২১ এপ্রিল-৮ জুলাই : প্রাকৃতিক দুর্যোগে গৃহহীন ৫ হাজার রোহিঙ্গা

কূটনৈতিক প্রতিবেদক | ০০:০০:০০ মিনিট, জুলাই ২০, ২০১৯

গত ২১ এপ্রিল থেকে ৮ জুলাই পর্যন্ত প্রবল বর্ষণ, ঝড়, ভূমিধস, বন্যা ও ঝড়ো বাতাসের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে কক্সবাজারের উদ্বাস্তু শিবিরগুলোয় বসবাসরত ৪২ হাজার ৪৭৪ জন রোহিঙ্গা। তাদের মধ্যে গৃহহীন হয়েছে ৫ হাজার ১৬৭ জন। উদ্বাস্তু সংকট মোকাবেলায় জাতিসংঘের নেতৃত্বে গঠিত ইন্টার সেক্টর কো-অর্ডিনেশন গ্রুপের (আইএসসিজি) সর্বশেষ প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।

আইএসসিজির প্রতিবেদন বলছে, গত ২১ এপ্রিল থেকে ৮ জুলাই পর্যন্ত বিভিন্ন প্রাকৃতিক দুর্যোগে ৪২ হাজার ৪৭৪ জন রোহিঙ্গা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এর মধ্যে শুধু গত সোমবারই ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ১ হাজার ৭৫৬ জন। এপ্রিল থেকে এখন পর্যন্ত বিভিন্ন প্রাকৃতিক দুর্যোগে প্রাণ হারিয়েছে আটজন রোহিঙ্গা। আহত হয়েছে ৬৪ জন। সব মিলিয়ে ক্ষতিগ্রস্ত খানার সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৮ হাজার ৯১৭। এর মধ্যে শুধু ভূমিধসেই ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ২ হাজার ৯০টি খানা। ঝড় ও বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে যথাক্রমে ৬ হাজার ৫০৩ ও ২৪৬টি খানা।

তথ্যমতে, রোহিঙ্গাদের ত্রাণ ও সেবা দেয়ার জন্য গঠিত বিভিন্ন কেন্দ্রও প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। গত ২৭ জুন থেকে ৪ জুলাই পর্যন্ত ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে মোট ১২৩টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। ১৭০টি আশ্রয়কেন্দ্র পুরোপুরি ভেঙে পড়েছে। এছাড়া আংশিক ও ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে যথাক্রমে ৩৯৭ ও ২৯১টি আশ্রয়কেন্দ্র।

প্রতিবেদনে বলা হয়, ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোয় সুপেয় পানি সরবরাহ ও পয়োনিষ্কাশনসহ প্রয়োজনীয় অন্যান্য মৌলিক সেবাও এখন ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। এগুলো অনতিবিলম্বে মেরামত করা প্রয়োজন।

এ বিষয়ে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন এক কর্মকর্তা বণিক বার্তাকে বলেন, সরকার সবার সঙ্গে সমন্বয়ের ভিত্তিতে এখানকার (রোহিঙ্গা শিবির) মানুষের সুরক্ষা ও নিরাপত্তা নিশ্চিতে কাজ করছে। প্রতি বছর বর্ষা মৌসুমে এখানকার রোহিঙ্গারা অনিরাপদ হয়ে পড়ে, যা বাংলাদেশের সুনাম নষ্ট করে। কক্সবাজারের অতিরিক্ত ঘনবসতিপূর্ণ স্থাপনার জনঘনত্ব কমাতে উদ্বাস্তুদের বসবাসের জন্য বিকল্প স্থান হিসেবে ভাসানচরকে চিহ্নিত করা হয়েছে। এ কারণে সরকার রোহিঙ্গাদের কক্সবাজার থেকে ভাসানচরে স্থানান্তর করতে চাইছে। তবে এতে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে জাতিসংঘসহ অন্যরা। ফলে সামনের দিনগুলোয় রোহিঙ্গাদের ক্ষয়ক্ষতির দায়ভার তাদেরই নিতে হবে।

প্রসঙ্গত, নোয়াখালীর ভাসানচরে এক লাখ রোহিঙ্গার জন্য এরই মধ্যে আশ্রয়কেন্দ্র নির্মাণ করেছে বাংলাদেশ। কিন্তু জাতিসংঘের আপত্তির মুখে উদ্বাস্তুদের স্থানান্তরের বিষয়টি দীর্ঘায়িত হয়ে পড়েছে। বিষয়টিকে সাধুবাদ জানালেও উদ্বাস্তুদের জন্য নিরাপদ ও টেকসই বসবাসের পরিবেশ, সুরক্ষা ও কার্যপরিচালনাসংক্রান্ত বিভিন্ন বিষয়ের কথা তুলে সেখানে এ আপত্তি জানাচ্ছে জাতিসংঘ।