নোয়াখালীতে হাসপাতালের ছাদ খসে শিশুসহ আহত ১১

বণিক বার্তা প্রতিনিধি, নোয়াখালী | ০০:০০:০০ মিনিট, জুলাই ২০, ২০১৯

নোয়াখালী ২৫০ শয্যার জেনারেল হাসপাতালের পুরাতন ভবনের শিশু ওয়ার্ডের ছাদের পলেস্তারা খসে পড়ে অসুস্থ ৮ শিশু ও তাদের স্বজনসহ ১১ জন আহত হয়েছেন। বুধবার সকাল ৭টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় পুরো হাসপাতালের রোগী ও হাসপাতালের কর্মকর্তা-কর্মচারিদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। 

পুরনো এই ভবনটি  ২০১৫ সালে পরিত্যক্ত ঘোষণা করেছিল গণপূর্ত বিভাগ। কিন্তু রোগীর চাপ সামলাতে ওই ভবনেই চিকিৎসা-সেবা অব্যাহত রাখে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। বছরখানেক আগেও একই ভবনের পাশ্ববর্তী আরেকটি ওয়ার্ডে পলেস্তারা খসে পড়ে কর্তব্যরত সেবিকাসহ কয়েকজন আহত হয়েছিলেন। এছাড়া বিভিন্ন সময় আরো কয়েকবার ছোটখাট পলেস্তারা খসে পড়ে দুর্ঘটনার আরও একাধিক ঘটনা ইতোপূর্বে ওই ভবনে ঘটেছে।

খবর পেয়ে সকাল পৌনে ১০টায় হাসপাতাল পরিদর্শনে যান জেলা প্রশাসক তন্ময় দাস। এসময় তিনি দুপুর ১২টার মধ্যে পুরাতন ভবনের দ্বিতীয় তলার চারটি ওয়ার্ড খালি করে দেওয়ার জন্য হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দেন। ১২টার পর প্রশাসনের পক্ষ ওই ওয়ার্ডগুলোতে সিলগালা করে দেওয়া হবে বলে জানান জেলা প্রশাসক। পরবর্তীতে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ শিশু রোগীদের বিভিন্ন হাসপাতালে রেফার করা হয় এবং কয়েকজনকে একই হাসপাতালের সার্জারি বিভাগে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে।

আহত রোগী ও তাদের স্বজনেরা হলেন সুমাইয়া (১২), ইসমাইল (৫), ইমাম উদ্দিন (৫ মাস), রাসেল (১৬ মাস), বাদশা (৩৫), রাফি (আড়াই বছর), পারুল বেগম (৪৭), রোজিনা আক্তার (২০)। অপরদের নাম ঠিকানা পাওয়া যায়নি। 

শিশু ওয়ার্ডে কর্তব্যরত সিনিয়র স্টাফ নার্স নিলুপা আক্তার বলেন, সকাল ৭টার দিকে তিনিই ওই ওয়ার্ডে একমাত্র দায়িত্বে ছিলেন। হঠাৎ বিকট শব্দে তার সামনেই ছাদ থেকে বিশাল খন্দের পলেস্তারা খসে খণ্ড বিখণ্ড হয়ে নিচে রোগীদের ওপর পড়ে। মুহূর্তের মধ্যে ওয়ার্ডে থাকা অর্ধশতাধিক রোগী ও তাদের স্বজনেরা দিকবিদিক ছুটোছুটি শুরু করে। 

হাসপাতালের তত্ত্বাবধায় মো. খলিল উল্যাহ বলেন, ২০১৫ সালে ওই ভবনটি পরিত্যক্ত ঘোষণা করেছিল গণপূর্ত বিভাগ। কিন্তু হাসপাতালে রোগীর চাপ এত বেশি তাই বাধ্য হয়ে তাঁরা চিকিৎসা-সেবা চালিয়ে যাচ্ছিলেন। আজকের ঘটনায় আহতদের প্রয়োজনীয় চিকিৎসা-সেবা দেওয়া হচ্ছে। তা ছাড়া দুর্ঘটনার বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে তাৎক্ষণিকভাবে অবহিত করা হয়েছে বলেও জানান তত্ত্বাবধায়ক।