প্রথম পাতা

অবশেষে ওসি মোয়াজ্জেম গ্রেফতার

নিজস্ব প্রতিবেদক | ০০:০০:০০ মিনিট, জুলাই ২০, ২০১৯

ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের মামলায় গ্রেফতারি পরোয়ানা জারির ২০ দিন পর গ্রেফতার হলেন ফেনীর সোনাগাজী থানার সাবেক ওসি মোয়াজ্জেম হোসেন। গতকাল রাজধানীর হাইকোর্ট এলাকা থেকে তাকে গ্রেফতার করে শাহবাগ থানা পুলিশ।

ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) রমনা বিভাগের উপকমিশনার মারুফ হোসেন সরদার জানান, তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তা নিয়ে গতকাল হাইকোর্ট এলাকা থেকে পলাতক ওসি মোয়াজ্জেমকে গ্রেফতার করা হয়। নির্দেশনা অনুযায়ী তাকে ওইদিন বিকালেই আদালতে হাজির করা হয়।

গ্রেফতারি পরোয়ানা জারির আগে রংপুর রেঞ্জে সংযুক্ত ছিলেন ওসি মোয়াজ্জেম। কিন্তু পরোয়ানা জারির ২০ দিনেও তাকে গ্রেফতার করতে না পারায় প্রশ্ন উঠেছিল পুলিশের সক্ষমতা নিয়ে। পুলিশপ্রধানের পাশাপাশি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালকেও এ বিষয়ে প্রশ্নের সম্মুখীন হতে হয়েছে। ওসি মোয়াজ্জেমকে পালিয়ে যেতে খোদ পুলিশই সহায়তা করেছে, এমন অভিযোগ শুনতে হয়েছে। যদিও পুলিশ সদর দপ্তর ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে বারবারই বলা হয়েছিল, ওসি মোয়াজ্জেম দেশেই আছেন এবং তাকে শিগগিরই গ্রেফতার করা হবে।

ফেনীর মাদ্রাসাছাত্রী নুসরাত জাহান রাফি তার মাদ্রাসা অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে যৌন হয়রানির অভিযোগ আনার পর মোবাইল ফোনে তার বক্তব্য ধারণ করেন ওসি মোয়াজ্জেম। এরপর নুসরাতকে গায়ে আগুন দেয়ার ঘটনা ঘটলেও ধারণ করা ওই ভিডিও রেকর্ড সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছেড়ে দেন তিনি।

ভিডিওটি ফেসবুকে ছড়িয়ে দেয়ার অভিযোগে ওসি মোয়াজ্জেমের বিরুদ্ধে গত ১৫ এপ্রিল ঢাকার সাইবার ট্রাইব্যুনালে একটি মামলা করেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউটর ব্যারিস্টার সুমন। বাদীর জবানবন্দি গ্রহণ ও মামলার নথি পর্যালোচনা করে ঢাকার সাইবার ট্রাইব্যুনালের বিচারক মোহাম্মদ আসসামছ জগলুল হোসেন ২৭ মে ওসি মোয়াজ্জেমের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারির আদেশ দেন। এর পর থেকেই পলাতক ছিলেন ওসি মোয়াজ্জেম।

প্রসঙ্গত, গত ৬ এপ্রিল আলিম আরবি প্রথম পত্রের পরীক্ষা দিতে গেলে দুর্বৃত্তরা নুসরাত জাহান রাফিকে ছাদে ডেকে নিয়ে গায়ে কেরোসিন ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেয়। আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাকে প্রথমে স্থানীয় হাসপাতালে ও পরে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে স্থানান্তর করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় গত ১০ এপ্রিল নুসরাত মারা যান।