সাগরে মাছ ধরায় নিষেধাজ্ঞা : মিরসরাইয়ের ২৯ জেলেপাড়ায় হাহাকার

বণিক বার্তা প্রতিনিধি মিরসরাই | ০০:০০:০০ মিনিট, জুলাই ২০, ২০১৯

প্রায় এক মাস ধরে সাগরে মাছ ধরায় নিষেধাজ্ঞা চলছে। এতে বিপাকে পড়েছেন চট্টগ্রামের মিরসরাই উপজেলার ২৯ জেলেপাড়ার বাসিন্দারা। মাছ ধরতে না পারায় তাদের আয়-রোজগার বন্ধ হয়ে গেছে। এ কারণে বিকল্প ব্যবস্থা হিসেবে খালে বেহুন্দা ও টং জাল ব্যবহারের অনুমতি দেয়ার দাবি তুলেছেন তারা।

জানা গেছে, চলতি বছরের ২০ মে থেকে ২৩ জুলাই পর্যন্ত টানা ৬৫ দিন সমুদ্রে মাছ ধরায় নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে সরকার। সামুদ্রিক মাছের প্রজনন বাড়াতে এ নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে। কেউ এ নিয়ম অমান্য করলে শান্তি ও জরিমানাসহ জাল জব্দ করে পুড়িয়ে দেয়া হচ্ছে। নিষেধাজ্ঞার কারণে প্রায় এক মাস ধরে বেকার হয়ে আছে উপজেলার উপকূলীয় এলাকার ২৯টি জেলেপাড়ার বাসিন্দা। এসব পাড়ায় প্রায় পাঁচ হাজার পরিবার রয়েছে। এর মধ্যে শুধু শাহেরখালীতেই আছে ৩৭৫ জেলে পরিবার। নিষেধাজ্ঞাকালীন সরকারি সহায়তা হিসেবে চাল দেয়া হলেও তা পর্যাপ্ত নয় বলে জানিয়েছেন এ জেলেরা।

নিষেধাজ্ঞা কার্যকরের আগে ভোরে জাল নিয়ে মাছ ধরতে সাগরে যেতেন উপজেলার শাহেরখালী এলাকার জেলে যদুু জলদাশ। শীত-গ্রীষ্ম-বর্ষা সারা বছর এ নিয়মই মেনে চলতেন তিনি। মাছ ধরে তার দৈনিক আয় ছিল প্রায় হাজার টাকা। এ আয় দিয়েই চলত তার সংসার। তবে নিষেধাজ্ঞার কারণে এক মাস ধরে তার আয়-রোজগার একেবারে বন্ধ। এতে পরিবার নিয়ে দুর্দশায় আছেন বলে জানালেন তিনি। একই কথা জানালেন উপজেলার শাহেরখালী, আনন্দবাজার, ডোমখালী, ওছমানপুর, মঘাদিয়া ও ইছাখালীসহ বিভিন্ন এলাকার জেলেরা। তারা জানান, নিষেধাজ্ঞার কারণে তারা পুরোপুরি বেকার হয়ে পড়েছেন। এ কারণে সংসারেও অশান্তি দেখা দিয়েছে। সরকারিভাবে সাহায্য হিসেবে চাল দেয়া হলেও তা খুব নগণ্য।

উপজেলা সিনিয়র মত্স্য কর্মকর্তা মাহমুদুল হাসান চৌধুরী বলেন, সরকারিভাবে এরই মধ্যে মিরসরাই উপজেলার ২ হাজার ৩১ জনকে প্রথম দফায় ৪০ কেজি করে চাল দেয়া হয়েছে। আগামী মাসে আবারো চাল দেয়া হবে।

যদুু জলদাশ বলেন, মাছ নেই তো, খাবার নেই। আমরা আর কোনো কাজ পারি না। আবার চাল দিয়ে তো সব প্রয়োজন মেটে না।

দক্ষিণ মঘাদিয়া (ঘোনা) গ্রামের বলরাম জলদাশ বলেন, সরকার মাছ ধরা বন্ধ করে দিলেও এ সময় জেলেরা কীভাবে বেঁচে থাকবে, তা ভেবে দেখেনি। কয়েক মাস আগে জাটকা নিধন বন্ধ করা হয়েছিল। এভাবে বারবার নিষেধাজ্ঞা দিলে আমাদের বছরজুড়ে না খেয়ে থাকতে হবে।

জেলে সরদার বাদল চন্দ্র দাস বলেন, গভীর সমুদ্রে মত্স্য আহরণ বন্ধ থাকাকালীন খালে বেহুন্দা জাল ও টং জাল ব্যবহার করতে দিলে জেলেরা অন্তত খেয়েপরে বেঁচে থাকতে পারবেন। এ ব্যাপারে অনুমতি চেয়ে ৯ জুন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে (ইউএনও) স্মারকলিপি দেয়া হয়েছে।

মিরসরাইয়ের ইউএনও রুহুল আমিন জানান, ৯ জুন জেলেদের পক্ষ থেকে একটি স্মারকলিপি দেয়া হয়েছে। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে।