জায়ান্ট মিলিবাগের আক্রমণ : সাতক্ষীরায় এক বছরে মারা গেছে সড়কের ৪ শতাধিক গাছ   

বণিক বার্তা প্রতিনিধি সাতক্ষীরা | ০০:০০:০০ মিনিট, জুলাই ২০, ২০১৯

জায়ান্ট মিলিবাগ পোকার আক্রমণে সাতক্ষীরার বিভিন্ন সড়ক ও মহাসড়কে একের পর এক শিশু ও রেইন্ট্রি গাছ মারা যাচ্ছে। এক বছরের ব্যবধানে মারা গেছে ২৫-৩০ বছর বয়সী চার শতাধিক গাছ। অভিযোগ রয়েছে, জেলা সামাজিক বন বিভাগের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে কোনো পদক্ষেপ নেয়া হচ্ছে না। উল্টো তারা মরা গাছ কেটে বিক্রির জন্য ব্যস্ত হয়ে পড়েছে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, সাতক্ষীরা-মুন্সীগঞ্জ সড়কে সামাজিক বন বিভাগের অধীনে শিশু, রেইনট্রি, আম, জাম ও মেহগনিসহ বিভিন্ন গাছ রয়েছে। এসব গাছের বয়স ২৫-৩০ বছর। কিছু গাছ রয়েছে ৫০-৬০ বছর বয়সী। কিন্তু গত এক বছরে জায়ান্ট মিলিবাগ পোকার আক্রমণে এ সড়কে অন্তত ২৫০টি শিশু ও রেইনট্রি গাছ মারা গেছে। একইভাবে জেলার তালা, কলারোয়া, আশাশুনি ও ফিংড়ি সড়কে মারা গেছে আরো অন্তত ২০০টি গাছ।

জেলার সচেতন মহলের দাবি, সামাজিক বন বিভাগের সংশ্লিষ্টদের অবহেলার কারণেই এসব মূল্যবান গাছ মারা গেছে। তারা সময়মতো প্রতিকার বা প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নিলে এ অবস্থার সৃষ্টি হতো না।

এ বিষয়ে সাতক্ষীরা জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক অরবিন্দ বিশ্বাস বলেন, জায়ান্ট মিলিবাগ নামক পোকার আক্রমণেই এসব গাছ মারা যাচ্ছে। শীতের সময় দলবদ্ধভাবে এ পোকা গাছের রস চুষে নেয়। এছাড়া এসব পোকা গাছের শাখা-প্রশাখার কচি পাতা ও ডগা খেয়ে ফেলে। এতে গাছের খাদ্য তৈরির প্রক্রিয়া ব্যাহত হয়। গাছ খাদ্য ও পানি সংকটে পড়ে যায়। তবে সংশ্লিষ্টরা সময়মতো এ পোকা দমনে কীটনাশক স্প্রেসহ অন্য প্রতিকারমূলক ব্যবস্থা নিতে পারত। তাহলে এসব মূল্যবান গাছ মারা যেত না।

তবে সাতক্ষীরা সরকারি কলেজের উদ্ভিদ বিদ্যা বিভাগের বিভাগীয় প্রধান ড. নাসরিন আক্তার বলেন, জায়ান্ট মিলিবাগ ছাড়াও ২৫-৩০ বছর বয়সী এসব শিশু ও রেইন্ট্রি গাছ মারা যাওয়ার অনেক কারণ রয়েছে। এর মধ্যে অন্যতম হচ্ছে পানির অভাব। তাছাড়া জলবায়ু পরিবর্তনজনিত কারণেও গাছগুলো মারা যেতে পারে। তিনি বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে মাটিতে লবণাক্ততা বেড়ে যাওয়া, অস্বাভাবিক তাপমাত্রা ও মৌসুমি বৃষ্টিপাত না হওয়ার কারণেও এমনটি হতে পারে।

এ বিষয়ে যোগাযোগ করা হলে সাতক্ষীরা জেলা সামাজিক বন বিভাগের ভারপ্রাপ্ত ফরেস্ট রেঞ্জার মো. মারুফ বিল্লাহ সড়কের এসব শিশু ও রেইন্ট্রি গাছ মারা যাওয়ার বিষয়টি স্বীকার করেন। তিনি বলেন, শিগগিরই এসব মৃত গাছ কেটে ফেলার ব্যবস্থা করা হবে। তবে কী কারণে গাছগুলো মারা যাচ্ছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, গাছের নমুনা চট্টগ্রাম বন বিভাগে পরীক্ষার জন্য পাঠানো হবে। এরপরই প্রকৃত কারণ জানা যাবে।