বৃহস্পতিবার | নভেম্বর ২১, ২০১৯ | ৭ অগ্রহায়ণ ১৪২৬

ফিচার

চাঁদের বুকে হাজার হাজার ক্ষুদ্র প্রাণী!

বণিক বার্তা ডেস্ক

চলতি বছরের প্রথম দিকে চাঁদের বুকে আছড়ে পড়ে একটি ইসরায়েলি মহাকাশ যান। এই ব্যর্থ চন্দ্রাভিযানে মোটা অংকের টাকা ক্ষতিগ্রস্ত হলেও চাঁদে কয়েকহাজার অনুজীব রেখে এসেছে ইসরায়েল। এসব অনুজীবের প্রাণ এতোই শক্ত যে, বিরূপতম পরিবেশেও বেঁচে থাকতে পারে। এমনকি অক্সিজেনবিহীন ও শূন্য ডিগ্রি সেলসিয়াসের নিচে তাপমাত্রার মহাশূন্যেও এটির টিকে থাকার রেকর্ড আছে। এই অনুজীবটি এখন চাঁদের বুকে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ার আশংকা করছেন বিজ্ঞানীরা। খবর সিএনএন।

ইজরায়েলের মহাকাশযান ‘বেরেশিট’ ১১ এপ্রিল যান্ত্রিক গোলযোগের কারণে চাঁদের মাটিতে আছড়ে পড়ে বিধ্বস্ত হয়। ওই যানের বিশেষ প্রকোষ্ঠে ছিল অনেক কিছু। একটি ডিভিডির মতো দেখতে ডিস্কে ভরা ছিল পৃথিবী সম্পর্কে তথ্য। বিজ্ঞানীরা নাম দিয়েছিলেন ‘লুনার লাইব্রেরি’। এই চান্দ্র গ্রন্থাগারে ভরা ছিল মানুষের ইতিহাস নিয়ে ৩ কোটি পাতার তথ্য। অণুবীক্ষণ যন্ত্রের নিচে যা পড়া যাবে। আরো ছিল মানুষের ডিএনএ। আর ছিল কৃত্রিম রজনের তৈরি একটি বিশেষ প্রকোষ্ঠ। সেখানে শুকিয়ে, কার্যত শীতনিদ্রায় পাঠিয়ে ভরে দেয়া ছিল কঠিন প্রাণ টারডিগ্রেড। কয়েক হাজার ডিহাইড্রেটেড টারডিগ্রেড শীতনিদ্রা থেকে জাগবে, যদি কখনো পানি বা বাতাস সংস্পর্শে আসে।

এক মিলিমিটারেরও কম দৈর্ঘ্যের প্রাণী টারডিগ্রেডকে বলে ‘ওয়াটার বেয়ার’ বা জল ভালুক। অনেকে "e;ঢেঁকিশাক শুকরছানা"e; নামেও ডাকেন।

ইসরায়েলের ওই চান্দ্র অভিযানের গোটা ভাবনার নেপথ্যে ছিল ‘আর্চ মিশন ফাউন্ডেশন’ নামে একটি স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা। তাদের লক্ষ্য, মানুষের জ্ঞানের ভাণ্ডার আর পৃথিবীর জীববৈচিত্র্যকে সৌরজগতে ছড়িয়ে দেয়া। ‘বেরেশিট’-এর সর্বশেষ কক্ষপথ বিশ্লেষণ করে স্বেচ্ছাসেবী সংস্থাটির সহ-প্রতিষ্ঠাত্রী নোভা স্পিভাক বলেছেন, আমাদের বিশ্বাস, টারডিগ্রেডদের বেঁচে থাকার সম্ভাবনা প্রবল। কারণ, ১৫০ ডিগ্রি থেকে মাইনাস ২৭২ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত তাপমাত্রায় বেঁচে থাকতে পারে টারডিগ্রেডরা। বাঁচতে পারে মহাশূন্যের একেবারে চাপশূন্য, বাতাসশূন্য অবস্থা কিংবা পৃথিবীর গভীরতম সমুদ্রখাত মারিয়ানা ট্রেঞ্চের ভয়ঙ্কর চাপেও। দীর্ঘদিন ধরে শুকনো ভুষির মতো রেখে দেয়া যায় এদের। যুক্তরাষ্ট্রের বেকার বিশ্ববিদ্যালয়ের টারডিগ্রেড বিশেষজ্ঞ উইলিয়াম মিলার মনে করছেন, চন্দ্রপৃষ্ঠের প্রায়-চাপশূন্য অবস্থা সামলে ঠিকই টিকে যাবে তারা।

‘চন্দ্রযান-১’ চাঁদে পানির আভাস দিয়েছিল। এটি সত্যি হলে কোনো না কোনো দিন পানির ছোঁয়া পেয়ে জেগে উঠতেই পারে মাত্র এক মিলিটার আকারের আট পা বিশিষ্টা টরডিগ্রেডরা। করতে পারে বংশবৃদ্ধিও। তবে তাদের পৃথিবীতে ফেরার পথ বন্ধ বলে আশ্বস্ত করেছেন বিজ্ঞানীরা।

এদিকে ২০২৪ সালে চাঁদের দক্ষিণ মেরুতে মহাকাশচারী পাঠানোর কাজ শুরু করেছে নাসা। মার্কিন মহাকাশ গবেষণা সংস্থার সেই যানও নামবে ‘বেরেশিট’-এর দুর্ঘটনাস্থল থেকে অনেক দূরে। ফলে ধরে নেয়া হচ্ছে, নাসার যানের কাছাকাছি পৌঁছতে পারবে না টারডিগ্রেডরা। ঘুম ভাঙলে চাঁদের কোনো পাহাড়ে কলোনি তৈরি করতে পারে তারা।

এই বিভাগের আরও খবর

আরও পড়ুন