্ষে সরকারি-বেসরকারি এয়ারলাইনস সব মিলে প্রতিদিন শতাধিক অভ্যন্তরীণ ফ্লাইট পরিচালনা করছে। চাহিদার কথা বিবেচনা করে ঢাকা-সৈয়দপুর ও ঢাকা-রাজশাহী রুটে অতিরিক্ত ফ্লাইট দিয়েছে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস।

এদিকে স্বাভাবিক সময়ে নভোএয়ার ঢাকা থেকে প্রতিদিন যশোর পাঁচটি, চট্টগ্রাম পাঁচটি, কক্সবাজার পাঁচটি, সৈয়দপুর পাঁচটি, সিলেট দুটি, বরিশাল ও রাজশাহীতে একটি করে ফ্লাইট পরিচালনা করছে। তবে ঈদুল আজহা উপলক্ষে চারটি রুটে নিয়মিত ফ্লাইটের পাশাপাশি অতিরিক্ত ফ্লাইট দিয়েছে এয়ারলাইনসটি। এছাড়া ঈদের আগে ঢাকামুখী যাত্রীদের জন্য বিশেষ ছাড়ের ঘোষণা দিয়েছে সংস্থাটি।

নভোএয়ারের সিনিয়র মার্কেটিং ম্যানেজার একেএম মাহফুজুল আলম বণিক বার্তাকে জানান, যাত্রী চাহিদার পরিপ্রেক্ষিতে নভোএয়ার সৈয়দপুর রুটে নিয়মিত ফ্লাইটের পাশাপাশি ৮ থেকে ১১ আগস্ট পর্যন্ত প্রতিদিন অতিরিক্ত দুটি ফ্লাইট, যশোর ও রাজশাহী রুটে ৮ থেকে ১১ আগস্ট নিয়মিত ফ্লাইটের পাশাপাশি প্রতিদিন অতিরিক্ত একটি করে ফ্লাইট পরিচালনা করবে। এছাড়া ৯ থেকে ১১ আগস্ট বরিশাল রুটে নিয়মিত ফ্লাইটের পাশাপাশি প্রতিদিন অতিরিক্ত একটি করে ফ্লাইট পরিচালনা করবে নভোএয়ার। এদিকে ৬ থেকে ১২ আগস্ট পর্যন্ত যশোর, সৈয়দপুর, বরিশাল ও রাজশাহী থেকে ঢাকামুখী যাত্রীরা ভ্রমণ করতে পারছে সর্বনিম্ন মাত্র ২ হাজার ১৯ টাকায়।

অভ্যন্তরীণ রুটে ফ্লাইট পরিচালনাকারী এয়ারলাইনসগুলো সূত্রে জানা গেছে, আকাশপথে ঈদের আগের প্রায় ৯৫ শতাংশ টিকিট শেষ। অল্প কিছু ফ্লাইটে তিন-চারটি করে টিকিট অবশিষ্ট থাকলেও নিয়মিত ভাড়ার চেয়ে তিন গুণ দামে বিক্রি হচ্ছে এসব টিকিট। ঢাকা থেকে সৈয়দপুর রুটে যাত্রীদের ভাড়া গুনতে হচ্ছে ৭ হাজার ৫০০ থেকে ৮ হাজার ৫০০ টাকা। অন্য সময়ে একই টিকিট বিক্রি হতো ৩ থেকে ৪ হাজার টাকায়। একইভাবে ঢাকা-যশোর, ঢাকা-বরিশাল ও ঢাকা-রাজশাহী রুটের বাকি থাকা টিকিটগুলোও বিক্রি হচ্ছে ৬-৭ হাজার টাকায়। তবে ঢাকা থেকে চট্টগ্রামে ফ্লাইট বেশি থাকায় কিছুটা কমে ৪ হাজার টাকায় টিকিট পাওয়া যাচ্ছে। এছাড়া ঢাকা-কক্সবাজার ও ঢাকা-সিলেট রুটে ৬-৭ হাজার টাকায় টিকিট বিক্রি হচ্ছে।

ইউএস-বাংলা এয়ারলাইনস ঢাকা থেকে সৈয়দপুর রুটে দৈনিক চারটি, যশোরে চারটি, রাজশাহী ও বরিশালে একটি ফ্লাইট পরিচালনা করছে। এছাড়া ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম রুটে দৈনিক চারটি, কক্সবাজারে দুটি ও সিলেটে দুটি ফ্লাইট চলছে এয়ারলাইনসটির।

তবে চাহিদা বাড়ায় ইউএস-বাংলা এয়ারলাইনসও অতিরিক্ত ফ্লাইট পরিচালনা করছে। বিষয়টি নিশ্চিত করে ইউএস-বাংলা এয়ারলাইনসের ঊর্ধ্বতন এক কর্মকর্তা বলেন, চাহিদার পরিপ্রেক্ষিতে সৈয়দপুর, যশোর ও রাজশাহী রুটে নিয়মিত ফ্লাইটের তিনটি করে অতিরিক্ত ফ্লাইট দেয়া হয়েছে। সব ফ্লাইটের প্রায় সব টিকিটই এরই মধ্যে বিক্রি হয়ে গেছে। চট্টগ্রামে সব এয়ারলাইনসের অনেক ফ্লাইট থাকে, যে কারণে চট্টগ্রামে চাপ তুলনামূলকভাবে একটু কম। তাই চট্টগ্রাম রুটে অতিরিক্ত ফ্লাইট দেয়া হচ্ছে না। তবে ঈদের পর চট্টগ্রামে চাপ অনেক বেশি থাকে।

আর্ক ট্রাভেলসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. আহসান হাবিব এ প্রসঙ্গে বলেন, ঈদের আগের মতো ঈদের পর ঢাকায় ফিরতি ফ্লাইটগুলোর টিকিটও বিক্রি হয়ে গেছে। ২০ আগস্ট পর্যন্ত টিকিটের জন্য যাত্রীদের ব্যাপক চাপ রয়েছে। যদিও টিকিট দেয়া যাচ্ছে না। এবার অভ্যন্তরীণ রুটে সর্বোচ্চ ৮ হাজার ৫০০ টাকায় ওয়ানওয়ে টিকিট বিক্রি হচ্ছে। এতে চাহিদা মেটানো সম্ভব না। কারণ হাজার হাজার মানুষ টিকিট চাচ্ছে। বাড়তি ফ্লাইট দেয়া ছাড়া এত বড় জোগান দেয়া এয়ারলাইনসগুলোর পক্ষে সম্ভব নয়।

এই বিভাগের আরও খবর

আরও পড়ুন