দেশের খবর

বাগেরহাটে ১২ খাল পুনঃখনন : জলাবদ্ধতা নিরসনের পাশাপাশি কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধির আশা

বণিক বার্তা প্রতিনিধি বাগেরহাট | ০০:০০:০০ মিনিট, জুলাই ২০, ২০১৯

দেশের পানিসম্পদের দীর্ঘমেয়াদি ব্যবস্থাপনায় বদ্বীপ বা ডেল্টা প্লান ২১০০ বাস্তবায়নে কাজ করছে সরকার। এরই অংশ হিসেবে বাগেরহাটের বিভিন্ন উপজেলার ১২টি খাল পুনঃখননের কাজ শুরু হয়েছে। জলাবদ্ধতা নিরসনের পাশাপাশি পানির সহজলভ্যতা নিশ্চিতে ৬৪ জেলার অভ্যন্তরস্থ ছোট নদী, খাল ও জলাশয় পুনঃখনন প্রকল্পের (প্রথম পর্যায়) আওতায় এ কাজ করছে পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো)। সংশ্লিষ্টদের দাবি, খননকাজ শেষ হলে এলাকার জলাবদ্ধতা নিরসনসহ পরিবেশের ব্যাপক উন্নতি হবে। জোয়ারের পানির পলি জমে উর্বরতা বৃদ্ধি পাবে কৃষিজমির।

পুনঃখননের আওতায় বাগেরহাটের খালগুলো হলো সদরের পুঁটিমারী ও ভূটিয়ামারী, মোড়েলগঞ্জের হোগলাবুনিয়া ও বোলইবুনিয়া, শরণখোলার সোনাতলা ও রসুলপুর, রামপালের বেতবুনিয়া, মোংলার আরং, চিতলমারীর খড়িয়া, মোল্লাহাটের মরা নালুয়া, কচুয়ার ভৈরব (মরা বলেশ্বর) ও ফকিরহাটের জটার খাল। গত বছরের জানুয়ারিতে পাউবার নির্ধারিত ঠিকাদাররা পুনঃখননের কাজ শুরু করেছেন। মোট ৮২ কিলোমিটারের এ খননে ব্যয় হবে ৪৪ কোটি টাকা।

এদিকে খালগুলো পুনঃখননের কাজে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেছে স্থানীয়রা। সদরের পুঁটিমারী খালের পাশের বাসিন্দা নজিবর শেখ বলেন, এক

সময় খালটি অনেক বড় ছিল। কিন্তু পরবর্তীতে ভরাট হয়ে খালের পানিপ্রবাহে বাধা সৃষ্টি হয়। ধীরে ধীরে খালটি ছোট হতে থাকে। এখন পুনঃখনন হলে খালের আগের অবস্থা ফিরে আসবে, সচল হবে জোয়ার-ভাটা। এতে স্থানীয় কৃষকদের সেচ সুবিধাসহ জলাবদ্ধতারও নিরসন হবে। বাড়বে কৃষিপণ্যের উৎপাদন।

তবে খাল খননে গিয়ে বিভিন্ন সমস্যায় পড়তে হচ্ছে বলে জানিয়েছে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানগুলো। তাদের দাবি, এসএ ম্যাপ অনুযায়ী খালের অবস্থান ঠিক নেই। খালের জমিতে কাঁচা-পাকা ঘর, গাছ ও স্থানীয় প্রভাবশালীদের স্থাপনা রয়েছে। তাছাড়া পর্যাপ্ত খাস জমি না থাকায় খননে অসুবিধা হচ্ছে।

ফকিরহাটের জটার খাল পুনঃখননের দায়িত্বপ্রাপ্ত ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স আমিন অ্যান্ড কোংয়ের স্বত্বাধিকারী বেলাল আহমেদ খান বলেন, তারা খালটির ছয় কিলোমিটারের খননকাজ শুরু করেছেন। কিন্তু আড়াই কিলোমিটারের খনন শেষ করার পর আর কাজ এগোচ্ছে না। কারণ এসএ ম্যাপ অনুযায়ী খালের খাস জমি খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। খালের জমিতে অনেকেই স্থাপনা নির্মাণের পাশাপাশি গাছপালা লাগিয়েছেন। এখন খাস জমিতে খাল খননে উপজেলা প্রশাসনের সহায়তা চাওয়া হয়েছে। প্রশাসন থেকে এসএ ম্যাপ অনুযায়ী জমি নির্ধারণের আশ্বাস দেয়া হয়েছে।

মোল্লাহাটের মরা নালুয়া খাল পুনঃখননের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান আরাধনা এন্টারপ্রাইজের লিটু মোল্লা বলেন, মরা নালুয়ার ২২ কিলোমিটার পুনঃখনন করা হবে। এরই মধ্যে আমরা ছয় কিলোমিটারের খনন শেষ করেছি। এ খালের জমিতে তিনটি বাজার রয়েছে। যার মধ্যে একটি বাজার ভেঙে দেয়া হয়েছে। অন্যগুলোয় প্রশাসনের সহযোগিতায় পুনঃখননের চেষ্টা চলছে।

এ বিষয়ে বাগেরহাট পাউবোর নির্বাহী প্রকৌশলী নাহিদুজ্জামান খান বলেন, ১২টি খালের মধ্যে আটটির পুনঃখনন শুরু হয়েছে। সংশ্লিষ্ট ঠিকাদাররা বেশ আন্তরিক। কিন্তু এসএ ম্যাপ অনুযায়ী খালের অবস্থান ঠিক না থাকায় এবং খালের জমিতে ঘরবাড়ি ও বাজার থাকায় তাদেরকে কিছুটা বেগ পেতে হচ্ছে। আশা করি, প্রশাসনের সহায়তায় এসব সমস্যার সমাধান করে দ্রুত খালগুলোর পুনঃখনন শেষ হবে।