দেশের খবর

চর ডেভেলপমেন্ট অ্যান্ড সেটেলমেন্ট প্রকল্প : আবাসন ও কর্মসংস্থান হয়েছে ২ লাখ ৭০ হাজার ভূমিহীনের

নিজস্ব প্রতিবেদক | ০০:০০:০০ মিনিট, জুলাই ১২, ২০১৯

চট্টগ্রাম, ফেনী, নোয়াখালী ও লক্ষ্মীপুরের উপকূলীয় চরে ভূমিহীন মানুষের সার্বিক উন্নয়নের লক্ষ্যে ১৯৯৪ সালে যাত্রা করে চর ডেভেলপমেন্ট অ্যান্ড সেটেলমেন্ট প্রকল্প (সিডিএসপি)। সম্প্রতি এ প্রকল্পের চতুর্থ পর্যায়ের কাজ শেষ হয়েছে। প্রকল্পের অধীনে ৩৪ হাজার ১৬২টি অতিদরিদ্র পরিবারের মধ্যে বিতরণ করা হয়েছে ৪৪ হাজার ৪১০ একর জমি। এতে কর্মসংস্থানের পাশাপাশি আবাসন নিশ্চিত হয়েছে প্রায় ২ লাখ ৭০ হাজার ভূমিহীন মানুষের।

সংশ্লিষ্ট সূত্রমতে, দারুণ সম্ভাবনাময় এ প্রকল্পের প্রথম, দ্বিতীয় ও তৃতীয়র পর চতুর্থ পর্যায়ের কাজও নির্ধারিত সময়ে সফলভাবে শেষ হয়েছে। এ প্রকল্পে অর্থায়ন করেছে বাংলাদেশ সরকার, নেদারল্যান্ডস সরকার, বিশ্ব খাদ্য সংস্থা ও উন্নয়ন সহযোগী সংস্থা ইন্টারন্যাশনাল ফান্ড ফর এগ্রিকালচারাল ডেভেলপমেন্ট (আইএফএডি)।

সরকারের পাঁচটি মন্ত্রণালয় ও ছয়টি সংস্থার যৌথ উদ্যোগে প্রকল্পটির বাস্তবায়ন হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড, স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর, জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর, ভূমি মন্ত্রণালয় ও বন বিভাগ। প্রকল্পটি বাস্তবায়নে প্রধান বা লিড এজেন্সি হিসেবে কাজ করছে বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড। বেশ কয়েকটি মন্ত্রণালয় যৌথভাবে বাস্তবায়ন করায় ভবিষ্যতে এ ধরনের প্রকল্পে সহযোগিতা করতে আগ্রহ প্রকাশ করেছে উন্নয়ন সহযোগীরা।

প্রকল্পটির অবস্থান প্রায় ১ লাখ ৯৬ হাজার হেক্টর উপকূলীয় এলাকায় নতুন জেগে ওঠা চরে। এর মধ্যে সিডিএসপি-১-এর আওতায় চর বাগারদোনা-২, চর মজিদ ও চর ভাটিরটেক, সিডিএসপি-২-এর আওতায় দক্ষিণ হাতিয়া, গাংচিল, চর এলাহী, মুহুরী, চর গাবতলী, চর আলগি, পোল্ডার ৫৯/৩ বি ও পোল্ডার ৫৯/৩ সি, সিডিএসপি-৩-এর আওতায় চর মরাদোনা, চর বাগারদোনা ও বয়ার চর এবং সিডিএসপি-৪-এর আওতায় রয়েছে নানগুলিয়া, নলের চর, উড়ির চর ও জিয়াউদ্দিন চর। প্রকল্পের চতুর্থ পর্যায়ে ব্যয় হয়েছে প্রায় ৬৩৩ কোটি ৬৯ লাখ টাকা।

প্রকল্প সংশ্লিষ্টরা বলেন, প্রতি বছর গঙ্গা-ব্রহ্মপুত্র-মেঘনা নদীর অববাহিকায় এক বিলিয়ন টনের বেশি পলি জমা হয়ে উপকূলে চরাঞ্চলের সৃষ্টি হচ্ছে। জেগে ওঠা এসব নতুন ভূখণ্ডে দেশের দরিদ্র মানুষের বাসস্থান ও কর্মসংস্থানের লক্ষ্যে উদ্যোগ নেয়া হয়। প্রকল্পের মাধ্যমে বন্যা ও ঘূর্ণিঝড় থেকে রক্ষা পেয়েছে প্রায় ১ লাখ ৮৭ হাজার ৫৯৪ হেক্টর এলাকা। এছাড়া প্রকল্প এলাকায় পুনর্বাসিতদের হস্তশিল্প, কারুশিল্প, বনায়ন, মত্স্যচাষ, আইন ও মানবাধিকার, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও জলবায়ু পরিবর্তন, প্রাণিসম্পদ উন্নয়ন, স্যানিটেশন, স্বাস্থ্য, পরিবার পরিকল্পনাসহ বিভিন্ন বিষয়ে প্রশিক্ষণের মাধ্যমে স্বাবলম্বী করে গড়ে তোলা হচ্ছে।

বিশেষ করে প্রকল্প এলাকায় ব্যাপক বনায়নের জন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ২০১৭ সালে সিডিএসপি-৪ প্রকল্পকে দ্য বেস্ট প্লানটেশন অ্যাওয়ার্ড প্রদান করেন। একই বছর নারীর ক্ষমতায়নে বিশেষ অবদান রাখার জন্য প্রকল্পটিকে আইএফএডি জেনডার অ্যাওয়ার্ড প্রদান করা হয়।

এ বিষয়ে সিডিএসপির (বাপাউবো অংশ) প্রকল্প পরিচালক মো. শামসুদ্দোহা বলেন, প্রকল্পটি বাস্তবায়নের মাধ্যমে নদী ভাঙনের শিকার ভূমিহীনদের পুনর্বাসন করা হয়েছে। একই সঙ্গে তাদের উন্নত জীবনমান নিশ্চিতের পাশাপাশি অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী হিসেবে গড়ে তোলা হচ্ছে। এতে ভূমিহীন অতিদরিদ্রদের শহরমুখী হওয়ার প্রবণতা হ্রাস পেয়েছে। এ ধরনের প্রকল্পের ধারাবাহিকতা রক্ষা করা প্রয়োজন।

বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের মহাপরিচালক মো. মাহফুজুর রহমান বলেন, প্রকল্পটির সাফল্যের ধারাবাহিকতায় সিডিএসপি-৪ ও সিডিএসপি-৫-এর মধ্যে তিন বছর মেয়াদি সিডিএসপি-ব্রিজিং প্রকল্প প্রণয়নের কাজ প্রক্রিয়াধীন, যা ২০২১ সালের ডিসেম্বরে শেষ হবে। সমন্বিত উন্নয়ন ও নারীর ক্ষমতায়নে সিডিএসপি একটি রোল মডেল।