ধুনটে বকেয়া আদায়ে ২০০ বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন

বণিক বার্তা প্রতিনিধি বগুড়া | ০০:০০:০০ মিনিট, জুলাই ২০, ২০১৯

বগুড়ার ধুনট উপজেলায় আবাসিক ও বাণিজ্যিক গ্রাহকের কাছে ২ কোটি ৫০ লাখ টাকা পাওনা রয়েছে পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির (পবিস)। এ টাকা আদায়ে ৯ জুন থেকে অভিযান শুরু করেছে পবিস। এরই অংশ হিসেবে গতকাল বিকাল পর্যন্ত উপজেলার বিভিন্ন গ্রামে অভিযান চালিয়ে ২০০টি সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয়।

ধুনট পল্লী বিদ্যুৎ অফিস সূত্রে জানা যায়, উপজেলায় পল্লী বিদ্যুতের আবাসিক ও বাণিজ্যিক গ্রাহক প্রায় ৫৮ হাজার। এসব গ্রাহকের কাছে প্রায় ২ কোটি ৫০ লাখ টাকা বকেয়া রয়েছে। বারবার তাগদা দেয়ার পরও গ্রাহকরা বিদ্যুৎ বিল পরিশোধ না কারায় ৯ জুন থেকে বকেয়া বিল আদায়ের জন্য মাঠে নামেন পল্লী বিদ্যুতের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা।

৯ জুন থেকে গতকাল পর্যন্ত উপজেলার বিভিন্ন গ্রাম থেকে গ্রাহকের কাছ থেকে বকেয়া প্রায় ৬০ লাখ টাকা আদায় করা হয়েছে। এখনো আরো প্রায় ২ কোটি টাকা বকেয়া রয়েছে। তবে যেসব গ্রাহক বিল পরিশোধে ব্যর্থ হয়েছেন, তাদের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয়েছে। সে হিসাবে গতকাল বিকাল পর্যন্ত ২০০টি সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয়। ৩০ জুন পর্যন্ত বকেয়া বিল আদায়ের প্রক্রিয়া চলমান থাকবে।

এদিকে বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন করায় ওইসব গ্রাহক চরম দুর্ভোগে পড়েছেন। বিশেষ করে বিদ্যুত্চালিত কারখানার মালিক-শ্রমিকরা পড়েছেন বিপাকে। বিদ্যুিবহীন বাসাবাড়িতে ভুতুড়ে পরিবেশ বিরাজ করছে। শিক্ষার্থীদের লেখাপড়ার ক্ষতি হচ্ছে। ভ্যাপসা গরমে জীবন অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে। বকেয়া বিল পরিশোধ করেও পুনঃসংযোগ পেতে হয়রানির অভিযোগ করেছেন অনেক গ্রাহক।

ধুনট উপজেলা সদরের কুঠিবাড়ি গ্রামের ব্যবসায়ী গুপিনাথ কর্মকার জানান, গত ছয় মাসে তার প্রায় সাড়ে ১১ হাজার টাকা বিদ্যুৎ বিল বকেয়া রয়েছে। সময়মতো বিল পরিশোধ না করায় বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয়েছে। বকেয়া বিল পরিশোধ করে পুনরায় সংযোগ নেয়ার কাজ প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

বগুড়ার ধুনট পল্লী বিদ্যুৎ সাব-জোনাল অফিসের এজিএম বিজয় কুণ্ডু জানান, অনেক গ্রাহক বিদ্যুৎ ব্যবহার করলেও নিয়মিত বিল পরিশোধ করেন না। জুনের মধ্যে বিল পরিশোধের জন্য বারবার তাগাদা দেয়ার পরও বিল পরিশোধ করেননি অনেক গ্রাহক। এ কারণে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার নির্দেশে তাদের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হচ্ছে।