জমি নিয়ে বিরোধে কিশোরী খুন, আটক ৬

বণিক বার্তা প্রতিনিধি, লালমনিরহাট | ০০:০০:০০ মিনিট, জুলাই ২০, ২০১৯

লালমনিরহাটে জমি নিয়ে বিরোধের জের ধরে দুইপক্ষের সংঘর্ষে লাকী আক্তার (১৫) নামে এক কিশোরী নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন নারীসহ আরো পাঁচজন। সোমবার সকালে সদর উপজেলার কুলাঘাট ইউনিয়নের দক্ষিণ শিবেরকুটি (বনগ্রাম) এলাকায় এই সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।

এরপর দুপুরে পুলিশ অভিযান চালিয়ে একই পরিবারের ছয় ব্যক্তিকে আটক করে। নিহত লাকী আক্তার ওই এলাকার নজরুল ইসলামের মেয়ে।

আটককৃতরা হলেন, দক্ষিণ শিবেরকুটির হবিবর রহমানের ছেলে আবু বক্কর (৪৫), আলিমুদ্দিনের ছেলে নুর আলম (৪৫), নুর আলমের ছেলে সোহেল রানা (২২), রমিজ উদ্দিনের ছেলে কদম আলী (৭০) ও দিনাজপুর জেলার পার্বতীপুর উপজেলার আব্দুর রহমানের ছেলে কামাল হোসেন (২২) ও সুমন আলী (২৪)। আটককৃতরা সবাই কদম আলীর পরিবারের সদস্য।

আহতরা হলেন, নিহত লাকী আক্তারের বাবা নজরুল ইসলাম (৪৫), তার দাদী চন্দ্র বানু (৫৯), শারীরিক প্রতিবন্ধী ফুফু সুমর্থ বানু (৩৮), কদম আলীর দুই ছেলে জাহাঙ্গীর আলম (৩৫) ও শুকুর আলী (৪০)। তারা লালমনিরহাট সদর ১০০ শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতালে চিকিসাধীন রয়েছেন।

চিকিৎসাধীন নজরুল ইসলাম বলেন, সোমবার সকাল ৯টার পর স্থানীয় কদম আলীর ছেলে শুকুর আলী তার ২০-২৫ জন লোক নিয়ে আমার দখলে থাকা জমিতে ঘর তুলতে আসলে আমরা বাধা দেই। একপর্যায়ে সংঘর্ষ বাঁধে। সংঘর্ষে আমার ও আমার মেয়ের মাথায় আঘাত করলে জ্ঞান হারিয়ে মাটিতে পড়ে যাই। পরে হাসপাতালে জ্ঞান ফিরলে জানতে পারি আমার মেয়ে লাকী আর বেঁচে নাই।

থানায় কদম আলী বলেন, আমি বৃদ্ধ লোক, মারামারির মধ্যে ঘটনাস্থলে যাইনি। ছেলে, নাতী ও ভাতিজারা ছিল। সেখানে কিভাবে কী ঘটেছে, তা আমি জানি না। কিন্তু ১০-১২ বছর থেকে আমার ১৮ বিঘা জমি জবরদখল করে রেখেছেন নজরুল ইসলাম। আদালতের রায়ও তিনি মানেন না।

এ বিষয়ে সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহফুজ আলম বলেন, নজরুল ইসলাম ও কদম আলীর মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে ১৮ বিঘা জমি নিয়ে আদালতে মামলা চলছিল। কিছুদিন আগে আদালতের মাধ্যমে জমির মালিকানাও বুঝে পান কদম আলী। কিন্তু নজরুল ইসলাম জমির দখল ছাড়ছিলেন না। কদম আলীর ছেলে, ভাতিজা ও নাতীরা জমিতে ঘর তুলতে গেলে দুইপক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ বেঁধে যায়।

সংঘর্ষে লাকী আক্তার নামে একজন কিশোরী নিহত হয়েছে। ঘটনার পর কদম আলীসহ তার পরিবারের ছয়জনকে আটক করা হয়েছে। এই ঘটনায় মামলার প্রক্রিয়া চলছে বলেও জানান থানার এই পুলিশ কর্মকর্তা।