দেশের খবর

চুয়াডাঙ্গার মাথাভাঙ্গা সেতুতে ফাটল, ভারী যান চলাচল বন্ধ

বণিক বার্তা প্রতিনিধি চুয়াডাঙ্গা | ০০:০০:০০ মিনিট, জুলাই ১২, ২০১৯

চুয়াডাঙ্গা শহরের বড়বাজারে মাথাভাঙ্গা নদীর ওপর নির্মিত সেতুতে ফাটল দেখা দিয়েছে। গত মঙ্গলবার সন্ধ্যায় চুয়াডাঙ্গা-মেহেরপুর সড়কের মাথাভাঙ্গা নদীর ওপর নির্মিত সেতুটিতে ফাটল দেখা দেয়। পরে রাত ১১টার দিকে ট্রাফিক পুলিশের সহায়তায় ফাটল অংশে সাময়িক মেরামত করা হলে হালকা যানবাহন চলাচল শুরু করে।

এদিকে, যে কোনো ধরনের দুর্ঘটনা এড়াতে মাথাভাঙ্গা সেতু দিয়ে রাত থেকেই ভারী যান চলাচল বন্ধ করে দিয়েছে চুয়াডাঙ্গা সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগ। এতে বিপাকে পড়েছেন ওই সড়কে চলাচলকারী যাত্রীরা। এছাড়া চলাচল বন্ধ থাকায় বিপাকে পড়েছেন ট্রাক ও কাভার্ড ভ্যানের চালকরাও। অনেকে বাধ্য হয়ে ৪০ কিলোমিটার অতিরিক্ত রাস্তা ঘুরে দামুড়হুদা উপজেলার কার্পাসডাঙ্গা-মুজিবনগর হয়ে মেহেরপুরে যাতায়াত করছেন। এতে সময়ের পাশাপাশি অতিরিক্ত ভাড়াও দিতে হচ্ছে যাত্রীদের। তাই দ্রুত সেতুটি মেরামত করে যান চলাচল স্বাভাবিক করার দাবি জানিয়েছেন তারা।

গতকাল সকালে সরেজমিনে দেখা গেছে, মাথাভাঙ্গা সেতু দিয়ে রিকশা, মোটরসাইকেল, সিএনজি অটোরিকশা চলাচল করছে। যাত্রী ও পণ্যবাহী বড় কোনো যানবাহন চলাচল করতে দেখা যায়নি। বাস চলাচল বন্ধ থাকায় অনেক যাত্রী অতিরিক্ত ভাড়া দিয়ে সিএনজি অটোরিকশায় মেহেরপুরে যাতায়াত করেন।

চুয়াডাঙ্গা সওজ সূত্রে জানা গেছে, ১৯৬২ সালে চুয়াডাঙ্গা-মেহেরপুর সড়কের মাথাভাঙ্গা নদীর ওপর সেতুটি নির্মাণ করা হয়। ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের সময় বোমা হামলায় সেতুটির শহরের অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়। দেশ স্বাধীনের পর সেটা আবারো মেরামত করা হয়। এরপর গত ২০১৫ সালের ২৫ অক্টোবর সেতুটির মাঝখানে ধস দেখা দেয়। সেটা মেরামতের পর চুয়াডাঙ্গা সওজ বিভাগ সেতুর ওপর ১০ টনের অধিক যানবাহন চলাচলের নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে। কিন্তু সেই নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে ১০ টনের অধিক যান চলাচলের কারণে আবারো সেতুতে ফাটল দেখা দিয়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

এ বিষয়ে চুয়াডাঙ্গা সওজ বিভাগের উপবিভাগীয় প্রকৌশলী আদম আলী বণিক বার্তাকে বলেন, এ সেতু দিয়ে ভারী যানবাহন চলাচল ঝুঁকিপূর্ণ। তাই যে কোনো ধরনের দুর্ঘটনা এড়াতে ভারী যান চলাচলে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে। আপাতত মেরামত করে হালকা যান চলাচল করতে দেয়া হচ্ছে।

তিনি জানান, সেতুটি নতুন করে নির্মাণের জন্য এরই মধ্যে দরপত্র আহ্বান করে ঠিকাদার নির্দিষ্ট করা হয়েছে। প্রায় ২২ কোটি টাকা ব্যয়ে সেতুটি নির্মাণকাজ শুরু করতে এখন সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় থেকে অনুমোদন পাওয়ার বাকি। অনুমোদন পাওয়া গেলে দ্রুতই চুয়াডাঙ্গা সওজ বিভাগ ঠিকাদারকে কাজ শুরুর অনুমতি দেবে।