শিল্প বাণিজ্য

নেত্রকোনা বিসিক : ১৫ বছরে উৎপাদনে ১৬ প্রতিষ্ঠান

বণিক বার্তা প্রতিনিধি নেত্রকোনা | ০০:০০:০০ মিনিট, জুলাই ১২, ২০১৯

প্রতিষ্ঠার ১৫ বছর পেরিয়ে গেলেও নেত্রকোনার বিসিক শিল্পনগরীতে ১০৩টি প্লটে উৎপাদনে রয়েছে মাত্র ১৬টি প্রতিষ্ঠান। সেখানকার ৮০ শতাংশ প্লট এখনো অনুৎপাদনশীল অবস্থায় আছে। গ্যাস সংযোগের অভাবে এখনো পূর্ণতা পায়নি বলে দাবি বিসিক শিল্পনগরী কর্তৃপক্ষের। এর সঙ্গে আছে শিল্পনগরীটির নিয়ন্ত্রণকারী কর্তৃপক্ষের জনবলের সংকট। সবকিছু মিলিয়ে প্রতিষ্ঠার পর এক যুগের বেশি সময় পেরিয়ে গেলেও পূর্ণাঙ্গ ও কর্মচঞ্চল শিল্পনগরী হিসেবে গড়ে উঠতে ব্যর্থ হয়েছে নেত্রকোনার বিসিক শিল্পনগরী।

শিল্প-কলকারখানার জন্য চীনা মাটি, সিলিকন বালি, পাথর, কয়লাসমৃদ্ধ দুর্গাপুর ও কলমাকান্দা উপজেলার বিপুল সম্ভাবনাময় সীমান্তবর্তী জেলা নেত্রকোনায় ১৯৯৩ সালে বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প করপোরেশনের অধীনে স্থাপিত হয় বিসিক শিল্প সহায়ক কেন্দ্র। এর ১৫ বছরের মাথায় ২০০৪ সালের ডিসেম্বরে জেলা শহরের দক্ষিণ প্রান্তে ১৫ একর জমির ওপর গড়ে তোলা হয় নেত্রকোনায় বিসিক শিল্পনগরী।

নেত্রকোনা জেলা শহরের নেত্রকোনা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের পাশে চল্লিশা ইউনিয়নের রাজেন্দ্রপুর এলাকায় বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প করপোরেশন (বিসিক) কর্তৃপক্ষ ২০০৪ সালের ৭ মার্চ ১৫ একর জমি অধিগ্রহণের মাধ্যমে প্লট তৈরি করে। ২০০৮ থেকে ২০১২ সাল পর্যন্ত সময়কালে প্লটের বরাদ্দ চলে। এতে তিনটি ক্যাটাগরিতে শিল্প ইউনিট গড়ে তোলার উপযোগী ১০৩টি প্লটের ৬৮টি শিল্প ইউনিটের মধ্যে বর্তমানে কোনো রকমে ১৬টি শিল্পপ্রতিষ্ঠান উৎপাদনে রয়েছে। উৎপাদনের অপেক্ষায় রয়েছে ১২টি প্রতিষ্ঠান, নির্মাণাধীন রয়েছে ১৬টি প্রতিষ্ঠান, নির্মাণের অপেক্ষায় রয়েছে ছয়টি, লে-আউট অনুমোদনের প্রক্রিয়াধীন তিনটি এবং লে-আউট প্ল্যান জমা দেয়নি একটি শিল্পপ্রতিষ্ঠান, রুগ্ণ প্রতিষ্ঠান একটি এবং বাতিলকৃত ইউনিট সংখ্যা ১৩টি। 

নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ, পর্যাপ্ত পানি, ড্রেনেজ সুবিধাসহ পরিপূর্ণ যোগাযোগ ব্যবস্থা থাকলেও গ্যাস সংযোগ না থাকার কারণে এ শিল্পনগরীতে এখনো উল্লেখযোগ্য কোনো শিল্প-কারখানা গড়ে ওঠেনি।

শিল্পনগরীতে চালু রয়েছে মেসার্স শিমু অ্যান্ড সাজ্জাদ ফ্যাশনওয়্যার, নবাবী ফুটওয়্যার লিমিটেড, মেসার্স এ কে মেটাল ইন্ডাস্ট্রিজ, মেসার্স সেফটি হেলথ ফার্মাসিউটিক্যালস, মাহি তাজ আয়রন ইন্ডাস্ট্রিজ, এনজি ফুড প্রডাক্টস,

সুপ্রিয়া অয়েল মিল, ইকরা প্লাস্টিক অ্যান্ড রিসাইক্লিন, মা ফাতেমা ইঞ্জিনিয়ারিং, মেসার্স আর কে ফুড প্রডাক্টস, মেসার্স আবির এন্টারপ্রাইজ, মেসার্স সারিন্দা ফুড প্রডাক্টস, হোয়াইট স্টার ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড, মেসার্স খান পিউর ড্রিংকিং ওয়াটার, মেসার্স নেত্র ফুড প্রডাক্টস ও মেসার্স প্রিয়া ফুড প্রডাক্টস নামে ১৬টি শিল্পপ্রতিষ্ঠান।

বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প করপোরেশন নেত্রকোনা শিল্প সহায়ক কেন্দ্রের (বিসিক) উপব্যবস্থাপক মো. আকরাম হোসেন বলেন, চার হাজার, সাড়ে চার হাজার ও ছয় হাজার বর্গফুটের ১০৩টি প্লটের ৬৮টি ইউনিট বরাদ্দ হলেও বর্তমানে ১৬টি শিল্পপ্রতিষ্ঠান উৎপাদনে রয়েছে। নিয়ম না মানায় এরই মধ্যে ১৩টি বরাদ্দকৃত প্লট বাতিল করা হয়েছে। গ্যাস সংযোগের জন্য সর্বোচ্চ পর্যায়ে চেষ্টা চলছে, সংযোগ পেলেই সব কয়টি বরাদ্দকৃত শিল্প ইউনিট উৎপাদনে যাবে বলে আশা করছি। প্রতিষ্ঠানে কর্মকর্তা-কর্মচারী সংকট আগে থাকলেও বর্তমানে তা সমাধান হয়েছে বলে জানান তিনি।

এ ব্যাপারে নেত্রকোনা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সভাপতি আব্দুল ওয়াহেদ জানান, বরাদ্দকৃত শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলো উৎপাদনে না যাওয়ার পেছনে প্রধান কারণ গ্যাস সংযোগ, এছাড়া রয়েছে ব্যাংক থেকে ঋণ সংকট; সার্কুলার অনুযায়ী কেন্দ্রীয়ভাবে ঋণের বিপরীতে যে সুদ, তার চেয়ে বেশি দাবি করে জেলার বিভিন্ন ব্যাংক শাখাগুলো।

নেত্রকোনা বিসিক শিল্পনগরী শিল্প মালিক সমিতির সভাপতি কে এম জহির ফারুক জানান, বিসিক শিল্পনগরীতে যে ৬৮টি ইউনিট ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের নামে বরাদ্দ হয়েছে, তা সঠিকভাবে হয়নি। সঠিকভাবে বরাদ্দ হলে শিল্পপ্রতিষ্ঠান তৈরি ও উৎপাদনে যেতে এত বছর লাগত না। প্রকৃত শিল্পপ্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার জন্য যারা সচেষ্ট, তারা অনেকে প্লট বরাদ্দ পাননি। অনেকে প্লট বরাদ্দ পেলেও নিয়ম না মানার কারণে তা বাতিল করা হয়। গ্যাসের জন্য শিল্পপ্রতিষ্ঠান যেমন উৎপাদনে যেতে পারেনি আবার গ্যাস সংযোগ ছাড়াও অনেক শিল্পপ্রতিষ্ঠান উৎপাদনে যেতে পারত। সেক্ষেত্রে দূর হতো নেত্রকোনার বেকার সমস্যা।