রবিবার | নভেম্বর ১৭, ২০১৯ | ৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৬

আন্তর্জাতিক ব্যবসা

ফ্রান্সের শ্লথগতিতে আরো বিপাকে ইউরোজোন

বণিক বার্তা ডেস্ক

ফ্রান্সের অর্থনীতি দ্বিতীয় প্রান্তিকে অনাকাঙ্ক্ষিতভাবে শ্লথ হয়ে পড়েছে। ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) বৃহত্তম অর্থনীতি জার্মানির ম্যানুফ্যাকচারিং খাত সম্প্রতি শ্লথ হয়ে পড়ায় এ অঞ্চলের অর্থনীতি এমনিতেই দুর্বল হয়ে পড়েছে। তদুপরি ফ্রান্সের অর্থনীতির শ্লথগতি ইউরোজোনকে আরো ঝুঁকির মুখে ফেলেছে। খবর ব্লুমবার্গ।

চলমান শ্লথ বৈশ্বিক অর্থনীতি ফ্রান্সের অর্থনীতিতে তেমন একটা আঁচড় কাটতে না পারায় এবং অনেক বেশি অভ্যন্তরীণ চাহিদানির্ভর হওয়ায় দেশটির অর্থনীতি স্থিতিশীল থাকতে পারবে বলে পূর্বাভাস করেছিলেন বিশেষজ্ঞরা। তাছাড়া দেশটির অর্থনীতি চাঙ্গা করতে প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল মাখোঁ ১ হাজার ৭০০ কোটি ইউরো প্রণোদনা দেয়ায় দেশটির অর্থনীতি দুর্বল হয়ে পড়ার সম্ভাবনা কম বলে ধারণা করেছিলেন সংশ্লিষ্টরা। এদিকে ইয়েলো ভেস্ট আন্দোলনের পরিপ্রেক্ষিতে কর কর্তন করা সত্ত্বেও ভোক্তা ব্যয় দ্বিতীয় প্রান্তিকে হ্রাস পেয়েছে।

দ্বিতীয় প্রান্তিকে দেশটির প্রবৃদ্ধি দশমিক ৩ শতাংশ হতে পারে বলে অর্থনীতিবিদরা পূর্বাভাস করলেও এ প্রান্তিকে প্রবৃদ্ধি হয়েছে মাত্র দশমিক ২ শতাংশ। ইউরো অঞ্চলের অন্যান্য দেশেও দ্বিতীয় প্রান্তিকে প্রবৃদ্ধি প্রত্যাশার তুলনায় কমার সম্ভাবনা রয়েছে। অর্থনৈতিক পূর্বাভাস ক্রমে দুর্বল হয়ে পড়ায় গত সপ্তাহে এ অঞ্চলের সরকারগুলোকে সতর্ক করেছেন ইউরোপিয়ান সেন্ট্রাল ব্যাংকের (ইসিবি) প্রধান মারিও দ্রাঘি। ইইউভুক্ত দেশগুলোর সরকারকে নিজ নিজ দেশের আর্থিক সহায়তা বাড়ানোর জন্য অনুরোধ করেছেন তিনি। এদিকে সেপ্টেম্বরে ইসিবির নিজেদের নতুন মুদ্রানীতি ঘোষণা করার কথা রয়েছে।

ইউরো অঞ্চলের অর্থনীতিগুলোর মধ্যে ফ্রান্সের দুঃসংবাদ সবার আগে এলেও অন্যান্য দেশের অবস্থাও অনুরূপ হতে পারে বলে জানিয়েছেন অর্থনীতিবিদরা। প্রকাশিত পরিসংখ্যানে ইউরোজোনের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি দ্বিতীয় প্রান্তিকে দশমিক ২ শতাংশে দাঁড়াতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। অথচ প্রথম প্রান্তিকে এ অঞ্চলের প্রবৃদ্ধি ছিল দশমিক ৪ শতাংশ। বৈশ্বিক বাণিজ্য উত্তেজনার কারণে চাহিদা ও ম্যানুফ্যাকচারিং হ্রাস পাওয়ায় এ অঞ্চলের অর্থনীতি শ্লথ হয়ে পড়েছে বলে জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। এরই মধ্যে জার্মানির অর্থনীতিও সংকুচিত হয়েছে বলে জানিয়েছে বুন্দেসব্যাংক।

অভ্যন্তরীণ চাহিদার কারণে ফ্রান্সের অর্থনীতি সাধারণত চাঙ্গা থাকে। বিশেষত কোম্পানিগুলোর বিনিয়োগ ও সরকারি ব্যয় বাড়লেই দেশটির অর্থনীতিতে ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা লক্ষ করা যায়। মজুদ পণ্যকে উৎপাদন হিসেবে দেখালে নিট বাণিজ্য অর্থনীতিতে কোনো অবদান রাখতে পারে না বা প্রবৃদ্ধি বাড়াতে কোনো সাহায্য করতে পারে না বলে জানিয়েছেন অর্থনীতিবিদরা।

এই বিভাগের আরও খবর

আরও পড়ুন