আন্তর্জাতিক খবর

ব্রিটিশ ট্যাংকার ‘আটকের চেষ্টা’ করেছে ইরান

বণিক বার্তা অনলাইন | ০০:০০:০০ মিনিট, জুলাই ১২, ২০১৯

ইরানি বিপ্লবী বাহিনীর পাঁচটি বোট একটি ব্রিটিশ তেল ট্যাংকার আটকের চেষ্টা করেছে বলে অভিযোগ করেছেন মার্কিন কর্মকর্তারা। বুধবার পারস্য উপসাগরে ইরানি জলসীমার কাছে এ ঘটনা ঘটে। পরে একটি ব্রিটিশ রণতরী বোটগুলোকে সতর্ক করলে তারা সেখান থেকে সরে যায়। খবর রয়টার্স, বিবিসি

তবে ব্রিটিশ তেল ট্যাংকার আটক চেষ্টার অভিযোগ অস্বীকার করেছে ইরানি বিপ্লবী বাহিনী। এক বিবৃতিতে তারা জানিয়েছে, স্বাভাবিক টহলের অংশ হিসেবে তাদের বোট ওখানে উপস্থিত ছিল।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে মার্কিন এক কর্মকর্তা বলেন, হরমুজ প্রণালীর উত্তর দিকের প্রবেশ মুখে ইরানের বিপ্লবী রক্ষী বাহিনীর বলে ধারণা করা পাঁচটি বোট তেলবাহী জাহাজ ব্রিটিশ হ্যারিটেজকে থামতে বলে। তবে সেখানে থাকা রাজকীয় নৌবাহিনীর এইচএমএস মন্ট্রোজ (যুদ্ধজাহাজ) তাদের বন্দুকগুলো ওই বোটগুলোর দিকে তাক করে রেডিওর মাধ্যমে তাদের সতর্ক করে। এরপর তারা সেখান থেকে চলে যায়।

এটাকে হয়রানি এবং ওই প্রণালীতে চলাচলে হস্তক্ষেপ করার চেষ্টা বলছেন আরেক মার্কিন কর্মকর্তা। এই ঘটনায় তাৎক্ষণিকভাবে ব্রিটিশ প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় কোনো মন্তব্য করেনি।

এর একদিন আগে মঙ্গলবার ইরান ও ইয়েমেন উপকূলীয় জলসীমায় নিজেদের নৌযান সুরক্ষায় সামরিক জোট গঠনের ঘোষণা দিয়েছে মার্কিন মেরিন জেনারেল জোসেফ ডানফর্ড।

এই ঘটনা এমন সময়ে ঘটলো যার এক সপ্তাহ আগে জিব্রাল্টার উপকূলে ব্রিটিশ রাজকীয় মেরিন ইরানি সুপার-ট্যাঙ্কার গ্রেস ১ জব্দ করে। ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) নিষেধাজ্ঞা লঙ্ঘন করে ওই ট্যাঙ্কারটি ইরান থেকে সিরিয়ায় অশোধিত তেল নিয়ে যাচ্ছে সন্দেহে সেটি আটক করে তারা।

এই ট্যাঙ্কার আটকের ঘটনায় ব্রিটেনকে ‘পরিণতি’ ভোগ করতে হতে পারে বলে বুধবার সকালে হুঁশিয়ার করেছিলেন ইরানের প্রেসিডেন্ট হাসান রুহানি।

লোহিত সাগরকে এডেন উপসাগর ও আরব সাগরের সঙ্গে সংযুক্তকারী বাব আল মানডেব প্রণালীটি ইয়েমেন সংলগ্ন। ইয়েমেনের ইরান-সমর্থিত হুতি বিদ্রোহীরা বিভিন্ন সময় এই জলপথে কয়েকটি জাহাজে হামলা চালিয়েছে বলে অভিযোগ যুক্তরাষ্ট্রের।

প্রতিদিন এই প্রণালী হয়ে প্রায় ৪০ লাখ ব্যারেল তেল ইউরোপ, যুক্তরাষ্ট্র ও এশিয়ার বিভিন্ন দেশে সরবরাহ করা হয়। নিজেদের তেল রপ্তানি করতে না পারলে নিজেদের উপকূল সংলগ্ন প্রণালীটি বন্ধ করে দেওয়ার হুমকি দিয়ে আসছে ইরান।

২০১৫ সালে ছয় বিশ্ব শক্তির সঙ্গে তেহরানের স্বাক্ষরিত এক পরমাণু চুক্তি থেকে ওয়াশিংটন বেরিয়ে গেলে এ উত্তেজনা দানা বাধতে শুরু করে। যুক্তরাষ্ট্র সম্প্রতি ইরানের ওপর আগের সব নিষেধাজ্ঞা পুনর্বহাল করেছে। যদিও তাদের ইউরোপীয় মিত্ররা এ পথে হাঁটেনি।

ওয়াশিংটন গত মাসে হরমুজ উপকূলের কাছে দুটি তেলবাহী ট্যাংকারে মাইন হামলার জন্য তেহরানকে দায়ী করলেও ইরান তা উড়িয়ে দিয়েছে। কয়েকদিন পর ইরান তাদের ‘আকাশসীমায় অবৈধভাবে ঢুকে পড়া’ একটি মার্কিন ড্রোনকে গুলি করে ভূপাতিত করলে দেশ দুটির মধ্যে যুদ্ধাবস্থা সৃষ্টি হয়।