পণ্যবাজার

ফের প্রশ্নের মুখে রুশ জ্বালানি তেলের মান

বণিক বার্তা ডেস্ক    | ০০:০০:০০ মিনিট, জুলাই ২০, ২০১৯

অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের বৈশ্বিক রফতানি বাণিজ্যে রাশিয়ার অবস্থান বেশ শক্তিশালী। দেশটি থেকে ইউরোপের বাজারে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ জ্বালানি তেল রফতানি হয়। অপরিশোধিত জ্বালানি তেল রফতানির জন্য রাশিয়া ও ইউরোপের মাঝে কয়েকটি পাইপলাইন রয়েছে। এর মধ্যে অন্যতম দ্রুঝবা পাইপলাইন। চলতি বছরের এপ্রিলে দ্রুঝবা পাইপলাইন দিয়ে ইউরোপের বাজারে রফতানি হওয়া রুশ জ্বালানি তেলে মাত্রাতিরিক্ত জৈব ক্লোরাইডের উপস্থিতি শনাক্ত করা হয়। এর জের ধরে পরিশোধন কেন্দ্রগুলোর যন্ত্রপাতির নিরাপত্তার স্বার্থে ইউরোপের কয়েকটি দেশ রাশিয়া থেকে দ্রুঝবা পাইপলাইন দিয়ে অপরিশোধিত জ্বালানি তেল আমদানি স্থগিত করেছিল। এ সংকটাবস্থা কাটিয়ে রফতানিযোগ্য জ্বালানি তেলের মান ফিরিয়ে এনে ইউরোপের বাজারে ফের পণ্যটির রফতানি শুরু করে রাশিয়া। তবে এখানেই সংকটের শেষ নয়। নতুন করে রুশ জ্বালানি তেলের মান নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে জার্মানির একটি পরিশোধন কেন্দ্র। তাদের দাবি, রাশিয়া থেকে রফতানি হওয়া জ্বালানি তেলের মান এখনো প্রশ্নবিদ্ধ। এর জের ধরে রাশিয়া থেকে জ্বালানি পণ্যটির আমদানি স্থগিত করেছে জার্মানির পূর্বাঞ্চলীয় পিসিকে পরিশোধন কেন্দ্রটি। খবর অয়েলপ্রাইসডটকম ও রয়টার্স।

অপরিশোধিত জ্বালানি তেল উত্তোলনের জন্য জৈব ক্লোরাইডের উপস্থিতি খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এসব উপাদান ছাড়া জ্বালানি পণ্যটি উত্তোলন করা সম্ভব নয়। তবে উত্তোলনের পর এক দফা পরিশোধনের মাধ্যমে জ্বালানি তেলে জৈব ক্লোরাইড নির্ধারিত মাত্রায় কমিয়ে আনা হয়। এরপর জ্বালানি পণ্যটি রফতানির অনুমোদন পায়। উচ্চ জৈব ক্লোরাইডযুক্ত জ্বালানি তেল পরিশোধন কেন্দ্রের যন্ত্রপাতি নষ্ট করে দিতে পারে। এ কারণে কোনো দেশ কিংবা কোম্পানি উচ্চ জৈব ক্লোরাইডযুক্ত অপরিশোধিত জ্বালানি তেল কিনতে চায় না।

গত এপ্রিলে দ্রুঝবা পাইপলাইন দিয়ে রাশিয়া থেকে রফতানি হওয়া অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের বেশকিছু চালান আটকে দেয় ইউরোপের কয়েকটি দেশ। এ তালিকায় জার্মানি, স্লোভাকিয়া, পোল্যান্ডসহ কয়েকটি দেশ রয়েছে। দেশগুলো অভিযোগ করে, উচ্চ জৈব ক্লোরাইডযুক্ত জ্বালানি তেল রফতানি করছে রাশিয়া। নিজেদের পরিশোধন কেন্দ্রগুলোর নিরাপত্তার বিষয়টি সামনে এনে ইউরোপীয় দেশগুলো দ্রুঝবা পাইপলাইন দিয়ে রাশিয়া থেকে অপরিশোধিত জ্বালানি তেল আমদানি বন্ধ করে দেয়। এ পাইপলাইন দিয়ে রাশিয়া থেকে ইউরোপের এসব দেশে প্রতিদিন গড়ে ১০ লাখ ব্যারেল অপরিশোধিত জ্বালানি তেল রফতানি হয়।

শুরুতে রাশিয়া এ অভিযোগ অস্বীকার করলেও একপর্যায়ে স্বীকার করে নিতে বাধ্য হয়। মস্কোর পক্ষ থেকে বলা হয়, ভুলবশত কোনো কারণে রফতানি হওয়া অপরিশোধিত জ্বালানি তেলে জৈব ক্লোরাইডের মাত্রা নির্ধারিত সীমায় নামিয়ে আনা হয়নি।

তবে এর মধ্য দিয়ে বিশ্বব্যাপী রুশ জ্বালানি খাত বড় ধরনের ভাবমূর্তি সংকটের মাঝে পড়ে যায়। রুশ জ্বালানি তেলের মান নিয়ে বিতর্ক শুরু হয়, যা বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে দেশটির অবস্থান চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলে দেয়। ওই সময় ইউরোপের বাজার সংকুচিত হয়ে আসায় এশিয়ার দেশগুলোয় অপরিশোধিত জ্বালানি তেল রফতানি বাড়ানোর চেষ্টা করে রাশিয়া। অনেকে অভিযোগ করেন, উচ্চমাত্রায় জৈব ক্লোরাইডযুক্ত জ্বালানি তেল তুলনামূলক কম দামে এশিয়ার দেশগুলোয় পাঠিয়েছে রাশিয়া। যদিও এর পক্ষে-বিপক্ষে সুনির্দিষ্ট কোনো প্রমাণ দেয়নি কেউ।

মে মাসের মাঝামাঝিতে মান পুনরায় নির্ধারিত মাত্রায় ফিরিয়ে এনে দ্রুঝবা পাইপলাইন দিয়ে ইউরোপের দেশগুলোয় নতুন করে অপরিশোধিত জ্বালানি তেল রফতানি শুরুর ঘোষণা দেয় রাশিয়া। গত মাসের শেষ দিকে এসে রফতানি কার্যক্রম শুরু হয়। দুই সপ্তাহ না যেতেই ফের নতুন করে প্রশ্নের মুখে পড়েছে রাশিয়ার জ্বালানি খাত।

জার্মানির পিসিকে পরিশোধন কেন্দ্রের মুখপাত্র বলেন, রাশিয়া থেকে দ্রুঝবা পাইপলাইন দিয়ে নতুন করে অপরিশোধিত জ্বালানি তেল রফতানি শুরু হয়েছে। তবে আমরা এখনো এ তেলের মান কাঙ্ক্ষিত অবস্থায় পাইনি। এখনো জ্বালানি তেলে জৈব ক্লোরাইডের হার নির্ধারিত মাত্রার বেশি রয়েছে। তাই আমরা এ পাইপলাইন দিয়ে রাশিয়া থেকে জ্বালানি পণ্যটির আমদানি সাময়িক বন্ধ রেখেছি এবং উদ্ভূত সমস্যার সমাধানে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করেছি।