সম্পাদকীয়

ঝুঁকিপূর্ণ পেশায় নিয়োজিত শিশুরা : আইনের কার্যকর প্রয়োগ নিশ্চিত করুন

০০:০০:০০ মিনিট, জুলাই ১২, ২০১৯

শিশুশ্রম বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপ আজকাল আর চোখে পড়ে না। রাস্তাঘাটে, অলিগলিতে দেখা যায় শিশুদের বিভিন্ন কাজ করতে, ইটের ভাটায় ইট নামানো, এমনকি বাস-লেগুনায় জীবনের ঝুঁকি নিয়ে অল্প বয়সেই শিশুরা হেল্পারি করছে। গাড়িতে-লঞ্চে পণ্য ওঠানো-নামানোর কাজও করছে তারা। পড়াশোনা বাদ দিয়ে অনেক শিশু দোকানে কাজ করছে। যে বয়সে শিশুদের পড়াশোনায় ব্যস্ত থাকার কথা, স্কুলে যাওয়ার কথা, সে বয়সে শিশুরা পরের বাড়িতে কাজ করছে। আজকাল ভারী কাজেও শিশুদের লাগিয়ে দেয়া হচ্ছে। শিল্পেও ঝুঁকিপূর্ণ শিশুশ্রম বিদ্যমান। ব্যাটারি, প্লাস্টিক থেকে শুরু করে অনেক শিল্পে শিশুশ্রম রয়েছে। সমাজের কর্ণধাররা শিশুদের সঠিক পথে ফিরিয়ে আনতে কোনো পদক্ষেপ গ্রহণ করছেন না। সঠিক তদারকির অভাবে শিশুরা মানসিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। দেশে শিশু অধিকার প্রতিষ্ঠা করতে হবে। কোনো শিশুকে যেন অর্থের অভাবে ঝুঁকিপূর্ণ কাজে নিয়োজিত করা না হয়, সেজন্য সরকারকে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে। সঠিক বয়সে শিশুকে স্কুলে পাঠাতে হবে। বর্তমানে সরকারি বিভিন্ন সহযোগিতায় দরিদ্র শ্রেণীর শিশুদের শিক্ষার নানা ব্যবস্থা করা হয়েছে। উপবৃত্তির সুযোগ দেয়া হচ্ছে। শিশু নির্যাতন ও অপহরণ বন্ধ এবং শিশুশ্রম রোধে কর্তৃপক্ষের সুদৃষ্টি প্রত্যাশা করছি।

সত্যিকারভাবে শিশুশ্রম নিরসনের উদ্যোগ সফল হচ্ছে এটা বলা যাবে না। সরকার আন্তরিক হলে প্রথমত এভাবে সময় নষ্ট করত না। দ্বিতীয়ত, একটি কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়নের জন্য প্রয়োজনীয় বরাদ্দ নিশ্চিত করত। সরকার পরিকল্পনা করে বসে আছে। এখন কে কত ঋণ দেবে তার ওপর বাস্তবায়ন নির্ভর করলে শিশুশ্রম নিরসন আকাশকুসুম কল্পনাই থেকে যাবে। বিষয়টির গুরুত্ব ও প্রয়োজন বিবেচনা করে সরকারকে অর্থসংস্থান করতে হবে। শিশুশ্রম নিরসনে কারখানায় চাকরি প্রদান বন্ধ করলেই হবে না, শিশুদের বিকাশে যথাযথ পরিবেশেরও নিশ্চয়তা দিতে হবে। শুধু বেঁচে থাকার তাগিদে এসব শিশু অমানুষিক পরিশ্রম করছে। সরকারি-বেসরকারি উদ্যোগে দরিদ্র ও সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের জন্য শিক্ষা এবং উন্নয়নমুখী বিভিন্ন কর্মসূচি বাস্তবায়ন হলেও প্রয়োজনের তুলনায় তা নিতান্তই অপ্রতুল। তাই শিশুশ্রমের হার উদ্বেগজনক অবস্থায় রয়ে গেছে। শিশুশ্রম বন্ধে কঠোর আইন থাকলেও তার প্রয়োগ ও বাস্তবায়ন নেই। ঝুঁকিপূর্ণ কাজে শিশুশ্রম বন্ধ না হওয়ার মূল কারণ আসলে দারিদ্র্য। কেননা অনেক শিশুশ্রমিকের আয়ে চলে তাদের পরিবার। সস্তা শ্রমের কারণেও মালিকপক্ষ সুযোগ নিচ্ছে। এ অবস্থায় ঝুঁকিপূর্ণ ও অঝুঁকিপূর্ণ উভয় শ্রমে শিশুদের নিরস্ত করা কঠিন বৈকি। এজন্য সেসব শিশুর অভিভাবকের কর্মসংস্থানসহ সার্বিক জীবনমানের উন্নয়ন প্রয়োজন। আনুষ্ঠানিক খাতে শিশুশ্রম কমলেও অনানুষ্ঠানিক খাতে এটি বাড়ছে, যেখানে সরকারের নিয়ন্ত্রণ অপেক্ষাকৃত দুর্বল। এক্ষেত্রে সরকারকে বিদ্যমান পরিকল্পনার পরিমার্জন করতে হবে। দিন দিন ঝুঁকিপূর্ণ শ্রমে শিশুদের ব্যবহার বেড়েই চলেছে। রাষ্ট্রে যদি শিশুদের ন্যায্য অধিকার রক্ষা করতে না পারা যায়, তাহলে তার প্রভাব ভবিষ্যৎ প্রজন্মের ওপর পড়বে। ঝুঁকিপূর্ণ শিশুশ্রম রোধে সামাজিক আন্দোলন গড়ে তোলা প্রয়োজন।