খবর

ব্যাংক কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ধর্ষণমামলা পুনঃতদন্তের নির্দেশ

আদালত প্রতিবেদক | ০০:০০:০০ মিনিট, জুলাই ১২, ২০১৯

রাজধানীর মতিঝিলের একটি শাখায় কর্মরত সোনালী ব্যাংকের এক কর্মকর্তার বিরুদ্ধে তার সহকর্মীর আনা ধর্ষণের অভিযোগে গত ১৬ মে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিয়েছেন নারী সহায়তা ও তদন্ত বিভাগের ইন্সপেক্টর মোসা. রোজিনা বেগম। অভিযুক্ত ওই কর্মকর্তাকে অব্যাহতি দিয়ে দেয়া ওই প্রতিবেদনের বিরুদ্ধে নারাজী দিয়ে অভিযোগের পুনঃতদন্তের আবেদন জানিয়েছেন বাদিনী।

বুধবার ঢাকার ৫ নম্বর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক বেগম শামসুন নাহার আবেদন আমলে নিয়ে পুলিশ ব্যুরো অফ ইনভেস্টিগেশনকে (পিবিআই) অভিযোগের পুনঃতদন্তের নিদের্শ দিয়েছেন।

এ বিষয়ে ভিকটিম জানান, তদন্ত কর্মকর্তা ইচ্ছা করে আসামিকে গ্রেফতার করেননি। তিনি অবৈধ সুবিধা নিয়ে তড়িঘড়ি করে মাত্র এক মাসের মধ্যে আদালতে মিথ্যা প্রতিবেদন দাখিল করেছেন। তিনি তদন্তকালে ঘটনাস্থল ও আমার কর্মস্থলেও যাননি। সঠিকভাবে তদন্ত হলে আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হত বলেও দাবি করেন বাদিনী।

মতিঝিলস্থ ওয়েজ অনার্স কর্পোরেট শাখার সোনালী ব্যাংকের সিনিয়র প্রিন্সিপাল অফিসার এ এস এম কামরুল হাসানের বিরুদ্ধে ৪ এপ্রিল ভিকটিম রাজধানীর হাজারীবাগ থানায় ধর্ষণের মামলা করেন তারই এক সহকর্মী। মামলায় বলা হয়, চাকরির সুবাদে একই শাখার সিনিয়র প্রিন্সিপাল অফিসার এ এস এম কামরুল হাসানের সঙ্গে তার পরিচয় হয়। পরে ওই পরিচয়ের সুবাদে আসামি বাদিনীর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্য ফেসবুকে বন্ধু তালিকায় যুক্ত হন। তাদের মধ্যে চ্যাটিং ও বন্ধুত্বসুলভ কথাবার্তা চলতে থাকে।

একপর্যায়ে আসামি তার স্ত্রীর সঙ্গে বিবাহ বিচ্ছেদ হয়েছে মর্মে জানিয়ে বাদিনীকে প্রেমের প্রস্তাবসহ কু-প্রস্তাব দেয়। বাদিনী রাজী না হলেও আসামি বাদিনীকে বিভিন্নভাবে ফুসলাতে থাকেন এবং বিয়ে করার আশ্বাস দেন। আসামি বিয়ে করবেন বলে আশ্বাস দেয়ায় বাদিনী আসামির সঙ্গে বিভিন্ন জায়গায় ঘুরতেও যান। ২০১৭ সালের ৭ সেপ্টেম্বর আসামি বাসায় পারিবারিক অনুষ্ঠানে কথা বলে দাওয়াত দিয়ে বিবাদীকে বাসায় নিয়ে যান। বিবাদী বাসায় গিয়ে অন্য কাউকে দেখতে না পেয়ে সেখান থেকে চলে আসতে উদ্যত হন। এসময় আসামি বিবাদীকে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে ফুসলিয়ে দৈহিক সম্পর্ক স্থাপন করেন। পরবর্তীতে বিভিন্ন সময়েও আসামি বাদিনীর সাথে একইভাবে শাররীক সম্পর্ক স্থাপন করলেও বিয়ে করেনি।

বিয়ের চাপ দিলে এবং এ বিষয়ে অফিসে লিখিত অভিযোগ করলে বাদিনীর বিভিন্ন অন্তরঙ্গ ছবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছেড়ে দেয়ার হুমকি দিয়েছেন বলে মামলায় উল্লেখ করেন ভুক্তভোগী ওই নারী।