পণ্যবাজার

যশোরে পেঁয়াজের দাম বেড়েছে কেজিতে ২০ টাকা

বণিক বার্তা প্রতিনিধি যশোর | ০০:০০:০০ মিনিট, জুলাই ২০, ২০১৯

চাষীদের ঘরে রাখা পেঁয়াজের মজুদ প্রায় শেষ হয়ে এসেছে। ফলে এখন অতিমুনাফালোভী একশ্রেণীর ব্যবসায়ীর মজুদ করা পেঁয়াজ বাজারে আসতে শুরু করেছে। যে কারণে বাজার এখন কার্যত তাদের নিয়ন্ত্রণে। এরই মধ্যে এক সপ্তাহের ব্যবধানে যশোরের বাজারে পেঁয়াজের দাম প্রতি কেজিতে বেড়েছে ২০ টাকা।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, যশোর বড়বাজারে গত সপ্তাহে প্রতি কেজি দেশী পেঁয়াজ খুচরা বিক্রি হয়েছিল ২৫ টাকা। কিন্তু দু-তিন দফা দাম বেড়ে প্রতি কেজি পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ৪৫ টাকায়। এছাড়া কয়েকজন বিক্রেতাকে বাছাই করা বড় আকারের পেঁয়াজ ৫০ টাকা কেজি দরে বিক্রি করতেও দেখা গেছে। আর ২০ টাকার ভারতীয় বড় আকারের পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে কেজিপ্রতি ৩৫ টাকায়।

বড়বাজারের ব্যবসায়ী তাপস কুমার বণিক বার্তাকে বলেন, চাষীদের মজুদ করা পেঁয়াজ শেষ হয়ে গেছে। বাজারে ব্যবসায়ীদের মাচায় রাখি করা (মজুদ রাখা) পেঁয়াজ আসতে শুরু করেছে। বাজার এখন মজুদদারদের হাতে চলে গেছে। অতিমুনাফালোভী রাখি ব্যবসায়ীরা বাজারে অল্প পরিমাণে পেঁয়াজ সরবরাহ করে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করছে। চাষীদের হাতে যখন পেঁয়াজ ছিল, তখন বাজার স্বাভাবিক গতিতে চলছিল বলে তিনি জানান।

তার মতে, দামও সে সময় সহনীয় পর্যায়ে ছিল। কিন্তু চাষীদের মজুদ পেঁয়াজ শেষ হওয়ার পর পরই বাজার চলে গেছে সিন্ডিকেটের নিয়ন্ত্রণে। মাত্র এক সপ্তাহের ব্যবধানে প্রতি কেজি পেঁয়াজে বেড়ে গেছে ২০ টাকা।

বড়বাজার কালিবাড়ী সংলগ্ন সবজি বাজারের আড়তদার মদিনা ভাণ্ডারের স্বত্বাধিকারী শেখ জিয়া বণিক বার্তাকে বলেন, ‘বর্তমানে ভারতের মহারাষ্ট্রের নাসিক থেকে পেঁয়াজ আমদানি হচ্ছে। কিন্তু সেখানেও পণ্যটির জোগান কমে এসেছে। এরপর দক্ষিণ ভারতের অন্ধ্র প্রদেশের পেঁয়াজ বাজারে এলে দাম অনেকটা কমে আসবে এবং বাজারও নিয়ন্ত্রণে চলে আসবে। তবে ওই পেঁয়াজ উঠতে এখনো মাসখানেক সময় লাগবে।’

গত বৃহস্পতিবার বাজার করতে আসা শহরের বেজপাড়া এলাকার বাসিন্দা রফিকুল ইসলাম বণিক বার্তাকে বলেন, ‘এক সপ্তাহ আগে দেশী পেঁয়াজ কিনেছি ২৫ টাকায়, আর আজ সেই একই পেঁয়াজ কিনতে হলো ৪৫ টাকায়। মাত্র সাতদিনেই কেজিতে বাড়তি ২০ টাকা।’ আসছে কোরবানি ঈদে প্রতি কেজি পেঁয়াজ ৬০ টাকা দরে কিনতে হতে পারে বলেও আশঙ্কা প্রকাশ করেন এ ক্রেতা।

আরেক ক্রেতা বকচর হুসতলা এলাকার বাদল রহমান বণিক বার্তাকে বলেন, পেঁয়াজ সিন্ডিকেটদের লাগাম টেনে ধরতে এখনই প্রশাসনের ব্যবস্থা নিতে হবে। তা না হলে সামনে ক্রেতাদের নাভিশ্বাস উঠবে।

যশোর বড়বাজারের পাইকারি ব্যবসায়ীরা সাধারণত সাতক্ষীরার ভোমরা স্থলবন্দর এলাকা থেকে আমদানি করা ভারতীয় পেঁয়াজ কিনে নিয়ে আনেন। সেখানকার স্থানীয় ব্যবসায়ীরা আমদানিকারদের কাছ থেকে পেঁয়াজ কিনে গুদামজাত করেন। এ কারণে ভোমরা স্থলবন্দর এলাকায় অসংখ্য গুদাম নির্মাণ করা হয়েছে।

ভোমরার পেঁয়াজ ব্যবসায়ী মো. শাহজাহান বণিক বার্তাকে বলেন, কিছুদিন আগেও ভোমরায় আমদানিকারকরা ৫০-৬০ ট্রাক পেঁয়াজ বিক্রি করতেন। কিন্তু ভারতে পেঁয়াজ সংকটের কারণে এখন ১০-২০ গাড়ি পেঁয়াজ তারা কিনতে পারছেন।

প্রতি বছর কোরবানি ঈদের সময় বাজারে পেঁয়াজের কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি হতে দেখা যায়। এ সময়টায় চাষীদের হাতে পেঁয়াজ মজুদ থাকে না। ফলে একশ্রেণীর অতিমুনাফালোভী ব্যবসায়ীর ঘরে হাজার হাজার মণ পেঁয়াজ গুদামজাত করা থাকে। বাজার বুঝে তারা বাড়তি দামে অল্প করে পেঁয়াজ বিক্রি করতে থাকেন। এতে করে বড় ধরনের একটা সংকট তৈরি হয়।