দেশের খবর

বিএডিসির বীজ গম সংগ্রহ : সরবরাহ শেষে দাম নিয়ে আপত্তি ঠাকুরগাঁওয়ের কৃষকদের

বণিক বার্তা প্রতিনিধি ঠাকুরগাঁও | ০০:০০:০০ মিনিট, জুলাই ১২, ২০১৯

গত সোমবার (১০ জুন) ঠাকুরগাঁওয়ে শেষ হয়েছে বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন করপোরেশনের (বিএডিসি) বীজ গম সংগ্রহ। এবার জেলায় ১ হাজার ৮০০ কৃষকের কাছ থেকে ৮ হাজার ১০০ টন গম সংগ্রহ করা হয়। নিয়ম অনুযায়ী, দুই মাসের মধ্যে কৃষকদের সংগৃহীত গমের মূল্য পরিশোধ করার কথা। তবে গম সরবরাহ শেষে দাম নিয়ে আপত্তি তুলেছেন কৃষকরা। তারা জানিয়েছেন, এবার গমের বাজারমূল্য গতবারের তুলনায় বেশি হলেও কেজিপ্রতি ভিত্তিবীজের দাম ৬ টাকা এবং মানঘোষিত বীজে ৩ টাকা কম দেয়া হচ্ছে। এতে তারা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। এ আপত্তির কথা জানিয়ে দাম পুনর্নির্ধারণের আবেদন করেছেন তারা।

জানা গেছে, দেশের মোট উৎপাদনের এক-পঞ্চমাংশ গম উৎপাদন হয় ঠাকুরগাঁওয়ে। এ জেলায় এবার ৫০ হাজার হেক্টর গম আবাদ হয়। এ জমিতে গম উৎপাদন হয়েছে দুই লাখ টন। এবার জেলায় তিনটি জোনে চুক্তিবদ্ধ ১ হাজার ৮০০ কৃষকের কাছ থেকে ৮ হাজার ১০০ টন বীজ গম সংগ্রহ করেছে বিএডিসি। গত ১৬ এপ্রিল আনুষ্ঠানিকভাবে বীজ গম সংগ্রহ শুরু হয়, যা শেষ হওয়ার কথা ছিল ৩০ এপ্রিল। তবে প্রক্রিয়াগত জটিলতার কারণে সংগ্রহ শেষ হয় গত সোমবার। এবার প্রতি কেজি প্রত্যায়িত ও মানঘোষিত বীজ গমের ক্রয়মূল্য নির্ধারণ করা হয় ৩২ টাকা এবং ভিত্তি বীজের ক্রয়মূল্য ধরা হয় ৩৬ টাকা। তবে নিয়ম মেনে বীজ সংগ্রহের পরই দাম নিয়ে আপত্তি তুলেছেন কৃষকরা।

কৃষকরা জানান, গত বছরের চেয়ে বাজারে এবার গমের দাম বেশি থাকার পরও সরকারি সংগ্রহে দাম কমিয়ে দেয়া হয়েছে। গত বছর বিএডিসি প্রতি কেজি প্রত্যায়িত ও মানঘোষিত বীজ ৩৫ টাকা এবং ভিত্তি ৪২ টাকায় সংগ্রহ করে। ওই সময়ে বাজারে কাঁচা গমের দাম ছিল প্রতি কেজি ১৯ টাকা। আর চলতি বছরে এ গম বিক্রি হচ্ছে ২৩ টাকায়। দাম না জেনেই বীজ গম সরবরাহ করে তারা বিপদে পড়েছেন।

ঠাকুরগাঁও বিএডিসির চুক্তিবদ্ধ চাষী ফোরামের সভাপতি কুতুব উদ্দীন বলেন, বিএডিসি বিগত বছরগুলোয় বীজ গমের দাম ঠিক দিলেও এবার অন্যায়ভাবে কমিয়ে দিয়েছে। এতে চাষীরা আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন। চুক্তিবদ্ধ চাষীরা যদি লোকসানে পড়েন, তাহলে তারা বীজ উৎপাদনে অনাগ্রহী হবেন। তাই চাষীদের কথা চিন্তা করে পুনরায় মূল্যনির্ধারণের জন্য সংশ্লিষ্ট দপ্তরে দরখাস্ত পাঠানো হয়েছে। মূল্যবৃদ্ধি না করলে চাষীরা রাস্তায় নামতে বাধ্য হবেন।

ফোরামের সাধারণ সম্পাদক এসএম এমদাদুল হক বলেন, বিএডিসির এ মনগড়া সিদ্ধান্তে আমরা হতাশ। আমরা ভেবেছিলাম বাজারে গত বছরের চেয়ে এবার গমের দাম বেশি, তাই বিএডিসিও গমের দাম বেশি দেবে। কিন্তু সরবরাহ শেষে জানতে পেরেছি দাম উল্টো কমিয়ে দেয়া হয়েছে।

তিনি বলেন, মানসম্মত বীজ প্রক্রিয়াজাত করে ১০ থেকে সাড়ে ১০ শতাংশ আর্দ্রতা থাকলে বিএডিসি কিনে নেয়। এর বেশি হলে দেয়া যায় না। আর্দ্রতা এ অবস্থায় আসার পর কেজিপ্রতি গমের বাজারমূল্য দাঁড়ায় ৩৩ টাকার বেশি। তাই ঘোষিত দামে কৃষকদের লোকসান হবে।

এ তথ্যের প্রতি সমর্থন জানিয়ে জেলা মার্কেটিং অফিসার সাখাওয়াত হোসেন বলেন, গত বছর ঠাকুরগাঁওয়ের বিভিন্ন বাজারে কাঁচা গম ১৯-২০ টাকা বিক্রি হলেও এবার ২৩-২৪ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। জেলায় গমের আবাদ কমে যাওয়ায় চাষীরা এবার ভালো দাম পেয়েছে।

বিএডিসির ঠাকুরগাঁও কন্ট্রাক গ্রোয়ার্স জোনের উপপরিচালক আওলাদ হাসান সিদ্দীকী বলেন, আমরা বীজ ক্রয়ের সময় চাষীদের উৎপাদন খরচ ও বাজার মূল্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠাই। সেখান থেকেই দাম নির্ধারণ করা হয়। কিন্তু চাষীরা এবার এ দাম মানছেন না। তাদের দরখাস্ত সংশ্লিষ্ট দপ্তরে পাঠানো হয়েছে। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা নেয়া হবে।