টেলিকম ও প্রযুক্তি

মার্কিন ভিসা পেতে ফেসবুক-টুইটারে যে ৬ কাজ এড়িয়ে চলতে হবে...

০০:০০:০০ মিনিট, জুলাই ২০, ২০১৯

মার্কিন ভিসা পেতে হলে পর্যটক, শ্রমিক কিংবা শিক্ষার্থী সব ধরনের আবেদনকারীকে ফেসবুক-টুইটার অ্যাকাউন্টের তথ্য দিতে হবে, যা নতুন একটি আইনের মাধ্যমে বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। অর্থাৎ যারা মার্কিন ভিসা পেতে চান, তাদের প্রত্যেকের গত পাঁচ বছরের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের কার্যক্রম পর্যালোচনা করবে যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন কর্তৃপক্ষ। আবেদনকারীকে এ-সংক্রান্ত তথ্য ভিসা আবেদন ফরমের সঙ্গে সরবরাহ করতে হবে। যুক্তরাষ্ট্র ভ্রমণে ভিসা পেতে চাইলে ফেসবুক ও টুইটারের পাশাপাশি অন্যান্য সোস্যাল মিডিয়া প্লাটফর্মে যে কাজগুলো এড়িয়ে চলতে হবে, সেগুলো নিয়ে আজকের আয়োজন—

রাজনৈতিক পোস্ট বেশির ভাগ সোস্যাল মিডিয়া প্লাটফর্মকে এখন রাজনৈতিক প্রচার-প্রচারণার গুরুত্বপূর্ণ হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে। বিশেষত, রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে ঘায়েল করতে ফেসবুক-টুইটারের মতো প্লাটফর্মগুলোয় মিথ্যা বানোয়াট তথ্য পোস্ট করা হচ্ছে এবং এসব মিথ্যা তথ্য মুহূর্তের মধ্যে কোটি মানুষের কাছে পৌঁছে যাচ্ছে। কেউ যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা পেতে চাইলে রাজনৈতিক নেতিবাচক পোস্ট, রি-টুইট, রাজনৈতিক ব্যক্তিদের নিয়ে মিমিসহ যুক্তরাষ্ট্রবিরোধী যেকোনো পোস্ট কিংবা শেয়ার করা থেকে বিরত থাকতে হবে।

সহিংসতাকে না বলুন শুধু রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে ঘায়েল করতেই নয়, সোস্যাল মিডিয়া প্লাটফর্মের মাধ্যমে নির্দিষ্ট গোষ্ঠীকে লক্ষ্য করে ঘৃণাত্মক বক্তব্য ছড়ানো হচ্ছে। খোদ সোস্যাল মিডিয়া প্লাটফর্মগুলো নানা পদক্ষেপ নিয়ে নিজেদের সাইটে এ ধরনের কার্যক্রম ঠেকাতে হিমশিম খাচ্ছে। কাজেই সহিংসতা ছড়ায় কিংবা নির্দিষ্ট কোনো গ্রুপকে কেন্দ্র করে বৈষম্য সৃষ্টি করে, এমন পোস্ট এড়িয়ে চলতে হবে। মার্কিন ভিসা আবেদনকারীর নিজের প্রোফাইলে তো নয়, এ ধরনের পোস্টে লাইক, কমেন্ট কিংবা শেয়ার করা থেকে বিরত থাকবে হবে।

পার্টির ছবি পোস্ট করা এড়িয়ে চলুন যুক্তরাষ্ট্রে শিক্ষার্থী ভিসায় পছন্দের বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়তে যেতে চাইলে বিভিন্ন পার্টিতে অংশ নিয়েছেন, এমন ছবি সোস্যাল মিডিয়ায় পোস্ট করা এড়িয়ে চলুন। অ্যালকোহল, ড্রাগ কিংবা ধূমপানের ছবি যুক্তরাষ্ট্রের কোনো বিখ্যাত বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার স্বপ্ন নষ্ট করে দিতে পারে। এছাড়া চাকরি ভিসা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে যেতে চাইলেও একই নিয়ম অনুসরণ করতে হবে। কারণ শিক্ষার্থী ও চাকরির ভিসা দিতে এ বিষয়গুলো খুব গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করবে মার্কিন দূতাবাস।

যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী হওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করে পোস্ট নয় যে ক্যাটাগরিতেই যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা আবেদন করা হোক না কেন, আগেভাগেই দেশটিতে স্থায়ী বসবাসের ইচ্ছা প্রকাশ করে সোস্যাল মিডিয়ায় কোনো পোস্ট দেয়া এড়িয়ে চলতে হবে। অনেকেই শিক্ষার্থী ভিসায় যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে পড়াশোনা শেষ করেও আর ফেরত আসেন না। তবে এ সিদ্ধান্ত দেশটি যাওয়ার পর নেয়াই ভালো। সোস্যাল মিডিয়ায় আগে থেকে এমন ইচ্ছা প্রকাশ এবং তা ভিসা প্রদান কর্তৃপক্ষের দৃষ্টিগোচর হলে ভিসার আবেদন বাতিল হতে পারে।

রাগান্বিত ও অশ্লীল পোস্ট একদম নয় ফেসবুক টাইমলাইনে অশ্লীল পোস্ট শেয়ার করা থেকে বিরত থাকুন। এছাড়া বিশেষ কাউকে লক্ষ্য করে ফেসবুকে উল্টাপাল্টা পোস্ট দেয়া এড়িয়ে চলতে হবে। ফেসবুকে রাগ বা ক্ষিপ্ত হওয়ার ছবি অথবা ভিডিও পোস্ট দেয়া বোকামি। সবচেয়ে বড় বোকামি কোনো অশ্লীল ছবি, ভিডিও বা মন্তব্য রাখা। এসব পোস্ট দেখে আপনার ব্যক্তিত্ব সম্পর্কে একটা ধারণা নেয় অভিবাসন কর্তৃপক্ষ। কাজেই উল্টাপাল্টা পোস্ট না দিয়ে যেসব পোস্ট আপনার ব্যক্তিত্বকে ফুটিয়ে তোলে, তেমন পোস্ট টাইমলাইনে রাখুন।

পোস্ট মুছে দেয়া কিংবা অ্যাকাউন্ট প্রাইভেট করলে সন্দেহ বাড়ে যুক্তরাষ্ট্রে যাওয়ার আশায় ভিসা আবেদনের আগে যদি টাইমলাইন থেকে বিতর্কিত পোস্ট মুছে ফেলেন, তবে তাতে সন্দেহ কমে না, বরং আরো বাড়ে। টাইমলাইন থেকে পোস্ট মুছে ফেলা কিংবা প্রাইভেট করে ফেললে অভিবাসন কর্তৃপক্ষকে ফাঁকি দিতে পারবেন না। কোনো কিছু গোপন করার চেষ্টা তাদের সন্দেহ আরো বাড়িয়ে দেয়। কাজেই সোস্যাল মিডিয়ায় কোনো পোস্ট দেয়ার আগেই ভালোভাবে ভেবে নেয়া উচিত। ওই পোস্ট আপনার ব্যক্তিত্বে কোনো নেতিবাচক প্রভাব ফেলে কিনা।   

সূত্র: গ্যাজেটস নাউ