শেষ পাতা

ওয়ার্ল্ড ইনভেস্টমেন্ট রিপোর্ট ২০১৯ :

এলডিসির শীর্ষ ১০ নতুন বিনিয়োগ প্রকল্পের দুটিই বাংলাদেশে

নিজস্ব প্রতিবেদক | ০১:৪০:০০ মিনিট, জুন ১৩, ২০১৯

২০১৮ সালে স্বল্পোন্নত দেশগুলোয় (এলডিসি) শীর্ষ ১০ নতুন বিনিয়োগ প্রকল্পের দুটি এসেছে বাংলাদেশে। জাতিসংঘের বাণিজ্য ও উন্নয়নবিষয়ক স্থায়ী আন্তঃসরকারি সংস্থার (আঙ্কটাড) বার্ষিক প্রতিবেদন ‘ওয়ার্ল্ড ইনভেস্টমেন্ট রিপোর্ট (ডব্লিউআইআর) ২০১৯’ সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

বিশ্বব্যাপী গতকাল একযোগে প্রকাশ হয় প্রতিবেদনটি। এবারের প্রতিবেদনের মূল প্রতিপাদ্য ছিল বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল (এসইজেড)। প্রতিবেদনে বিশ্বব্যাপী গড়ে ওঠা এসইজেডগুলোর ওপর ধারণা দেয়া হয়। এছাড়া আন্তর্জাতিক উৎপাদন প্রক্রিয়ার পরিবর্তন ও নতুন শিল্পবিপ্লবের প্রক্রিয়ায় টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিতে এসইজেডগুলোর বিভিন্ন মৌলিক চ্যালেঞ্জের ওপরও আলোকপাত করা হয়েছে প্রতিবেদনে।

আঙ্কটাডের তথ্যমতে, টানা তৃতীয় বছরের মতো ২০১৮ সালেও বিশ্বব্যাপী মোট প্রত্যক্ষ বিদেশী বিনিয়োগের (এফডিআই) প্রবাহ ছিল নিম্নমুখী। এ সময় বিশ্বব্যাপী এফডিআই-প্রবাহ ছিল প্রায় ১ দশমিক ২৯ ট্রিলিয়ন ডলার। আগের বছর এর পরিমাণ ছিল প্রায় ১ দশমিক ৪৯ ট্রিলিয়ন ডলার। ২০১৬ সালে এর পরিমাণ ছিল ১ দশমিক ৯২ ট্রিলিয়ন ডলার। যেখানে ২০১৫ সালে বিশ্বব্যাপী এফডিআই-প্রবাহ ছিল ২ ট্রিলিয়ন ডলারের বেশি।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০১৮ সালে এলডিসিভুক্ত আটটি দেশের বৃহৎ ১০টি নতুন বিনিয়োগ প্রকল্পের (গ্রিনফিল্ড প্রজেক্টস) দুটিই এসেছে বাংলাদেশে। এর একটিতে বিনিয়োগ করেছে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক জেনারেল ইলেকট্রিক। আরেকটিতে করেছে চীনভিত্তিক চায়না হুয়াদিয়ান করপোরেশন। দুটি বিনিয়োগই এসেছে বিদ্যুৎ খাতে। জেনারেল ইলেকট্রিকের বিনিয়োগ প্রকল্পের আনুমানিক মূলধনি ব্যয় ৩০০ কোটি ডলার। চায়না হুয়াদিয়ান করপোরেশনের বিনিয়োগ প্রকল্পের আনুমানিক মূলধনি ব্যয় ৯৮ কোটি ৪০ লাখ ডলার।

এলডিসির শীর্ষ ১০ প্রকল্পের প্রথমটি হয়েছে ইথিওপিয়ায়। যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক ফেয়ারফ্যাক্স আফ্রিকা ফান্ডের পেট্রোলিয়াম রিফাইনারির ওই বিনিয়োগ প্রকল্পের আনুমানিক মূলধনি ব্যয় ৪০০ কোটি ডলার। যুক্তরাষ্ট্রের জেনারেল ইলেকট্রিকের বাংলাদেশে বিনিয়োগ করা প্রকল্পটি রয়েছে দ্বিতীয় অবস্থানে। তৃতীয় অবস্থানে থাকা বিনিয়োগ প্রকল্পটি অ্যাঙ্গোলায়।

চলতি বছরও বাংলাদেশের বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে বড় ধরনের বিনিয়োগ অব্যাহত থাকবে বলে প্রতিবেদনে আশা প্রকাশ করেছে আঙ্কটাড।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এলডিসিভুক্ত দেশগুলোর মধ্যে গত বছর এফডিআই-প্রবাহে শীর্ষ ছিল বাংলাদেশ। এ সময় দেশে মোট এফডিআই এসেছে ৩ দশমিক ৬১ বিলিয়ন ডলার। ২০১৭ সালে এর পরিমাণ ছিল ২ দশমিক ১৫ বিলিয়ন ও ২০১৬ সালে ২ দশমিক ৩৩ বিলিয়ন ডলার। মূলত জাপান টোব্যাকো কোম্পানির দেড় বিলিয়ন ডলারে ঢাকা টোব্যাকো কোম্পানি অধিগ্রহণের কারণে ২০১৮ সালে বাংলাদেশের এফডিআই-প্রবাহে এ বড় উল্লম্ফন ঘটেছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।

গত বছর এফডিআই আকর্ষণে এলডিসিভুক্ত দেশগুলোর মধ্যে দ্বিতীয় ও তৃতীয় অবস্থানে ছিল যথাক্রমে মিয়ানমার ও ইথিওপিয়া। দেশ দুটিতে এ সময় এফডিআই-প্রবাহ ছিল যথাক্রমে ৩ দশমিক ৫৫ ও ৩ দশমিক ৩১ বিলিয়ন ডলার।

চতুর্থ অবস্থানে থাকা কম্বোডিয়ায় ২০১৮ সালে এফডিআই-প্রবাহ ছিল ৩ দশমিক ১০ বিলিয়ন ডলার। আর পঞ্চম অবস্থানে থাকা মোজাম্বিকে গত বছর এফডিআই-প্রবাহ ছিল ২ দশমিক ৭১ বিলিয়ন ডলার।

এসইজেড প্রসঙ্গে আলোকপাতে বাংলাদেশের প্রেক্ষাপট নিয়ে আঙ্কটাড বলছে, বিনিয়োগ আকর্ষণের জন্য এখানে ২০১৫ থেকে ২০৩০ সালের মধ্যে ১০০টি অর্থনৈতিক অঞ্চল গড়ে তোলার পরিকল্পনা নেয়া হয়েছে। এর মধ্যে ৩৯টি প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। আরো ৬০টি অর্থনৈতিক অঞ্চল অনুমোদনের প্রক্রিয়া চলছে। এর মাধ্যমে এক কোটি লোকের কর্মসংস্থান ও ৯ দশমিক ৬ বিলিয়ন ডলার এফডিআই আকর্ষণের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।