বাঘাইছড়িতে নিম্নাঞ্চল প্লাবিত, পানিবন্দী পাঁচ শতাধিক মানুষ

বণিক বার্তা প্রতিনিধি, রাঙ্গামাটি | ০০:০০:০০ মিনিট, জুলাই ২০, ২০১৯

গত শনিবার থেকে টানা বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলের পানিতে রাঙ্গামাটির দুর্গম উপজেলা বাঘাইছড়ির নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। এতে উপজেলার পাঁচ শতাধিক মানুষ পানিবন্দী হয়ে পড়েছেন। উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে পুরো উপজেলায় ২৫টির অধিক আশ্রয়কেন্দ্রে খোলা হয়েছে।

এর মধ্যে বাঘাইছড়ির মধ্যমপাড়া, মুসলিমব্লক, পুরান মারিশ্যা, বটতলীসহ বিভিন্ন এলাকায় মানুষ পানিবন্দি হয়ে জীবনযাবন করেছেন। এ কারণে ওই এলাকাগুলোতে পানীয় জলের সংকট দেখা দিয়েছে। অন্যদিকে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ হতে আশ্রয়কেন্দ্র খোলা হলেও বেশিরভাগ মানুষ তাদের আত্মীয়-স্বজনের বাড়িতে আশ্রয় নিয়েছে। ফলে আশ্রয়কেন্দ্রে মানুষের উপস্থিতি কম।

বাঘাইছড়ি পৌরসভার মেয়র জাফর আলী খান জানান, পৌরসভার বিভিন্ন এলাকার মানুষ পানিবন্দী হয়ে আছে। অনেকে আশ্রয়কেন্দ্রে না গিয়ে আত্মীয়ের বাড়িতে চলে গেছে। অস্বাভাবিক পানি বৃদ্ধিতে টিউবওয়েলগুলো ডুবে গিয়ে পানীয় জলের সংকট দেখা দিয়েছে। ইতোমধ্যে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে বেশ কয়েকটি আশ্রয়কেন্দ্র খোলা হয়েছে। যারা আশ্রয় কেন্দ্রে আসবে তাদের খাবারের ব্যবস্থা করা হবে।

বাঘাইছড়ি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. আহসান হাবিব জিতু বলেন, দ্রুতগতিতে নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হচ্ছে। বৃষ্টি না কমলে আরও অনেক এলাকা প্লাবিত হতে পারে। বিভিন্ন ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানরা স্ব স্ব আশ্রয়কেন্দ্রগুলোতে খাবারের ব্যবস্থা করছেন। পৌর এলাকায় আশ্রয়কেন্দ্রগুলোতে বাজার থেকে কিনে খাবার দিচ্ছি। পরিস্থিতি খারাপ হলে আশ্রয়কেন্দ্রের সংখ্যা আরও বাড়ানো হবে।

এদিকে বৃহস্পতিবার সকাল থেকেই রাঙ্গামাটি শহরের আশ্রয়কেন্দ্রগুলোতে মানুষের উপস্থিতি বাড়ছে। জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে আশ্রয়কেন্দ্রে অবস্থান করাদের দুপুরে খাবার দেওয়া হয়েছে।

পানি বৃদ্ধির বিষয়ে কর্ণফুলী জল বিদ্যুৎ কেন্দ্রের ব্যবস্থাপক এটিএম আবদুজ্জাহের বলেন, টানা কয়েকদিনে বৃষ্টিপাতের কারণে কাপ্তাই হ্রদের পানি বৃদ্ধি পেয়েছে। বুধবার রাত ৯টায় কাপ্তাই জল বিদ্যুৎ কেন্দ্রের রুলকার্ভ অনুযায়ী, পানির পরিমাণ ৮৫ দশমিক ৪৪ এমএসএল (মিন সি লেভেল)।