খবর

স্পিকারের সঙ্গে পরিকল্পনামন্ত্রী-আইসিটি প্রতিমন্ত্রীর সাক্ষাৎ : উন্নয়ন পরিকল্পনা বাস্তবায়নে গুরুত্বপূর্ণ কর্মসূচি কৃষিশুমারি

নিজস্ব প্রতিবেদক | ০০:০০:০০ মিনিট, জুলাই ১২, ২০১৯

দেশে বিভিন্ন উন্নয়ন পরিকল্পনা বাস্তবায়নে কৃষিশুমারি গুরুত্বপূর্ণ কর্মসূচি বলে উল্লেখ করেছেন স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী। তিনি বলেন, কৃষিশুমারি বাংলাদেশের উন্নয়ন ও অগ্রগতির যথাযথ পরিকল্পনা প্রণয়নে সহায়তা করবে। গতকাল সংসদ ভবনে স্পিকারের সঙ্গে পরিকল্পনামন্ত্রী এমএ মান্নান সাক্ষাৎ করতে এলে তিনি এ কথা বলেন। সাক্ষাত্কালে তারা ‘কৃষিশুমারি-২০১৯’ নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন।

কৃষিশুমারির অংশ হিসেবে গণনাকারীরা স্পিকারের কাছ থেকে খাদ্যশস্য, মত্স্য ও পশুসম্পদ, ভূমি ব্যবহার, আবাদি জমির পরিমাণ, হাঁস-মুরগির সংখ্যা, কৃষি যন্ত্রপাতি, খাদ্য নিরাপত্তা সম্পর্কে তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ করেন। এ সময় তিনি প্রকৃত ও সঠিক তথ্য সংগ্রহ করতে গণনাকারীদের পরামর্শ দেন।

স্পিকার ৩৪৫ কোটি টাকার এ প্রকল্প গ্রহণ করায় বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোকে (বিবিএস) অভিনন্দন জানান এবং এর সফলতা কামনা করেন। তিনি বলেন, কৃষিতে নারীরা এগিয়ে আসছে, যা বাংলাদেশের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। এছাড়া এবারের কৃষিশুমারিতে মত্স্য ও প্রাণী সম্পদকে অন্তর্ভুক্ত করায় এর পরিধিকে আরো বিস্তৃত করেছে। এ শুমারির মাধ্যমে ২০০৮ থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশের কৃষির অবস্থা সম্পর্কে ধারণা পাওয়া সম্ভব, যা পরবর্তী সময়ে রেফারেন্স পয়েন্ট, গবেষণা এবং পলিসি গ্রহণে সহায়তা করবে।

এ সময় পরিকল্পনামন্ত্রী কৃষিশুমারি-২০১৯-এর সার্বিক কর্মকাণ্ড সম্পর্কে স্পিকারকে অবহিত করেন। তিনি বলেন, ‘কৃষিশুমারি-২০১৯’ চলতি মাসের ৯ তারিখে শুরু হয়েছে, তা চলবে ২০ জুন পর্যন্ত। এ সময় গণনাকারীরা মাঠপর্যায়ে তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ করবেন। দেশব্যাপী প্রায় দেড় লাখ তরুণ-তরুণী গণনাকারী এ কাজে অংশ নিয়েছেন।

উল্লেখ্য, পরিসংখ্যান আইন-২০১৩, জাতীয় পরিসংখ্যান উন্নয়ন কৌশলপত্র এবং কৃষি ও গ্রামীণ পরিসংখ্যান কৌশলপত্র অনুযায়ী ‘কৃষিশুমারি-২০১৯’ কার্যক্রম চলছে।

সাক্ষাত্কালে পরিসংখ্যান ও তথ্য ব্যবস্থাপনা বিভাগের সচিব সৌরেন্দ্র নাথ চক্রবর্ত্তী, বিবিএসের মহাপরিচালক ড. কৃষ্ণা গায়েন, প্রকল্প পরিচালক জাফর আহমেদ এবং জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

অন্যদিকে, গতকাল সংসদ ভবনে স্পিকারের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক। এ সময় স্পিকার বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে গত ১০ বছরে দেশে ডিজিটাল রূপান্তরে বৈপ্লবিক পরিবর্তন ঘটেছে। এরই মধ্যে ডিজিটাল পার্লামেন্ট প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। এ উদ্যোগের মধ্য দিয়ে ডিজিটাল লিডারশিপ গড়ে উঠবে।

সাক্ষাত্কালে তারা ডিজিটাল পার্লামেন্ট বাস্তবায়ন অগ্রগতি, ডিজিটাল সার্ভিস ডিজাইন ও সংসদ সদস্যদের জন্য আইসিটি প্রশিক্ষণ নিয়ে আলোচনা করেন।

স্পিকার বলেন, ডিজিটাল পার্লামেন্ট বাস্তবায়ন হলে সময় ও অর্থের সাশ্রয় হবে। একই সঙ্গে সংসদ সদস্যরা সার্বক্ষণিক পার্লামেন্ট কার্যক্রমে সংযুক্ত থাকতে পারবেন। সোস্যাল মিডিয়া ব্যবহারের মাধ্যমে নিজ এলাকার উন্নয়ন সম্ভাবনা তুলে ধরার পাশাপাশি জনগণের সঙ্গে নিবিড় সম্পর্কও গড়ে তুলতে সক্ষম হবেন।

আগামী জুলাইয়ে সব সংসদ সদস্যের অংশগ্রহণে ‘ডিজিটাল বাংলাদেশ: স্টোরি অব ট্রান্সফরমেশন’ শীর্ষক কর্মশালা আয়োজন করা হবে। কর্মশালায় মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করবেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্যপ্রযুক্তি উপদেষ্টা ও তার ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয় বলে স্পিকারকে অবহিত করেন জুনাইদ আহমেদ পলক। তিনি বলেন, সংসদ সদস্যদের পাশাপাশি তাদের সাচিবিক সহায়তা প্রদানকারীদেরও প্রশিক্ষণের মাধ্যমে ডিজিটাল লিটারেসিতে দক্ষ করে তোলা হবে।

এ সময় জাতীয় সংসদের হুইপ ইকবালুর রহিম এমপি, জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের সিনিয়র সচিব ড. জাফর আহমদ খান ও এটুআই প্রকল্পের সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।