টেলিকম ও প্রযুক্তি

সাড়ে ৭ শতাংশ ভ্যাট আরোপ ই-কমার্সের বিকাশ বাধাগ্রস্ত করবে

নিজস্ব প্রতিবেদক | ০০:০০:০০ মিনিট, জুলাই ২০, ২০১৯

২০১৯-২০ অর্থবছরের বাজেটে ই-কমার্স বা অনলাইনে পণ্য কেনাবেচার ক্ষেত্রে সাড়ে ৭ শতাংশ ভ্যাট প্রস্তাব করা হয়েছে, যা উদীয়মান খাতটির বিকাশ বাধাগ্রস্ত করবে। গতকাল রাজধানীর কারওয়ান বাজারে বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব সফটওয়্যার অ্যান্ড ইনফরমেশন সার্ভিসেসের (বেসিস) মিলনায়তনে তথ্যপ্রযুক্তি বাণিজ্য সংগঠনটির ডিজিটাল কমার্স-বিষয়ক স্থায়ী কমিটির উদ্যোগে এক গোলটেবিল বৈঠকে এমন আশঙ্কা প্রকাশ করেন ই-কমার্স খাতসংশ্লিষ্টরা।

গোলটেবিল বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন বেসিস সভাপতি সৈয়দ আলমাস কবীর। এ সময় ই-কমার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ই-ক্যাব) সাধারণ সম্পাদক মো. আবদুল ওয়াহেদ তমাল, বেসিসের জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি ফারহানা এ রহমান, পরিচালক এবং বেসিস ডিজিটাল কমার্স স্থায়ী কমিটির পরিচালক দিদারুল আলম ছাড়াও দেশের শীর্ষস্থানীয় ই-কমার্স ও ডিজিটাল লেনদেন সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর শীর্ষ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

গোলটেবিল বৈঠকে বেসিস সভাপতি তার প্রতিক্রিয়ায় বলেন, তথ্যপ্রযুক্তি খাতে গৃহীত উন্নয়ন প্রকল্পের জন্য বাজেটে বরাদ্দকৃত অর্থের পরিমাণ চলতি অর্থবছরের চেয়ে ২ হাজার ১৭৬ কোটি টাকা বৃদ্ধি পেয়েছে। পাশাপাশি গত অর্থবছরের সংশোধিত বাজেটের তুলনায় তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের বরাদ্দ চলতি বছর ১৯৩ কোটি টাকা বৃদ্ধি পেয়েছে। নতুন উদ্যোক্তাদের (স্টার্টআপ) জন্য সরকার ১০০ কোটি টাকা থোক বরাদ্দ রেখেছে। পাশাপাশি প্রস্তাবিত বাজেটে সরকার সোস্যাল মিডিয়াভিত্তিক ব্যবসার ওপর সাড়ে ৭ শতাংশ ভ্যাট আরোপের প্রস্তাব করেছে। সোস্যাল মিডিয়াভিত্তিক ব্যবসা কিংবা ভার্চুয়াল বিজনেস তথা ডিজিটাল কমার্সের ওপর ভ্যাট শূন্য শতাংশ থেকে সাড়ে ৭ শতাংশ করা হয়েছে, যা বিকাশমান খাতটির অগ্রগতির অন্তরায়। দেশের বিকাশমান ই-কমার্স খাতের জন্য অন্তত আগামী পাঁচ বছরের জন্য পুনরায় ভ্যাট অব্যাহতির দাবি জানাচ্ছি।

বেসিসের জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি ফারহানা এ রহমান বলেন, আমাদের ই-কমার্স একটি অগ্রসরমাণ খাত। ক্রমবর্ধমান এ খাতে শূন্য থেকে সাড়ে ৭ শতাংশ ভ্যাট আরোপে অগ্রগতি ব্যাহত হবে। আমরা জাতীয় রাজস্ব বোর্ডকে এ সিদ্ধান্ত পরিবর্তনের অনুরোধ করছি।

বেসিস ডিজিটাল কমার্স স্থায়ী কমিটির চেয়ারম্যান সৈয়দ মোহাম্মদ কামাল বলেন, আমাদের দেশের মানুষ অনলাইনে কেনাকাটায় অভ্যস্ত হতে শুরু করেছে। অনলাইনে কেনাকাটায় ভ্যাট আরোপ করলে বেশি দামে মানুষ আর অনলাইনে কেনাকাটা করতে চাইবে না। ই-কমার্স গ্রাহক হারাবে। ক্রমবর্ধমান এ খাত স্থবির হয়ে পড়বে। আমরা এ খাতে এখনই ভ্যাট চাচ্ছি না।

গোলটেবিল বৈঠকে উপস্থিত ই-কমার্স ব্যবসায়ীরাও অন্তত আগামী পাঁচ বছরের জন্য ই-কমার্স খাতকে ভ্যাটমুক্ত রাখার আবেদন জানান।