শেষ পাতা

প্রায় শেষ পদ্মা সেতুর পাইলিংয়ের কাজ

নিজস্ব প্রতিবেদক | ০০:০০:০০ মিনিট, জুলাই ২০, ২০১৯

মোট ৪২টি পিয়ারের (খুঁটি) ওপর গড়ে উঠছে পদ্মা সেতু। এসব পিয়ারের কোনোটিতে পাইল করা হয়েছে ছয়টি করে। আবার কোনোটিতে হয়েছে সাতটি করে। সব মিলিয়ে পাইলের সংখ্যা ২৯৪; পুরোপুরি কাজ শেষ হয়েছে ২৯৩টির। সবকিছু ঠিক থাকলে সর্বশেষ পাইলের কাজও শেষ হবে ১৫ জুলাইয়ের মধ্যে। এর মধ্য দিয়ে সম্পন্ন হতে চলেছে ২০১৪ সালের নভেম্বরে শুরু হওয়া পদ্মা সেতুর পাইলিং কার্যক্রম। সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের গতকাল সেতু ভবনে আয়োজিত এক অনুষ্ঠান শেষে এ কথা জানিয়েছেন।

তিনি বলেন, মূল সেতুর ২৯৪টি পাইলের মধ্যে ২৯৩টি সম্পন্ন হয়েছে। অবশিষ্ট একটি পাইল ড্রাইভের কাজও ১৫ জুলাইয়ের মধ্যে শেষ হবে। মূল সেতুর ৪২টি পিয়ারের মধ্যে ৩০টির কাজ সম্পন্ন হয়েছে। সেতুর মাওয়া প্রান্তে এ পর্যন্ত ট্রাস (স্প্যান) এসেছে ২৫টি, যার মধ্যে ১৪টি স্প্যান স্থাপন করা হয়েছে। ফলে সেতুর ২ হাজার ১০০ মিটার এখন দৃশ্যমান হয়ে উঠেছে।

সেতুমন্ত্রীর দেয়া তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের জুন শেষে পদ্মা বহুমুখী সেতু প্রকল্পের মূল সেতুর কাজের বাস্তব অগ্রগতি দাঁড়িয়েছে ৮১ শতাংশে। নদী শাসনের কাজ এগিয়েছে ৬০ শতাংশ। ৪২টি পিয়ারের মধ্যে ৩০টির কাজ পুরোপুরি শেষ হয়েছে। বাকিগুলোও শেষ হওয়ার পথে। ৪১টি স্প্যানের মধ্যে এখন পর্যন্ত সেতুতে স্থাপন করা হয়েছে ১৪টি। আরো ১১টি স্প্যান বর্তমানে মাওয়া প্রান্তের কনস্ট্রাকশন ইয়ার্ডে স্থাপনের জন্য প্রস্তুত অবস্থায় রাখা আছে। জাজিরা প্রান্তের সংযোগ সড়কের কাজও পুরোপুরি শেষ। সম্পন্ন হয়েছে সেতুর সার্ভিস এলাকা ও দুই পাড়ে টোলপ্লাজা নির্মাণের কাজও। মাওয়া প্রান্তের সংযোগ সড়কও প্রস্তুত।

এ সময় পদ্মা সেতু নিয়ে গুজব ছড়ানো ব্যক্তিদের আইনের আওতায় আনা হবে জানিয়ে ওবায়দুল কাদের বলেন, একটি মহল সরকারকে বিপদে ফেলতে গুজবের ডালপালা বিস্তার করছে। পদ্মা সেতু নিজস্ব অর্থায়নে হচ্ছে, এটা তারা সহ্য করতে পারছে না। গায়ে জ্বালা ধরছে। তাই তারা বলে লাখো মানুষের মাথা ও রক্তের প্রয়োজন।

বিএনপি নেতাদের উদ্দেশে ওবায়দুল কাদের বলেন, আপনারা কি বিভ্রান্ত হয়েছেন যে মানুষের কল্লা লাগবে? এত রক্ত দরকার! এসব অপপ্রচার। কী নির্মম-নিষ্ঠুর এদের রাজনীতি! আন্দোলনে ব্যর্থ। নির্বাচনে ব্যর্থ। এখন শুরু করেছে অপপ্রচার। অপপ্রচার ছাড়া এদের কোনো পুঁজি নেই। এ অপপ্রচারের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে।

প্রসঙ্গত, ২০১৭ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর ৩৭ ও ৩৮ নম্বর পিয়ারে প্রথম স্প্যান বসানোর মধ্য দিয়ে দৃশ্যমান হয় পদ্মা সেতু। দ্বিতলবিশিষ্ট সেতুর ৪২টি পিয়ারের মধ্যে ৪০টি স্থাপন করা হচ্ছে নদীবক্ষে। বাকি দুটি স্থাপন করা হচ্ছে নদীর দুই পাড়ে। দ্বিতল সেতুটির নিচতলায় রেল চলাচল করবে। যানবাহন চলবে ওপর দিয়ে।

সরকারের ফার্স্ট ট্র্যাকভুক্ত প্রকল্পটি নির্মাণ হচ্ছে সম্পূর্ণ নিজস্ব অর্থায়নে। ২০০৭ সালের আগস্টে প্রকল্পটি অনুমোদন দিয়েছিল তত্কালীন তত্ত্বাবধায়ক সরকার। ওই সময় প্রকল্পটির ব্যয় ধরা হয়েছিল ১০ হাজার ১৬১ কোটি টাকা। পরে আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় আসার পর সেতুর সঙ্গে রেলপথ যুক্ত করে প্রথম দফায় ব্যয় সংশোধন করে। বর্তমানে প্রকল্পের মোট নির্মাণ ব্যয় দাঁড়িয়েছে ৩০ হাজার ১৯৩ কোটি টাকায়।