শিল্প বাণিজ্য

রাজস্ব রিফান্ডে বাজেট বরাদ্দ দেয়া হবে না

নিজস্ব প্রতিবেদক | ০০:০০:০০ মিনিট, জুলাই ১২, ২০১৯

অগ্রিম বা অতিরিক্ত পরিশোধ করা মূল্য সংযোজন কর (মূসক) বা ভ্যাট, আমদানি শুল্ক ও শুল্ক রিফান্ডের জন্য আলাদা বাজেট বরাদ্দ দেয়া হবে না বলে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডকে (এনবিআর) জানিয়েছে অর্থ মন্ত্রণালয়। এমন প্রেক্ষাপটে ভ্যাট রিফান্ডের আবেদন মূল্য সংযোজন কর ও সম্পূরক শুল্ক আইন, ২০১২ এবং বিধিমালা, ২০১৬ মেনে নিষ্পত্তি করার জন্য সংশ্লিষ্ট সব শুল্ক, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটকে গতকাল চিঠি দিয়েছে এনবিআর। এনবিআর সূত্রে এ তথ্য জানা যায়।

এর আগে অগ্রিম বা অতিরিক্ত পরিশোধ করা রাজস্ব রিফান্ড নিয়ে অর্থ মন্ত্রণালয়ের কাছে বাজেট বরাদ্দ চেয়েছিল এনবিআর।

সূত্র জানায়, এক চিঠির মাধ্যমে অর্থ মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, জেনারেল ফিন্যান্সিয়াল রুলস (জিএফআর)-২০৩-এর নোট-১ অনুসারে আদায়কৃত রাজস্ব ফেরত প্রদানের ক্ষেত্রে সরকারি ব্যয় হিসেবে বিবেচিত হবে না। জিএফআর-২০৪ বিধি অনুযায়ী রিফান্ড প্রদানের ক্ষেত্রে রাজস্ব কর্তৃপক্ষ হিসেবে এনবিআরেরই প্রয়োজনীয় বিধিবিধান রয়েছে। তাই জিএফআর-২০৩ ও জিএফআর-২০৪ অনুযায়ী অতিরিক্ত আদায় করা রাজস্ব ফেরত প্রদানের ক্ষেত্রে কোনো বাজেট বরাদ্দের প্রয়োজন নেই। আর নতুন প্রণয়ন করা বাজেট অ্যান্ড অ্যাকাউন্টিং ক্ল্যাসিফিকেশন সিস্টেমসে (বিএসিএস) রাজস্ব ফেরতের জন্য আলাদা কোনো কোড রাখা হয়নি। তাই এনবিআর চাইলেও এ খাতে বাজেট বরাদ্দের কোনো সুযোগ নেই।

অর্থ মন্ত্রণালয় আরো জানায়, নতুন বিএসিএসে ব্যক্তি আয়কর, কোম্পানি আয়কর, দান কর, দেশজ পণ্য ও সেবার ওপর ভ্যাট, দেশজ পণ্যের ওপর সম্পূরক শুল্ক, দেশজ সেবার ওপর সম্পূরক শুল্ক, আমদানি পণ্যের ওপর ভ্যাট, আমদানি পণ্যের ওপর সম্পূরক শুল্ক, টার্নওভার ট্যাক্স, আবগারি শুল্ক, ভ্রমণ কর, কাস্টমস ডিউটি, সম্পূরক শুল্ক ও রফতানি শুল্কের জন্য আলাদাভাবে অর্থনৈতিক কোড নির্ধারণ করেছে অর্থ মন্ত্রণালয়। প্রতিটি অর্থনৈতিক কোডের  বিপরীতে প্রাপ্তি ও পরিশোধ আলাদাভাবে লেজার হিসেবে অন্তর্ভুক্ত হবে। রাজস্ব প্রাপ্তির ক্ষেত্রে অর্থনৈতিক কোডে ক্রেডিট করা হবে এবং ফেরত বা রিফান্ডের ক্ষেত্রে একই কোডে আইবিএএস++ সিস্টেমে ডেবিট করা হবে। এনবিআরকে এ পদ্ধতিতে রাজস্বের হিসাব রাখতে হবে।

আইবিএএস++ সিস্টেম নিয়ে অর্থমন্ত্রী ২০১৯-২০ অর্থবছরের বাজেট বক্তব্যে বলেন, চলতি অর্থবছর থেকে নতুন বাজেট ও হিসাবরক্ষণ শ্রেণীবিন্যাস পদ্ধতি চালুর মাধ্যমে আমাদের সরকারি আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করা হয়েছে। এজন্য দেশীয় বিশেষজ্ঞদের দিয়ে আইবিএএস++ সফটওয়্যার তৈরি করা হয়েছে।

এ বিষয়ে এনবিআরের ভ্যাট নীতির এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বলেন, অগ্রিম বা অতিরিক্ত আদায় করা রাজস্ব রিফান্ডের জন্য আমরা মন্ত্রণালয়ের কাছে বরাদ্দ চেয়েছিলাম। তবে বাজেট বরাদ্দের সুযোগ না থাকায় ভ্যাট রিফান্ড-সংক্রান্ত আবেদন নতুন ভ্যাট আইন অনুযায়ী করার জন্য আমরা সব ভ্যাট কমিশনারেটকে নির্দেশ দিয়েছি।

নতুন ভ্যাট আইনে রিফান্ড বিষয়ে বলা হয়েছে, নিবন্ধিত বা তালিকাভুক্ত ব্যবসায়ী আগাম বা অতিরিক্ত ভ্যাট পরিশোধ করলে, তিনি দাখিলপত্রে তা সমন্বয় করতে পারবেন। আর নিবন্ধিত না হলে আগাম বা অতিরিক্ত ভ্যাট ফেরতের জন্য সংশ্লিষ্ট কমিশনারের কাছে আবেদন করবেন। কমিশনার এ বিষয়ে ব্যবস্থা নেবেন এবং আবেদনের তিন মাসের মধ্যে অগ্রিম আদায় ফেরত দেবেন। উৎসে করের ক্ষেত্রে বলা হয়েছে, কর পরিশোধের ছয় মাসের মধ্যে করদাতাকে সমন্বয় করা লাগবে। আর ছয় মাস পর সমন্বয়ের দাবি তামাদি হয়ে যাবে। অর্থাৎ সমন্বয় করা যাবে না।