আন্তর্জাতিক ব্যবসা

ওয়ার্ল্ড ওয়েলথ রিপোর্ট ২০১৯

চীন-মার্কিন বাণিজ্যযুদ্ধ ও সুদহার বৃদ্ধিতে সম্পদ কমেছে অতিধনীদের

বণিক বার্তা ডেস্ক    | ০০:০০:০০ মিনিট, জুলাই ২০, ২০১৯

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের চীনের সঙ্গে বাণিজ্যযুদ্ধ এবং সুদহার বৃদ্ধি নিয়ে উদ্বেগের কারণে গত বছর শেয়ারবাজারগুলোয় ২ লাখ কোটি ডলার হারিয়েছেন বিশ্বের অতিধনীরা। খবর গার্ডিয়ান।

দীর্ঘ সাত বছর ধারাবাহিক সম্পদ বৃদ্ধির পর ২০১৮ সালে বিশ্বের অতিধনী (সুপার রিচ) ব্যক্তিদের সমন্বিত সম্পদের মূল্য এক বছর আগের চেয়ে ৩ শতাংশ কমে ৬৮ দশমিক ১ ট্রিলিয়ন ডলারে দাঁড়িয়েছে। মূলত ক্রমবর্ধমান বাণিজ্য উত্তেজনার প্রভাবে আর্থিক বাজারগুলো পতনের জেরে এ পরিমাণ সম্পদ হারিয়েছেন অতিধনীরা। এ পতনে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে চীন।

মার্কিন-চীন বাণিজ্যযুদ্ধ ও যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় ব্যাংক ফেডারেল রিজার্ভের (ফেড) সুদহার বৃদ্ধির কারণে বৈশ্বিক অর্থনীতি নিয়ে ক্রমবর্ধমান অনিশ্চয়তায় গত বছর শেয়ারবাজারগুলোয় বড় পতন দেখা যায়। ফলে পেনশন তহবিল ও বিশ্বের অভিজাতদের বিনিয়োগ ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

ফরাসি পরামর্শদাতা প্রতিষ্ঠান ক্যাপজিমিনির বার্ষিক ‘ওয়ার্ল্ড ওয়েলথ রিপোর্ট ২০১৯’ অনুসারে, গত বছর ‘হাই নিট ওয়ার্থ ইনডিভিজুয়ালসের’ (এইচএনওয়াইআই) সংখ্যা প্রায় এক লাখ কমে ১ কোটি ৮০ লাখে দাঁড়িয়েছে। উল্লেখ্য, বিশ্বের অভিজাতদের নিয়ে জরিপ পরিচালনা করে ক্যাপজিমিনি।

মূলত যেসব ব্যক্তির ন্যূনতম ১০ লাখ ডলার বা তার বেশি ‘বিনিয়োগযোগ্য সম্পদ’ রয়েছে, তারাই এইচএনওয়াইআই হিসেবে বিবেচিত হন। এ হিসাবে ব্যক্তির মূল আবাসন ও গাড়ির মতো ভোগ্যপণ্য বাদ দেয়া হয়।

গত বছর বিশ্বের অতিধনীরা যে ২ ট্রিলিয়ন ডলার সম্পদ হারিয়েছেন, তার প্রায় ১ ট্রিলিয়ন ডলার এশিয়ায়। আর এর মধ্যে মোট এইচএনওয়াইআই সম্পদ হ্রাসের এক-তৃতীয়াংশ ঘটেছে চীনে। চীনা শেয়ারবাজারগুলোর পতন এর পেছনে মূল প্রভাব ফেলেছে।

এছাড়া বিশ্বের অন্যান্য অঞ্চলেও এইচএনওয়াইআই সম্পদ কমেছে। লাতিন আমেরিকায় ৪ শতাংশ, ইউরোপে ৩ ও উত্তর আমেরিকায় ১ শতাংশ কমতে দেখা গেছে। তবে এ সময়ের মধ্যে মধ্যপ্রাচ্যে এইচএনওয়াইআই সম্পদ ৪ শতাংশ বেড়েছে। মার্কিন জিডিপি বৃদ্ধি ও বেকারত্বের হার ষাটের দশকের পর সর্বনিম্নে দাঁড়ালেও যুক্তরাষ্ট্রের অতিধনীদের মোট সম্পদ কমেছে ১ শতাংশ।

উল্লেখ্য, বিশ্বের ৭০ শতাংশের বেশি অতিধনীর বাস যুক্তরাষ্ট্র, জাপান, জার্মানি, চীন, ফ্রান্স, যুক্তরাজ্য, সুইজারল্যান্ড ও কানাডায়।

বৈশ্বিক অর্থনীতির অস্থিতিশীলতার কারণে গত বছর এফটিএসই অল-ওয়ার্ল্ড সূচক ১১ দশমিক ৫ শতাংশ হারায়, যা ২০০৮-০৯ সালের আর্থিক সংকটের পর সবচেয়ে খারাপ বার্ষিক পারফরম্যান্স। প্রায় ২৯ হাজার ৯৬৩ কোটি ডলারের (২৪ হাজার কোটি পাউন্ড) বেশি মূল্য হারিয়েছে লন্ডন স্টক এক্সচেঞ্জের তালিকাভুক্ত শেয়ারগুলো। এছাড়া সাংহাই কম্পোজিট সূচক হারিয়েছে ২৫ শতাংশ, ফলে ব্যাপক লোকসানের সম্মুখীন হয়েছেন বিনিয়োগকারীরা। ক্যাপজিমিনি জানিয়েছে, ২০১৮ সালে শক্তিশালীভাবে যাত্রা করে বৈশ্বিক শেয়ারবাজারগুলো। কিন্তু সময়ের সঙ্গে সঙ্গে গতি হারিয়ে যেতে থাকে এবং একেবারে মন্থরগতি দিয়ে বছর শেষ হয়। এর প্রাথমিক কারণ ছিল ক্রমবর্ধমান সুদহার ও বাণিজ্যবিষয়ক উদ্বেগ।

বর্তমানে বিশ্বের সম্পদশালীরা এ বৃহৎ লোকসান পুষিয়ে নেয়ার চেষ্টা করছেন। কিন্তু এখনো বাকি বিশ্বের সঙ্গে তাদের বড় পার্থক্য রয়ে গেছে। এ ১ কোটি ৮০ লাখ এইচএনওয়াইআইয়ের প্রত্যেকের কাছে গড়ে অন্তত ৩০ লাখ ডলার রয়েছে। আর এদের মোট ৬৮ দশমিক ১ ট্রিলিয়ন ডলারের সম্পদ বিশ্ব অর্থনীতির প্রতি বছরের মোট উৎপাদনের প্রায় সমান।