খেলা

জাতীয় পুরস্কার যেখানে আক্ষেপ

ক্রীড়া ডেস্ক | ২২:০৪:০০ মিনিট, আগস্ট ২৯, ২০১৬

স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম দ্রুততম মানবী শামীম আরা টলি। জাতীয় পুরস্কারের জন্য মনোনীত হন ২০০৯ সালে। পুরস্কার-সংক্রান্ত ঘোষণা দেয়া হয় ২০১০ সালে। পুরস্কার বিতরণ করা হয় ২০১২ সালে। স্বীকৃতি স্মারক ছুঁয়ে দেখা হয়নি সাবেক এ স্প্রিন্টারের। পুরস্কার প্রদানের এক বছর আগেই লোকান্তরিত হন শামীম আরা টলি।

যে স্বীকৃতি হওয়ার কথা ছিল গর্বের, অহঙ্কারের। তা এখন শামীম আরা টলির পরিবারের আক্ষেপের অধ্যায়। মোহাম্মদপুর ইকবাল সড়কের ৯/৩ মিনি ভিলায় জীবনের শেষ দিকে স্বীকৃতি স্মারক হাতে তোলার তীব্র আকাঙ্ক্ষা ছিল দেশের প্রথম দ্রুততম মানবীর। তার আগেই টলি দেহান্তরিত হওয়ায় জাতীয় পুরস্কারটা পরিবারের সদস্যদের কাছে কেবলই ধাতব-খণ্ড! স্বামী জহিরুল হক রতনও সাবেক কৃতী অ্যাথলিট, খেলতেন দৌড়ের দূরপাল্লার ইভেন্টে। জহিরুল হক রতনের মতো দুই সন্তান মঞ্জুরুল হক পলাশ ও শায়লা নাসরিন ডালিয়ার কাছেও জাতীয় পুরস্কার আক্ষেপের অধ্যায়।

ক্রীড়াঙ্গনে কান পাতলে শোনা যাবে এমন আরো দীর্ঘশ্বাস। সাবেক কৃতী হকি খেলোয়াড় জুম্মন লুসাইয়ের ক্ষেত্রেও ঘটেছে একই ঘটনা। ২০১১ সালের জাতীয় পুরস্কারের জন্য মনোনীত হন সাবেক এ হকি তারকা। পুরস্কার প্রদানের দীর্ঘসূত্রতায় স্বীকৃতিটা হাতে তোলা হয়নি। ২০১৫ সালের ১৮ জানুয়ারি ৫৯ বছর বয়সে অনন্তলোকের পথে হাঁটেন তিনি। ‘পুরস্কারটা বার্ষিক, প্রতি বছরই তা দিয়ে দেয়া উচিত’— ক্রীড়া পুরস্কার সম্পর্কে বণিক বার্তাকে বলছিলেন স্বাধীন বাংলা ফুটবল দলের অধিনায়ক জাকারিয়া পিন্টু; যিনি ১৯৭৮ সালে ক্রীড়া পুরস্কার ও ১৯৯৫ সালে স্বাধীনতা পুরস্কার পেয়েছেন।

পুরস্কার প্রদানের দীর্ঘসূত্রতা সম্পর্কে জাকারিয়া পিন্টু বলেন, ‘জীবদ্দশায় যদি কেউ পুরস্কার দেখে যেতে না পারে, তবে ওই স্বীকৃতি দিয়ে লাভ কী?’ টানা আট মৌসুম মোহামেডানের অধিনায়কত্ব করা সাবেক এ তারকা যোগ করেন, ‘ক্রীড়াঙ্গনে জীবন-যৌবনের সেরা সময়টা দেয়ার বিপরীতে কৃতী অ্যাথলিট ও সংগঠকরা এ পুরস্কার পান। যাদের মনোনীত করা হয় তারা যাতে নিজ হাতে পুরস্কারটা গ্রহণ করতে পারেন, সেদিকে দৃষ্টি দেয়া জরুরি। এটা ঠিক যে, সব ক্ষেত্রে এটা সম্ভব হবে না।’

২০১০, ২০১১ ও ২০১২ সালে জাতীয় পুরস্কারের জন্য মনোনীত হয়েছেন ৩২ জন। ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে তাদের হাতে পুরস্কার তুলে দেয়া হবে আগামী ৪ সেপ্টেম্বর। আহাদ আলী সরকার যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী থাকাকালীন পুরস্কারের জন্য মনোনয়ন প্রক্রিয়া শুরু হয়, শেষ হয় ২০১৪ সালে। এত দিনে পুরস্কার তুলে দেয়া কেন? প্রশ্নের সঠিক উত্তর জানা নেই কারোর।

পুরস্কারের জন্য মনোনয়ন চূড়ান্ত করে জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ (এনএসসি)। খসড়া তালিকা তৈরি করে তা পাঠানো হয় যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ে। বিভিন্ন ব্যক্তির আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে খসড়া তালিকা করা হয়! মন্ত্রণালয়ে যাচাই-বাছাইয়ের পর বিভিন্ন ব্যক্তিকে জাতীয় পুরস্কারের জন্য মনোনীত করা হয়। খসড়া তালিকা থেকে চূড়ান্ত পর্যায় পর্যন্ত মনোনয়নের জন্য চলে জোর তদবির। এনএসসির ঘনিষ্ঠ সূত্র জানাচ্ছে, এটাই দীর্ঘসূত্রতার অন্যতম কারণ।

এ সম্পর্কে জাকারিয়া পিন্টু বলেছেন, ‘পুরস্কারের জন্য সঠিক একটা মানদণ্ড থাকা জরুরি। অনেকের কাছেই সারা জীবনের সাধনার ফসল হচ্ছে এ পুরস্কার। তদবির এবং কোনো প্রকার প্রভাব ছাড়াই এটা প্রদান করা উচিত।’ সাবেক এ ফুটবলারের মতে, মনোনয়নের জন্য গঠিত কমিটিতে প্রকৃত ক্রীড়া-সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সম্পৃক্ত করা জরুরি; ক্রীড়াঙ্গন সম্পর্কে যাদের রয়েছে সুস্পষ্ট ধারণা।