রবিবার | নভেম্বর ১৭, ২০১৯ | ৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৬

আন্তর্জাতিক ব্যবসা

সৌদি আরামকো-ভারত যৌথ শোধনাগার নির্মাণ ব্যয় বাড়ছে ৩৬%

বণিক বার্তা ডেস্ক

সৌদি আরামকো ও আবুধাবি ন্যাশনাল অয়েল কোম্পানির (অ্যাডনক) সঙ্গে যৌথভাবে নির্মিতব্য একটি তেল শোধনাগারের সম্ভাব্য নির্মাণ ব্যয় ৩৬ শতাংশ বাড়াচ্ছে ভারত। কৃষকদের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে কারখানার নির্মাণ স্থান পরিবর্তন করায় ব্যয় বাড়ছে বলে জানিয়েছে চারটি সূত্র। খবর রয়টার্স।

প্রতিদিন ১২ লাখ ব্যারেল তেল শোধনে সক্ষম শোধনাগারটি পশ্চিমাঞ্চলীয় প্রদেশ মহারাষ্ট্রে নির্মাণ করা হচ্ছে। মুম্বাইয়ের ১০০ কিলোমিটার দক্ষিণে অবস্থিত রাইগাদ জেলার রোহাতে নির্মাণ হতে যাওয়া শোধনাগারটির সম্ভাব্য নতুন ব্যয় নির্ধারণ করা হয়েছে ৬ হাজার কোটি ডলার। গত মাসে নয়াদিল্লিতে সৌদি আরবের জ্বালানিমন্ত্রী খালিদ আল-ফলিহের সঙ্গে বৈঠকে ব্যয় বৃদ্ধির বিষয়টি অবহিত করেন ভারতের জ্বালানিমন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান। দুই মন্ত্রীর বৈঠক সম্পর্কে অবগত চারটি সূত্র এ তথ্য নিশ্চিত করে।

এক সূত্র জানায়, সৌদি আরবকে ৬ হাজার কোটি ডলার সম্ভাব্য ব্যয়ের হিসাবটি অবহিত করা হয়েছে। বিস্তারিত সম্ভাব্যতা যাচাই পরীক্ষা শেষে চূড়ান্ত সংখ্যাটা জানিয়ে দেয়া হবে। বিষয়টির সংবেদনশীলতার কারণে চারটি সূত্রই নাম প্রকাশে অপারগতা প্রকাশ করে।

২০১৮ সালে সৌদি আরামকোর সঙ্গে চুক্তি স্বাক্ষরের সময় শোধনাগার নির্মাণের আনুমানিক ব্যয় ধরা হয়েছিল ৪ হাজার ৪০০ কোটি ডলার। ব্যয় বাড়লেও পরিকল্পনা অনুযায়ী ২০২৫ সালের মধ্যে প্রকল্প বাস্তবায়ন হবে বলে জানিয়েছে সূত্রগুলো।

বিশ্বের তৃতীয় বৃহত্তম তেল আমদানিকারক দেশ ভারত ২০৩০ সাল নাগাদ তাদের রিফাইনিং ক্ষমতা ৭৭ শতাংশ বাড়িয়ে দৈনিক ৮৮ লাখ ব্যারেলে নিয়ে আসতে চায়। মুম্বাইয়ের ৪০০ কিলোমিটার দক্ষিণে রত্নগিরিতে প্রাথমিকভাবে তেল শোধনাগার স্থাপনের পরিকল্পনা নেয়া হয়েছিল। কিন্তু কৃষকরা জমি হস্তান্তরে রাজি না হওয়ায় ভূমি অধিগ্রহণ স্থগিত করার সিদ্ধান্ত নেয় রাজ্য সরকার। প্রকল্পটি বাস্তবায়ন হলে আলফনসো আম, কাজুবাদাম চাষ ও মাছ সংগ্রহের জন্য বিখ্যাত এ অঞ্চলের ক্ষতি হবে এমন আশঙ্কায় তাতে বাধা দিয়েছিলেন কৃষকরা।

এদিকে শোধনাগার স্থানান্তরের ফলে নির্মাণ ব্যয় বড় আকারে বেড়ে যাচ্ছে। সিঙ্গাপুরভিত্তিক পরামর্শক প্রতিষ্ঠান এফজিইর পরিচালক প্যারাভাইক্কারাসু বলেন, এটা আসলে অনেক বড় ব্যয় বৃদ্ধির ঘটনা। কিন্তু যেহেতু প্রকল্পটি অনেক বড়, তাই এ ধরনের বিনিয়োগ প্রত্যাশিতই।

তবে তার প্রতিষ্ঠান এ ব্যাপারে সন্দিহান, ২০২৫ সালের মধ্যে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন সম্ভব কিনা।

সূত্রগুলো বলছে, প্রকল্পের জন্য ভূমি অধিগ্রহণে দেরি হওয়ায় ব্যয় বাড়ছে। সব হিসাব নিয়ে ফের বসতে হচ্ছে বলে জানায় তারা। মহারাষ্ট্র রাজ্য সরকার বলছে, আগামী ডিসেম্বরের শেষ নাগাদ নতুন সাইটের জন্য ভূমি অধিগ্রহণ সম্ভব হবে।

এই বিভাগের আরও খবর

আরও পড়ুন