শেয়ারবাজার

তিন প্রান্তিকে সিলকো ফার্মার মুনাফা ৭ কোটি ৮৬ লাখ টাকা

আজ শেয়ার লেনদেন শুরু

নিজস্ব প্রতিবেদক | ০০:০০:০০ মিনিট, জুলাই ১২, ২০১৯

চলতি ২০১৮-১৯ হিসাব বছরের প্রথম তিন প্রান্তিকে (জুলাই-মার্চ) সিলকো ফার্মাসিউটিক্যালস লিমিটেডের কর-পরবর্তী মুনাফা হয়েছে ৭ কোটি ৮৬ লাখ ৫০ হাজার টাকা। এ সময়ে এককভাবে কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি আয় (ইপিএস) হয়েছে ১ টাকা ২২ পয়সা। আগের হিসাব বছরের একই সময়ে কর-পরবর্তী মুনাফা ও ইপিএস ছিল যথাক্রমে ৭ কোটি ৮৩ লাখ টাকা ও ১ টাকা ২২ পয়সা। এ হিসাবে চলতি হিসাব বছরের প্রথম নয় মাসে কোম্পানির মুনাফা বাড়লেও আইপিও পরবর্তী শেয়ার সংখ্যা সমন্বয়ের কারণে ইপিএসে কোনো পরিবর্তন আসেনি।

অনিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, চলতি হিসাব বছরের তৃতীয় প্রান্তিকে (জানুয়ারি-মার্চ) সিলকো ফার্মার কর-পরবর্তী মুনাফা হয়েছে ৩ কোটি ৪ লাখ ৯০ হাজার টাকা, আগের হিসাব বছরের একই সময়ে যা ছিল ৩ কোটি ১০ লাখ ৫০ হাজার টাকা। এ হিসাবে তৃতীয় প্রান্তিকে কোম্পানির মুনাফা ৫ লাখ ৬০ হাজার টাকা কমেছে।

আলোচ্য তিন মাসে একক ইপিএস হয়েছে ৪৭ পয়সা, আগের হিসাব বছরের একই সময়ে যা ছিল ৪৮ পয়সা। আইপিও শেয়ার সমন্বয়ের পর প্রথম প্রান্তিকের ইপিএস দাঁড়ায় ৩২ পয়সা এবং প্রথম তিন প্রান্তিকের ইপিএস দাঁড়ায় ৮৩ পয়সা।

আইপিও শেয়ার সমন্বয়ের আগে ৩১ মার্চ সিলকো ফার্মার শেয়ারপ্রতি নিট সম্পদমূল্য (এনএভিপিএস) দাঁড়িয়েছে ২৮ টাকা ২৭ পয়সা, আইপিও-পরবর্তী পেইড-আপ শেয়ার বিবেচনায় নিলে যা দাঁড়ায় ২২ টাকা ৪৬ পয়সা।

আইপিও শেয়ারের হিসাব বাদ দিয়ে গত ৯ মাসে কোম্পানির পেইড-আপ শেয়ারের সংখ্যা ৬ কোটি ৪৩ লাখ ৭০ হাজার, যা আগের হিসাব বছরের একই সময়ের সমান। আইপিও শেয়ার সমন্বয়ের পর পেইড-আপ শেয়ারের সংখ্যা দাঁড়াবে ৯ কোটি ৪৩ লাখ ৭০ হাজার।

প্রাথমিক গণপ্রস্তাবের (আইপিও) প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা সিলকো ফার্মার শেয়ার লেনদেন আজ দেশের উভয় স্টক এক্সচেঞ্জে শুরু হচ্ছে। বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি) ৬৬৯তম কমিশন সভায় সিলকো ফার্মার আইপিও অনুমোদন করা হয়। আইপিও আবেদনের চাঁদাগ্রহণ শুরু হয় গত ৭ মার্চ। শেষ হয় ১৯ মার্চ বিকাল সাড়ে ৫টায়। ১০ এপ্রিল আইপিও লটারির ড্র অনুষ্ঠিত হয়।

ওষুধ কোম্পানিটি ১০ টাকা অভিহিত মূল্যে ৩ কোটি সাধারণ শেয়ার ইস্যু করেছে। প্রতি লটে শেয়ারের সংখ্যা ৫০০। এর মাধ্যমে কোম্পানিটি বাজার থেকে ৩০ কোটি টাকা মূলধন সংগ্রহ করেছে।

বিএসইসি সূত্র অনুযায়ী, আইপিওর মাধ্যমে সংগৃহীত অর্থের ৪৮ দশমিক ২২ শতাংশ বা ১৪ কোটি ৪৬ লাখ ৫৫ হাজার টাকা ব্যয় হবে কোম্পানির নতুন কারখানা ভবন নির্মাণকাজে। এছাড়া যন্ত্রপাতি ক্রয়ে ৩২ দশমিক ৪৫ শতাংশ বা ৯ কোটি ৭৩ লাখ ৫৬ হাজার, ডেলিভারি ভ্যান ক্রয়ে ১২ দশমিক ১০ শতাংশ বা ৩ কোটি ৬৩ লাখ ১০ হাজার ও আইপিওর খরচ বাবদ ৭ দশমিক ২৩ শতাংশ বা ২ কোটি ১৬ লাখ ৭৮ হাজার টাকা ব্যয় করা হবে।

সিলকো ফার্মার অনুমোদিত মূলধন ১০৫ কোটি টাকা। প্রাক-আইপিও পরিশোধিত মূলধন ৬৪ কোটি ৩৭ লাখ টাকা। আইপিওর মাধ্যমে ৩০ কোটি টাকা সংগ্রহ করা হলে কোম্পানির পরিশোধিত মূলধন দাঁড়াবে ৯৪ কোটি ৩৭ লাখ টাকা।

২০১৮ সালের ৩০ জুন সমাপ্ত হিসাব বছরে নিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, কোম্পানিটির এনএভিপিএস ২৭ টাকা ৫ পয়সা। পাঁচ বছরের শেয়ারপ্রতি মুনাফার ভারিত গড় ১ টাকা ৪৬ পয়সা।

সিলকো ফার্মার ইস্যু ব্যবস্থাপনার দায়িত্বে রয়েছে ইবিএল ইনভেস্টমেন্টস লিমিটেড, সিটিজেন সিকিউরিটিজ অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট লিমিটেড ও সিটি ব্যাংক ক্যাপিটাল রিসোর্সেস লিমিটেড।

কোম্পানির ওয়েবসাইট অনুসারে, নব্বইয়ের দশকে যাত্রা করা সিলকো ফার্মার কারখানা সিলেটের খাদিমনগরে অবস্থিত বিসিআইসি ইন্ডাস্ট্রিয়াল এস্টেটে। ১০টি ওষুধ নিয়ে ব্যবসা শুরু করা কোম্পানিটির পণ্যসম্ভারে শতাধিক ওষুধ যোগ হয়েছে। প্রতি বছর এ সংখ্যা বাড়ছে।