খেলা, ক্রিকেট বিশ্বকাপ ২০১৯, , ,

এটাই তো ‘আনপ্রেডিক্টেবল’ পাকিস্তান!

বণিক বার্তা অনলাইন | ০০:০০:০০ মিনিট, জুলাই ২০, ২০১৯

ম্যাচের টার্নিং পয়েন্ট আসলে কোনটি, সেটি নিয়ে প্রশ্ন থাকতেই পারে। কিন্তু ওয়াহাব রিয়াজের বিরুদ্ধে অ্যারন ফিঞ্চের আত্মবিশ্বাসী রিভিউটাই শেষ পর্যন্ত জয়টা অস্ট্রেলিয়ার হাতে ধরিয়ে দিলো, তা নিয়ে কোনো সন্দেহ থাকার কথা না।

অস্ট্রেলিয়ার ৩০৮ রানের জবাবে পাকিস্তানের তখন ৬ ওভারে দরকার ৪৫ রান। হাতে তখনও তিন উইকেট পাকিস্তানের।উইকেটে আছেন অধিনায়ক সরফরাজ আহমেদ ও  ওয়াহাব রিয়াজ। ভালোই ব্যাট চালাচ্ছিলেন ওয়াহাব রিয়াজ। নিজের নবম ওভার বল করতে আসলেন তখন পর্যন্ত উইকেট শূণ্য থাকা মিচেল স্টার্ক। ওভারের দ্বিতীয় বলটি ওয়াহাব রিয়াজ মিস করলে, বল সরাসরি উইকেট রক্ষক অ্যালেক্স ক্যারির হাতে। অ্যারন ফিঞ্চ আম্পায়ারকে চ্যালেঞ্জ করলে রিভিউতে দেখা গেলো বল ওয়াহাব রিয়াজের ব্যাট ছুঁয়ে গেছে। ওই আউটের পর আর মাত্র তিন রান করতেই অল আউট পাকিস্তান। অস্ট্রেলিয়া ম্যাচ জিতে যায় ৪১ রানে। অস্ট্রেলিয়ার পক্ষে সেঞ্চুরি করা ডেভিড ওয়ার্নার ম্যাচ সেরা নির্বাচিত হয়েছেন।

এর আগে টসে হেরে ব্যাট করতে নেমে দারুন সূচনা করে অস্ট্রেলিয়া। অস্ট্রেলিয়ার দুই ওপেনার ফিঞ্চ ও ওয়ার্নার যেভাবে ব্যাট চালাচ্ছিলেন, মনে হচ্ছিলো অস্ট্রেলিয়া ৪০০ রানের বেশি করে ফেলবে। উদ্বোধনী জুটিতে মাত্র ২২ ওভারেই ফিঞ্চ আর ওয়ার্নার মিলে তুলেছিলেন ১৪৬ রান। ফিঞ্চ ৮২ রান করে আমিরের বলে কাঁটা পড়লেও ওয়ার্নার সেঞ্চুরি তুলে নেন। ১০২ বল থেকে সেঞ্চুরি করা ওয়ার্নার  শেষ পর্যন্ত ১০৭ করে প্যাভিলিয়নের পথ ধরেন। একটা সময়  ৪১ ওভারের মাথাতেও অস্ট্রেলিয়ার  রান ৪ উইকেটে ২৭৭ রান ছিলো। সেখান থেকে ৩০৭ রান করতেই অল আউট অস্ট্রেলিয়া। শেষের দিকে অস্ট্রেলিয়া ধ্বস ধরানোর ক্রেডিট মোহাম্মদ আমিরের। বল হাতে মাত্র ৩০ রানেই ৫ উইকেট নিয়ে অস্ট্রেলিয়াকে বড় সংগ্রহ গড়তে দেননি আমির।

অস্টেলিয়ার দেওয়া ৩০৮ রানের  লক্ষ্যটা পাকিস্তানের জন্য বেশ কঠিনই ছিলো। ইনিংসের শুরুতেই থার্ড ম্যান অঞ্চলে দাঁড়িয়ে  থাকা রিচার্ডসনের হাতে ক্যাচ দিয়ে ফেরত যান ওপেনার ফখর জামান। এরপর ইমাম উল হককে নিয়ে ধাক্কা সামলে উঠার চেষ্টা চালান বাবর আজম। কিন্তু ৩০ রান করেই বাবরও হাঁটা ধরেন প্যাভিলিয়নের দিকে। মোহাম্মদ হাফিজকে নিয়ে এগোতে থাকেন ইমাম। দলীয় ১৩৬ রানের মাথায় ৭৫ বল থেকে ৫৩ রান করে ইমাম আউট হয়ে যেনো পাকিস্তানের চাপ বাড়িয়ে দিয়ে যান। দলের রান ১৩৬ থেকে ১৬০ হতেই একে একে ফেরত যান হাফিজ, শোয়েব মালিক ও আসিফ আলী। হাসান আলী  এসে ১৫ বলে ৩২ রানের ঝোড়ো ইনিংস খেললেও ইনিংসটাকে লম্বা করতে পারেননি। ২০০ রানের মাথাতেই সপ্তম উইকেটের পতন ঘটে পাকিস্তানের। ৩২ রান করা হাসান আলী ফিরে গেলেন। পাকিস্তানের তখন ৯৭ বলে ১০৮ রান প্রয়োজন, হাতে মাত্র  তিন উইকেট। সরফরাজ আহমেদকে নিয়ে ওয়াহাব রিয়াজ পাকিস্তানকে জয়ের বন্দরে ভালো ভাবেই নিয়ে যাচ্ছিলেন। কিন্তু ইনিংসের ৪৫তম ওভারে স্টার্কের বলে ওয়াহাব রিয়াজ ফিরে গেলে অস্ট্রেলিয়া যেনো হাঁপ ছেড়ে বাঁচে। ফিরে যাওয়ার আগে ওয়াহাব রিয়াজ করেছেন ৩৯ বলে ৪৫ রান। শেষের দুই ব্যাটসম্যান মিলে নিতে পেরেছেন মাত্র ১ রান। আমিরকে শূণ্য রানেই বোল্ড করে প্যাভিলিয়নের পথ দেখান স্টার্ক। ৪০ রান করা সরফরাজকে সরাসরি থ্রোতে রান আউট করে অস্ট্রেলিয়ার ৪১ রানের জয় নিশ্চিত করেন ম্যাক্সওয়েল।

সংক্ষিপ্ত স্কোর:

অস্ট্রেলিয়া: ৩০৭/১০, ৪৯ ওভার (ওয়ার্নার- ১০৭,  ফিঞ্চ- ৮২; আমির ৩০/৫, শাহিন আফ্রিদি- ৭০/২)

পাকিস্তান: ২৬৬/১০, ৪৫.৪ ওভার (ইমাম- ৫৩, হাফিজ- ৪৬, ওয়াহাব রিয়াজ- ৪৫;  প্যাট কামিন্স- ৩৩/৩, স্টার্ক- ৪৩/২)

ফল: অস্ট্রেলিয়া ৪১ রানে বিজয়ী

ম্যান অফ দ্যা ম্যাচ: ডেভিড ওয়ার্নার