আন্তর্জাতিক ব্যবসা

ইতালি কি হবে ইউরোপের পরবর্তী সংকটের কারণ?

বণিক বার্তা ডেস্ক    | ০০:০০:০০ মিনিট, জুলাই ২০, ২০১৯

এ মুহূর্তে পুরো বিশ্ব বাণিজ্যযুদ্ধ ও ব্রেক্সিটবিষয়ক অনিশ্চয়তা নিয়ে ব্যস্ত রয়েছে। কিন্তু এর বাইরে আরো একটি আর্থিক সংকট দানা বেঁধে উঠছে, যা সামগ্রিক স্থিতিশীলতার জন্য বড় ঝুঁকি হয়ে উঠতে পারে।

বছরের পর বছর ঋণ নেয়ায় আজ বিশাল ঋণের চাপে পর্যুদস্ত ইতালির সরকার। বর্তমানে দেশটির সরকারি ঋণের পরিমাণ ২ ট্রিলিয়ন পাউন্ড ছাড়িয়েছে, যা ইতালির জিডিপির ১৩০ শতাংশের বেশি। 

অন্যান্য আরো কিছু কারণসহ গত শতকের সত্তর ও আশির দশকে অনিয়ন্ত্রিত ব্যয়ের কারণে বর্তমানে ইতালির জাতীয় ঋণের পরিমাণ বিশ্বের তৃতীয় বৃহত্তম। এদিকে দেশটির এত বিশাল অংকের ঋণ ইউরোপীয় কমিশনের (ইসি) জন্য অস্বস্তির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। উল্লেখ্য, ইউরো অঞ্চলের সদস্য দেশগুলোর ঋণ গ্রহণ নিয়ন্ত্রণ করে ইসি।  

ইতালির বর্তমান জনতুষ্টিবাদী সরকারের ‘কম কর ও অধিক ব্যয়’ দৃষ্টিভঙ্গি বড় ধরনের বার্ষিক ঘাটতি তৈরি করছে। এ পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ব্রাসেলসের সঙ্গে দেশটির নিশ্চিতভাবেই সংঘাত ঘটবে।

ইতালির সরকার ঋণ কমানোর উপায় খুঁজবে, এ অনুমান থেকে আপাতত দেশটির স্বেচ্ছাচারিতার বিরুদ্ধে কোনো জরিমানা আরোপ করতে যাচ্ছে না কমিশন।

বিবিসিকে দেয়া এক সাক্ষাত্কারে ব্যাংক অব ইতালির গভর্নর ইগনাজিও ভিস্কো উচ্চ সরকারি ঋণ ও তা হ্রাসে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ উচিত বলে স্বীকার করেছেন। তবে তিনি এটাও স্বীকার করেন, বিষয়টি মোকাবেলা করা নিয়ে এ মুহূর্তে অনিশ্চয়তা সৃষ্টি হয়েছে এবং এ কাজ করতে গিয়ে সরকারকে ঝামেলায় পড়তে হচ্ছে।

সরকারি ঋণ কমিয়ে আনতে হলে কর বা ব্যয় অথবা উভয় খাতে সংস্কার কার্যক্রম বাস্তবায়ন করতে হবে, যা কখনই ইতালীয়দের কাছে জনপ্রিয় হবে না। সাম্প্রতিক বছরগুলোয় দেশটিতে মজুরি জীবনধারণ ব্যয়ের সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলতে ব্যর্থ হওয়া এর অন্যতম কারণ।

অর্থনৈতিক মন্দা এড়াতে সংগ্রাম করছে ইউরোপীয় অর্থনীতি। ইগনাজিও ভিস্কো দেশের গত ২০ বছরের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিকে ‘হতাশাজনক’ বলে আখ্যায়িত করেছেন। কিন্তু দেশের ভবিষ্যৎ রক্ষার জন্য অবকাঠামো খাতে আরো সরকারি বিনিয়োগ প্রয়োজন বলেও স্বীকার করেছেন তিনি।

তবে বিনিয়োগ বৃদ্ধি সম্ভব না-ও হতে পারে। কেননা ইউরোপের উচ্চ সমন্বিত প্রকৃতি এবং বৈশ্বিক আর্থিক ব্যবস্থার কারণে ইতালির শিথিল অর্থ ব্যবস্থাপনা গ্রহণের উপায় নেই বললেই চলে।

এদিকে ইতালির সরকারি ঋণের সিংহভাগই ব্যাংকের কাছে, যার বেশির ভাগই আবার স্থানীয় আর্থিক প্রতিষ্ঠান। তা সত্ত্বেও ইউরোপের অন্যান্য অংশের বহু ব্যাংকের কাছেও উল্লেখযোগ্য ঋণ রয়েছে। আর্থিক অবস্থা নিয়ে সৃষ্ট উদ্বেগ এরই মধ্যে দেশটির সরকারের ঋণ ব্যয় বাড়িয়ে তুলেছে। ফলে ইতালির ঋণ পরিশোধের সক্ষমতা নিয়ে বিনিয়োগকারীদের নেতিবাচক মনোভাব ব্যাংকগুলোর জন্য ক্ষতিকর হয়ে উঠবে। একই সঙ্গে ব্যাংকগুলোর অঞ্চলের ব্যবসা ও খানা ঋণ দেয়ার সক্ষমতা ক্ষতিগ্রস্ত হবে।

এমন একটি সময় ইতালির উদ্বেগ সামনে আসছে, যখন জার্মানি, ফ্রান্স ও যুক্তরাজ্যের মতো ইউরোপের অন্য প্রধান অর্থনীতিগুলো মন্থর প্রবৃদ্ধির মধ্যে রয়েছে। ব্যাংক অব ইংল্যান্ড এরই মধ্যে বড় পতন নিয়ে সতর্ক করেছে। এ ধরনের আর্থিক সংকট পুরো অঞ্চলের স্থিতিশীলতার জন্যই ঝুঁকি তৈরি করছে।

গভর্নর ভিস্কো আর্থিক ব্যবস্থার সমস্যা স্বীকার করে বলেন, আমরা এখন এমন একটি সময়ে রয়েছি, যখন ইউরোপীয় ব্যবস্থাপত্রও এর সর্বোচ্চ অবস্থানে নেই। ফলে গভীর উদ্বেগ রয়েছে এবং প্রতিটি দেশেরই নিজস্ব উদ্বেগ রয়েছে। তবে ইতালি এ পরিস্থিতি থেকে বের হয়ে আসতে পারবে বলে আত্মবিশ্বাস রয়েছে ভিস্কোর। কিন্তু যদি এমনটা না ঘটে, তবে কেবল ইতালীয়দেরই নয়, সবাই এর পরিণাম ভোগ করবে।   

 সূত্র: বিবিসি