সর্বজয়া

হোস্টমাইটকে ঘিরে এগিয়ে যাওয়া

ফিচার প্রতিবেদক | ০০:০০:০০ মিনিট, সেপ্টেম্বর ১৯, ২০১৫

স্কুল, কলেজ আর বিশ্ববিদ্যালয়ের গণ্ডি পেরিয়ে ৯-৫টা অফিস— সময়ের এমন বেড়াজালে আর আটকে থাকতে রাজি নয় এ সময়ের তরুণ প্রজন্ম। চাকরির জন্য হন্যে হয়ে না ঘুরে স্বাধীনভাবে কিছু করার চেষ্টা করছে নিজেরাই। এক্ষেত্রে হাল আমলের প্রযুক্তির দিকে দৃষ্টি এদের অনেকের। প্রযুক্তিকে কাজে লাগিয়ে নানা রকম ব্যবসায়িক কৌশল উদ্ভাবন করছে তারা, নিজেরাই হয়ে উঠছে উদ্যোক্তা। কম পুঁজি, বেশি পরিশ্রম— অবশ্যম্ভাবী এ সূত্রকে কাজে লাগিয়ে সফলতাকে ছিনিয়ে আনছে তারা। জোবায়ের আলম বিপুল এমনই একজন পরিশ্রমী সফল উদ্যোক্তা। শূন্য হাতে তার উদ্যোক্তা জীবনের শুরু হলেও নিজের মেধা-বুদ্ধিকে দারুণভাবে কাজে লাগিয়ে আজ তিনি একজন প্রতিষ্ঠিত তরুণ উদ্যোক্তা। তার একক প্রচেষ্টায় দেশের ডোমেইন ও হোস্টিং ব্যবসায় প্রথম সারিতে উঠে এসেছে তার প্রতিষ্ঠান ‘হোস্টমাইট’। ডোমেইন রেজিস্ট্রেশন, ওয়েব হোস্টিং, ভিপিএস হোস্টিং বিক্রয় এবং এসএসএল সার্টিফিকেট সেবা নিয়ে সুনামের সঙ্গে এগিয়ে যাচ্ছে তার প্রতিষ্ঠান।

ভার্চুয়াল জগতের প্রতি শৈশব থেকেই অন্য রকম টান ছিল বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে ইংরেজিতে স্নাতকপড়ুয়া বিপুলের। টিফিনের টাকা বাঁচিয়ে সুযোগ পেলেই চলে যেতেন এলাকার সাইবার ক্যাফে। তথ্যপ্রযুক্তির সব ধরনের আপডেট খবর রাখতেন। ইন্টারনেটে বিভিন্ন ওয়েবসাইট দেখে নানা প্রশ্ন উঁকি দিত তার মনে। কীভাবে তৈরি করা হয় ওয়েবসাইট, তৈরি করতে কী কী লাগে, কোথায় পাওয়া যাবে এসব? এমন সব প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে গুগলে সার্চ করে বিভিন্ন আর্টিকেল ও টিউটোরিয়াল পড়তেন তিনি। নিয়মিত চোখ রাখতেন বিভিন্ন জাতীয় দৈনিকের তথ্যপ্রযুক্তির পাতায়। কম খরচে ওয়েবসাইট তৈরির বিজ্ঞাপনগুলোও পড়তেন মনোযোগ সহকারে। আপন মনে স্বপ্ন বুনতেন নিজের একটি ওয়েবসাইটের। সে লক্ষ্যে নিয়মিত যোগাযোগ রাখতেন বিজ্ঞাপনদাতাদের সঙ্গে।

নিজের ওয়েবসাইট তৈরির ভূত বয়ে নিয়েই স্কুলজীবন পেরিয়ে কলেজে ভর্তি হন বিপুল। অবশেষে পড়াশোনার খরচ বাঁচিয়ে কয়েক মাস পর তৈরি করেন নিজের একটি ওয়েবসাইট। ইন্টারনেট দুনিয়ায় তার মনোযোগ বাড়তেই থাকে। আন্তর্জাতিক তরুণ উদ্যোক্তাদের সম্পর্কে জেনে অনেকের মতো তিনিও স্বপ্ন দেখেন উদ্যোক্তা হওয়ার। স্বপ্নকে জয় করতে ডোমেইন হোস্টিং ব্যবসায় মনোনিবেশ করেন বিপুল। মায়ের দেয়া ল্যাপটপ আর হাত খরচের জমানো টাকায় ২০১০ সালে ‘ওয়ান আইটি বিডি’ নামে সীমিত আকারে ডোমেইন ও হোস্টিং ব্যবসা শুরু করেন। নিজের একাগ্রতা, মেধা-মনন, অক্লান্ত পরিশ্রম আর বিক্রয়োত্তর সেবা দেয়ায় (ক্লায়েন্ট সাপোর্ট) গ্রাহকদের কাছ থেকে সাড়াও পাচ্ছিলেন বেশ।

শুরুতে সাদামাটাভাবে অন্য একটি প্রতিষ্ঠান থেকে রিসেলার ভিত্তিতে হোস্টিং কিনে ব্যবসা শুরু করলেও পরে তিনি নিজেই সার্ভার কেনেন। ২০১১ সালের প্রথম দিকে আন্তর্জাতিক বাজারে কাজ করার লক্ষ্যে হোস্টমাইট নাম নিয়ে পুরোদমে ব্যবসা শুরু করেন। প্রচারণার জন্য বিভিন্ন ব্লগ ও ওয়েবসাইটে করেন পেইড মার্কেটিং। ফলে দেশের পাশাপাশি দেশের বাইরেও গ্রাহক তৈরি হয়। বাড়তে থাকে হোস্টমাইটের জনপ্রিয়তা।

নানা প্রতিকূলতা ও বিপত্তি ডিঙিয়ে বিপুলের হোস্টমাইট আজ দেশসেরা ডোমেইন হোস্টিং সেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান। ডোমেইন ও হোস্টিংয়ের পাশাপাশি ওয়েব ডিজাইন ও ডেভেলপমেন্টের কাজও করছে হোস্টমাইট। এমনকি চলতি মাসেই ই-কমার্স জগতে প্রবেশ করতে যাচ্ছে তার প্রতিষ্ঠান। বিদেশে সেবার পরিসর বাড়িয়ে দেশের অর্থনীতিতে অবদান রাখতে চান এ তরুণ উদ্যোক্তা।