শেয়ারবাজার

ফার্স্ট ফিন্যান্সের সঞ্চিতি ঘাটতি ৪৬ কোটি টাকা

নিজস্ব প্রতিবেদক | ০০:০০:০০ মিনিট, জুলাই ১২, ২০১৯

ব্যাংকবহির্ভূত আর্থিক প্রতিষ্ঠান ফার্স্ট ফিন্যান্স লিমিটেডের সঞ্চিতি ঘাটতির পরিমাণ ৪৬ কোটি টাকায় দাঁড়িয়েছে। প্রতিষ্ঠানটির আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে পাঁচ বছরের মধ্যে এ ঘাটতি সমন্বয় ও সঞ্চিতি বাড়ানোর অনুমোদন দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এছাড়া প্রতিষ্ঠানটি বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছ থেকে তিন বছরের মধ্যে পুঞ্জীভূত সুদ ব্যয় ও ঘাটতি বাবদ ৪৪ কোটি ৭৩ লাখ টাকা সমন্বয়ের অনুমোদন নিয়েছে। ফার্স্ট ফিন্যান্সের আর্থিক প্রতিবেদনে নিরীক্ষক জি কিবরিয়া অ্যান্ড কোম্পানি চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্টসের পর্যবেক্ষণে এসব বিষয় উঠে এসেছে।

ফার্স্ট ফিন্যান্সের ৩১ ডিসেম্বর সমাপ্ত ২০১৮ হিসাব বছরের আর্থিক প্রতিবেদনে নিরীক্ষক বেশকিছু বিষয়ে এমফেসাইজ অব ম্যাটার দিয়েছেন। এর মধ্যে ঋণ, লিজ ও অগ্রিমের বিপরীতে ৪৬ কোটি টাকা সঞ্চিতি ঘাটতির বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করে নিরীক্ষক বলছে, প্রতিষ্ঠানটি ২০২০ সাল থেকে পাঁচ বছরের মধ্যে এ ঘাটতি সমন্বয়ের জন্য বাংলাদেশ ব্যাংকের অনুমোদন নিয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংক গত ২৩ জুন এক চিঠির মাধ্যমে এ অনুমোদন দিয়েছে। তাছাড়া প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক বিবরণী ও জেনারেল লেজারের মধ্যে ২০ কোটি ৫৮ লাখ টাকা ঋণ, লিজ ও অগ্রিমের হিসাবে ঘাটতি রয়েছে। এ বছরের মার্চ থেকে তিন বছরের মধ্যে এ ঘাটতি সমন্বয়ে বাংলাদেশ ব্যাংক অনুমোদন দিয়েছে। ২০১৬ সালের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত মেয়াদি আমানতের ওপর ২৪ কোটি ১৫ লাখ টাকার সুদ ব্যয় পুঞ্জীভূত রয়েছে। এটিও তিন বছরের মধ্যে সমন্বয়ের জন্য বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছ থেকে অনুমোদন নিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। তাছাড়া প্রতিষ্ঠানটি তাদের ব্যালান্স শিটে একটি বিলম্বিত সুদ ব্যয় সম্পদের হিসাব দেখিয়েছে। এর মধ্যে ৮ কোটি ৮ লাখ টাকা এ বছরের মধ্যে আর ২১ লাখ ৯৪ হাজার ৯২৪ টাকা আগামী বছরের মধ্যে ব্যয় করতে হবে।

নিরীক্ষকের পর্যবেক্ষণ অনুসারে ফার্স্ট ফিন্যান্স বাংলাদেশ ব্যাংক নির্ধারিত নগদ অর্থ জমা (সিআরআর) রাখতে ব্যর্থ হয়েছে। গত বছরের জানুয়ারি থেকে জুন পর্যন্ত সিআরআর সংরক্ষণে ব্যর্থতার কারণে বাংলাদেশ ব্যাংক প্রতিষ্ঠানটিকে ২০ লাখ টাকা জরিমানা করেছে। তাছাড়া জুলাইয়ে সিআরআর সংরক্ষণে ব্যর্থতার কারণে প্রতিষ্ঠানটিকে ৬২ লাখ ৩৭ হাজার টাকা জরিমানা করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। তবে প্রতিষ্ঠানটি বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছে ১০ লাখ টাকা পরিশোধ করে জরিমানার অবশিষ্ট অর্থ মওকুফের জন্য আবেদন করেছে। এছাড়া ফার্স্ট ফিন্যান্স শেয়ারহোল্ডারদের অনুমোদন ছাড়াই এর একজন পরিচালককে ৭০ লাখ টাকা ঋণ দিয়েছে। প্রতিষ্ঠানটির পরবর্তী বার্ষিক সাধারণ সভায় (এজিএম) এ বিষয়ে শেয়ারহোল্ডারদের অনুমোদন নেয়া হবে বলে নিরীক্ষককে জানানো হয়েছে।

উল্লেখ্য, সর্বশেষ সমাপ্ত ২০১৮ হিসাব বছরে ফার্স্ট ফিন্যান্সের কর-পরবর্তী লোকসান হয়েছে ৪০ কোটি ৫৩ লাখ টাকা। যেখানে এর আগের হিসাব বছরে লোকসান ছিল ৩০ কোটি ৪৯ লাখ টাকা। আলোচ্য হিসাব বছরে প্রতিষ্ঠানটির শেয়ারপ্রতি লোকসান হয়েছে ৩ টাকা ৪৯ পয়সা, যেখানে আগের বছর শেয়ারপ্রতি লোকসান ছিল ২ টাকা ৬২ পয়সা। ৩১ ডিসেম্বর প্রতিষ্ঠানটির শেয়ারপ্রতি নিট সম্পদমূল্য (এনএভিপিএস) ৭ টাকা ৩৯ পয়সায় দাঁড়িয়েছে।

ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) সর্বশেষ গতকাল ফার্স্ট ফিন্যান্স শেয়ারের দর ছিল ৫ টাকা ৫০ পয়সা। গত এক বছরে শেয়ারটির দর ৪ টাকা ৬০ পয়সা থেকে ৮ টাকা ২০ পয়সার মধ্যে ওঠানামা করে।

২০০৩ সালে শেয়ারবাজারে আসা প্রতিষ্ঠানটির বর্তমান পরিশোধিত মূলধন ১১৬ কোটি ২২ লাখ টাকা। ২০১৫ সাল শেষে রিজার্ভ ছিল ৩৫ কোটি ৬৪ লাখ টাকা। বর্তমানে কোম্পানির মোট শেয়ারের ৪১ দশমিক ৪৫ শতাংশ শেয়ার এর উদ্যোক্তা-পরিচালকদের কাছে, প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারী ১৯ দশমিক ৩৮ এবং বাকি ৩৯ দশমিক ১৭ শতাংশ শেয়ার রয়েছে সাধারণ বিনিয়োগকারীদের হাতে।