খবর

ঈদযাত্রায় দুর্ঘটনায় ১২ দিনে নিহত ২৪৭

বণিক বার্তা অনলাইন | ১৬:০০:০০ মিনিট, জুন ১২, ২০১৯

পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে এবারের ঈদযাত্রায় ১২ দিনে সারাদেশের সড়ক, রেল ও নৌপথে সম্মিলিতভাবে ২১২টি দুর্ঘটনা ঘটেছে। এমব দুর্ঘটনায় ২৪৭ জন নিহত হয়েছে। আর আহত হয়েছে ৬৬৪ জন। বুধবার জাতীয় প্রেস ক্লাবের জহুর হোসেন চৌধুরী হলে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে ঈদযাত্রায় দুর্ঘটনার এই তথ্য জানায় যাত্রী অধিকার সংরক্ষণ পরিষদ।

গত ৩০ মে থেকে ১০ জুন পর্যন্ত সারাদেশের দুর্ঘটনার চিত্র তুলে ধরে যাত্রী অধিকার সংরক্ষণ পরিষদ। সংগঠনটি তথ্যমতে, এই সময়ে সারাদেশে শুধু সড়ক-মহাসড়কে ১৮৫টি সড়ক দুর্ঘটনা ঘটেছে। যাতে নিহত হয়েছে ২২১ জন। আর আহত হয়েছে ৬৫২ জন এবং পঙ্গুত্ব বরণ করেছে ৩৭৫।

সংবাদ সম্মেলনে যাত্রী অধিকার সংরক্ষণ পরিষদের সভাপতি ব্রিগেডিয়ার জেনারেল জিএম কামরুল ইসলাম বলেন, এবারের ঈদে সরকারের সদিচ্ছা ও রেশনিং পদ্ধতিতে ছুটি থাকায় ঈদযাত্রা খানিকটা স্বস্তিদায়ক হয়েছে। অন্য বছরের তুলনায় সড়ক দুর্ঘটনা, প্রাণহানি ও ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণও কিছুটা কমেছে। এরপরও ঈদযাত্রা শুরুর দিন ৩০ মে থেকে ঈদ শেষে বাড়ি থেকে কর্মস্থলে ফেরার সময় ১০ জুন পর্যন্ত গত ১২ দিনে ১৮৫টি দুর্ঘটনায় ২২১ জন নিহত, ৬৫২ জন আহত ও ৩৭৫ জন পঙ্গু হয়েছেন।

তিনি জানান, একই সময়ে নৌপথে ৫টি দুর্ঘটনায় ৪ জন নিহত ও ১২ জন আহত হয়েছেন। উল্লিখিত সময়ে রেলপথে ট্রেনে কাটা পড়ে পূর্বাঞ্চলে ১৩ জন ও পশ্চিমাঞ্চলে ৯ জনসহ মোট ২২ জন নিহত হয়েছেন।

দুর্ঘটনায় শিকার যানবাহনের চিত্র তুলে ধরে পরিষদের সভাপতি জানান, মোট যানবাহনের ৬৩টি বাস, ৩৮টি ট্রাক-কাভার্ড ভ্যান ও পিকআপ, ১৯টি কার-মাইক্রোবাস, ৩০টি নছিমন-করিমন, ভটভটি-ইজিবাইক, অটোরিকশা, ৬৪টি মোটরসাইকেল, ২৬টি অন্যান্য যানবাহন এসব দুর্ঘটনায় জড়িত ছিল।

দুর্ঘটনার ধরন বিশ্লেষণ করে সংগঠনটির পক্ষ থেকে তিনি জানান, দুর্ঘটনার মধ্যে ৫১টি গাড়িচাপায়, ৮১টি সংঘর্ষ, ১৯টি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে খাদে পড়ে, অন্যান্য কারণে ৩৪টি দুর্ঘটনা সংঘটিত হয়েছে।

সংগঠনটি এসব দুর্ঘটনার অনেকগুলো কারণ উল্লেখ করেছেন। এগুলো হলো-ঈদ কেন্দ্রিক অতিরিক্ত যাত্রীর চাপ, চালকদের প্রতিযোগিতামূলক মনোভাব ও অতিরিক্ত গতিতে গাড়ি চালানো, অদক্ষ চালকের হাতে দৈনিক চুক্তিতে যানবাহন ভাড়া দেওয়া, ফিটনেসবিহীন যানবাহনে যাত্রী বহন, মহাসড়কে অটোরিকশা, ব্যাটারিচালিত রিকশা, নছিমন-করিমন, মোটরসাইকেল অবাধে চলাচল এবং বিরতিহীন/বিশ্রামহীনভাবে যানবাহন চালানো উল্লেখযোগ্য।

সংবাদ সম্মেলনে যাত্রী অধিকার সংরক্ষণ পরিষদের পক্ষ থেকে দুর্ঘটনা কমাতে সুপারিশমালা তুলে ধরা হয়।

সুপারিশের মধ্যে যানবাহনের গতি নিয়ন্ত্রণে যথাযথ উদ্যোগ গ্রহণ, যানবাহনের ফিটনেস পদ্ধতি ডিজিটাল করা, মহাসড়কে নছিমন-করিমন, ব্যাটারিচালিত রিকশা-অটোরিকশা বন্ধে সরকারের গৃহীত সিদ্ধান্ত শতভাগ বাস্তবায়ন করা এবং রেশনিং পদ্ধতিতে ছুটির ব্যবস্থা করা অন্যতম।

এর আগে গত সোমবার নৌ, সড়ক ও রেলপথ রক্ষা জাতীয় কমিটির এক পর্যবেক্ষণ প্রতিবেদনে জানানো হয়, ৩০ মে থেকে ৯ জুন পর্যন্ত ১১ দিনে রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন সড়ক, মহাসড়ক ও আঞ্চলিক সড়কে সংঘটিত ৯৫টি দুর্ঘটনায় কমপক্ষে ১৪২ জন নিহত ও ৩২৪ জন আহত হয়েছেন।

যাত্রী অধিকার সংরক্ষণ পরিষদের সংবাদ সম্মেলনে মুক্তিযোদ্ধা ফাউন্ডেশনের সভাপতি ইসমাইল গাজী দেলোয়ার, জাতীয় প্রেসক্লাবের সাবেক সাধারণ সম্পাদক কামারুল ইসলাম, সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক সামসুদ্দীন চৌধুরীসহ অন্যারা উপস্থিত ছিলেন।