নিজের ও অন্যের ছবি নিয়ে আরিফিন শুভ

ফিচার প্রতিবেদক | ০০:০০:০০ মিনিট, জুলাই ২০, ২০১৯

চীনে অনুষ্ঠিত ‘ইন্ডিয়া ফিল্ম উইক’-এ সম্প্রতি প্রদর্শিত হয়েছে অভিনেতা  আরিফিন শুভ অভিনীত আহা রে ছবিটি। রঞ্জন ঘোষ পরিচালিত এ ছবিতে শুভর বিপরীতে অভিনয় করেছেন ভারতীয় অভিনেত্রী ঋতুপর্ণা সেনগুপ্ত। এদিকে মুক্তির জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছে তার নতুন দুই ছবি সাপলুডু ও মিশন এক্সট্রিম। সব মিলিয়ে শুভর জন্য সিনেমার সময়টা বেশ দুর্দান্তই যাচ্ছে। তবে এতকিছুর পরও এ অভিনেতা পুরোপুরি সন্তুষ্ট নন গোটা চলচ্চিত্র ইন্ডাস্ট্রি নিয়ে। বাংলাদেশের সিনেমা শিল্প যে পরিস্থিতির ভেতর দিয়ে যাচ্ছে, তা খুব সতর্ক ও সংযতভাবে পর্যবেক্ষণ করেছেন আরিফিন শুভ। টকিজের মুখোমুখি হয়ে নিজের ছবির গল্প বলতে গিয়ে ইন্ডাস্ট্রির কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে মতামত তুলে ধরেছেন তিনি। টকিজের পাঠকদের সামনে আজ এ অভিনেতার সেই কথোপকথন তুলে ধরা হলো—

ঋতুপর্ণা সেনগুপ্ত ও আপনার অভিনীত ভারতীয় ছবি আহা রে সম্প্রতি চীনের একটি উৎসবে প্রদর্শিত হয়েছে। সীমানার গণ্ডি পেরোনোর এ অনুভূতি জানতে চাই।

যে কাজের জন্য নিজের শতভাগ দেয়ার চেষ্টা ও পরিশ্রম করি, তা যদি সীমানার গণ্ডি পেরোয়, অন্য দেশ অন্য সংস্কৃতির মানুষের অনুভূতিতে নাড়া দেয়, তাহলে অবশ্যই খুশি হওয়ার কথা। তবে সার্বিকভাবে দেশীয় চলচ্চিত্র শিল্প যে করুণ পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যাচ্ছে, তাতে পুরোপুরি খুশি হতে পারছি না। আবার দুঃখ লাগছে এই ভেবে, একই ভাষায়, প্রায় একই রকম গল্প নিয়ে ভারতে ছবিটি নির্মিত হলো, সীমান্তের বাইরে এতদূর পর্যন্ত গেল। কিন্তু আমাদের দেশের মূলধারার চলচ্চিত্র ইন্ডাস্ট্রির ছবি এ রকমভাবে এগোতে পারছে না। আমাদের ইন্ডাস্ট্রিতে এ রকম গল্প পরিবেশ, টিম কবে আসবে, যখন এখানকার বাণিজ্যিক ছবিও বড় বড় উৎসবে যাবে, পুরস্কৃত হবে, সঙ্গে ব্যবসাও করবে!

এতকিছুর মধ্যে যুদ্ধটা চালিয়ে যাওয়াও তো গুরুত্বপূর্ণ।

হ্যাঁ, যুদ্ধ তো চালিয়ে যেতেই হবে। তবে আমি এ যাত্রাকে যুদ্ধ হিসেবে দেখতে নারাজ। আমি আনন্দ হিসেবে দেখি, শেখার পথ হিসেবে দেখি। আমি এভাবে দেখি যে প্রত্যেক মানুষের কত কিছু শেখার, জানার থাকে। যদি কেউ জানতে চায়, নিজেকে দক্ষ হিসেবে গড়ে তুলতে চায়, তাহলে এমন কঠিন পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে না এগোলে পরিপূর্ণ লড়াকু মানুষ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হওয়া যায় না। এজন্য সবসময় যে পরিস্থিতির মধ্যেই থাকি না কেন, নিজেকে শেখার মধ্যে রাখি, আবিষ্কারের মধ্যে থাকি, আনন্দ নিয়ে কাজ করি।

কয়েক বছর ধরে ছবিতে নিয়মিত অভিনয় করে গেছেন। এতকিছুর পরও আমাদের ইন্ডাস্ট্রি ধসে যাচ্ছে, এর সর্বশেষ উদাহরণ গত ঈদেও দেখা গেছে। এতে তো আপনি নিজেও সন্তুষ্ট নন, তাই তো?

নিজের কাজকর্ম ঠিক থাকলেও সন্তুষ্ট হওয়ার কোনো কারণ নেই। আমাদের দেশের জনসংখ্যা প্রায় ১৮ কোটি। অথচ এতসংখ্যক মানুষের মধ্যে কতজনের বিনোদনের জন্য প্রকৃত পরিবেশের হল আছে? পরিবার নিয়ে কজন যেতে পারে? তাছাড়া যে শিশুগুলো বেড়ে উঠছে, ওদের জন্যইবা কতটা উপযুক্ত হল আছে? এখন এমন পরিস্থিতি, আমরা যদি অস্কারতুল্য ছবিও বানাই, তাহলেও তা সফল করে তোলা এক অগ্নিপরীক্ষা। কারণ হলই যদি না থাকে, দেখাবেন কোথায়? সবাই কথায় কথায় বলে, দেয়ালে পিঠ ঠেকে গেছে। আমার তো মনে হয়, আমাদের পিঠ দেয়ালে ঠেকে গেছে আরো আগে। অবস্থা এমনই যে এখন দেয়াল ভাঙার উপক্রম হয়েছে।

একটা সময় ব্যবসাসফল ছবিগুলো ঈদেই মুক্তি পেত।

হ্যাঁ, এক যুগ আগেও মেধাবী নির্মাতারা ঈদে ছবি নির্মাণের জন্য আগ্রহী থাকতেন। দর্শকও সারা বছর ধরে অপেক্ষা করত প্রিয় অভিনেতা-অভিনেত্রীদের ভালো ছবি হলে গিয়ে দেখবে বলে। কিন্তু এখন আর সেই মানসিকতা নেই নির্মাতাদের। এখন ঈদের ছবি মুক্তি নিয়ে যে ধরনের দলাদলি, নোংরা রাজনীতি হয়, তা ভাষায় প্রকাশ করা যায় না। যে কারণে গত কয়েক বছরে ঈদে একটিও আলোচিত সমালোচিত ছবি মুক্তি পায়নি। যারা ভালো ছবি বানানোর ক্ষমতা রাখেন, তারা এ ধরনের অপরাজনীতির ঝামেলায় জড়াতে চান না বলেই ঈদকে উপলক্ষ করে ছবি মুক্তি দেয়া থেকে নিজেদের বিরত রাখেন।

ঢাকা অ্যাটাক-এর পর মিশন এক্সট্রিম করলেন। শেষেরটি করতে গিয়ে নতুন কোনো অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হলেন কি?

প্রথমবার যখন পুলিশের ছবি ঢাকা অ্যাটাক-এ অভিনয় করি, তখন অনেক কিছু শিখেছি, জানতে পেরেছি, নিজেকে বিকশিত করার সুযোগ পেয়েছি। আর মিশন এক্সট্রিমও ভালো করে করার চেষ্টা করেছি। এখান থেকেও অনেক কিছু শিখেছি, যা আমার পরবর্তী অভিনয় জীবনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে আশা করি।

মিশন এক্সট্রিম নিয়ে দর্শকদের কী বলতে চান?

ছবির কাজ এখনো পুরোপুরি শেষ হয়নি। তবে শুটিং অভিজ্ঞতা থেকে বলতে পারি, মিশন এক্সট্রিমের ক্যানভাস অনেক বড়, এর গল্পও ইন্টারেস্টিং। ছবিটির সঙ্গে যুক্ত পুরো টিমই তাদের শতভাগ পরিশ্রম দিয়ে কাজটিকে ব্যতিক্রম করে তুলতে সচেষ্ট ছিল। আশা করি, প্রেক্ষাগৃহে গিয়ে ছবিটি দর্শক উপভোগ করবে।

আপনার অভিনীত সাপলুডু ছবিটি নিয়ে বলুন।

হ্যাঁ, এতক্ষণ এ প্রশ্নের অপেক্ষায়ই ছিলাম। কারণ আমি চাই আমার অভিনীত সর্বশেষ দুটো ছবি নিয়েই সমান আলোচনা হোক। সাপলুডুও যেন আলোচনার বাইরে হারিয়ে না যায়। মিশন এক্সট্রিমের মতো সাপলুডু নিয়েও আমি সমান আশাবাদী। ভিন্নধর্মী এ গল্পে অভিনয় করতে পেরে সত্যিই আমি অভিভূত।